Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

পুরোটাই বদলে গেছেন ‘কিং গোপালি’ তানভীর

‘শুরুতে হাস্যরসাত্মক ভিডিও বানিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করি’
তানভীর হায়দার তুষার, ছবি : আরটিভি নিউজ

তানভীর হায়দার তুষার। যাকে এক সময় সবাই চিনত কিং গোপলি নামে। ইউটিউবে কনটেন্ট ক্রিয়েটের কারণে সবাই তাকে এ নামেই চিনতে শুরু করে। যিনি এক সময় মানুষকে হাসানোর জন্য দর্শক আকৃষ্ট বিজ্ঞাপনের ভিডিও ক্লিপ দিয়ে তৈরি করতেন মিম। এভাবেই তিনি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতেন নিজের ভালোলাগার বিষয়গুলো। কিন্তু হঠাৎ করেই তার এসব কাজে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। বন্ধ করে দেন মিম ভিডিও বানানোর কাজ। মাঝখানে বিরতির পর আবারও ফিরে আসেন নতুন রূপে। নতুন রূপে, নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করাসহ অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় আরটিভি নিউজের। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন তার জীবনের পরিবর্তনের কথা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভি নিউজের সহ-সম্পাদক জাহিদ হাসান

আরটিভি নিউজ: প্রথমে আপনার কাছে কনটেন্ট ক্রিয়েটের শুরুটা জানতে চাচ্ছি, কীভাবে আপনি এই কনটেন্ট ক্রিয়েটের সঙ্গে যুক্ত হলেন?

তানভীর হায়দার: ২০১৬ সাল থেকে আমি ইউটিউবে কনটেন্ট বানানো শুরু করি। তখন এত বেশি ভিডিও বানানো হতো না। ২০১৮ সালে যখন আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষে তখন মানুষকে অধিক বিনোদন দেওয়ার জন্য নিজের আগ্রহের জায়গা থেকে ইউটিউবে কনটেন্ট বানানো শুরু করি। আমাদের দেশে অনেকেই গদবাঁধা মজার ভিডিও তৈরি করে থাকেন। কিন্তু সেখান থেকে আমি ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি।

আরটিভি নিউজ: শুরুতে আপনি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মিম ভিডিও তৈরি করতেন, সে ধারণাটা কীভাবে এলো?

তানভীর হায়দার: বিজ্ঞাপনের ভিডিওতে এক ধরনের রসবোধ থাকে, যা মানুষকে আকৃষ্ট করে। এমন কিছু বিজ্ঞাপন ছিল যার কথাগুলো ছিল আকর্ষণীয়। কিন্তু দেখা যেত আকর্ষণের বিষয়টি ওই বিজ্ঞাপনে উঠে আসত না। এই জায়গাটি থেকেই আমার এমন ধারণা আসে। এরপরই আমি পেশাগতভাবে বিনোদনের জন্য একের পর এক ভিডিও তৈরি করতে থাকি।

আরটিভি নিউজ: এখন তো আপনি ইসলামিক কনটেন্ট তৈরি করছেন, কেন আপনি এই পথে এলেন?

তানভীর হায়দার: আমরা যারা কনটেন্ট তৈরি করি তারা সব সময় চেষ্টা করি দর্শক তৈরি করার। প্রত্যেক ভিডিও থেকে যেন পরবর্তী ভিডিও ভালো হয়, তার জন্যও চেষ্টা করি। ভালোর কোনো শেষ নেই। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চের শুরুর দিকে যখন করোনা মহামারী শুরু হলো, তখন করোনা নিয়ে একটা মজার ভিডিও বানানোর জন্য স্ক্রিপ্ট তৈরি করলাম। কিন্তু স্ক্রিপ্ট তৈরি করার পর যখন শুটিং করতে যাই তখন আমার মধ্যে ন্যাচারাল যে চরিত্র সেটি আর ফুটে উঠছে না। আমি হঠাৎ করে একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিল, আমি এর মাধ্যমে মানুষকে কী বার্তা দিতে যাচ্ছি, আসলে এর শেষ কোথায়? আমার আগেও অনেকে ভালো ভালো কনটেন্ট ক্রিয়েট করতেন। কিন্তু তারা এক সময় হারিয়ে গেলেন। এরকম বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আমার মনে ঘুরপাক খেতো। পরে আমি শুটিং করা বন্ধ করে দিলাম। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস আমি সব কিছু থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেই। পরে এই সময়টাতে ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করি। কোরআন-হাদিস ও বিভিন্ন স্কলারের লেখা আমি পড়তে থাকি। পড়তে গিয়ে এমন কিছু বিষয় আমি জানতে পারি, যা মানুষ প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা ইসলামে নিষিদ্ধ ও হারাম। এরপরই ভাবলাম এগুলো নিয়েই ভিডিও বানানো যায়, মানুষকে সচেতন করার জন্য।

আরটিভি নিউজ: কনটেন্ট তৈরির শুরুর সময়টা থেকে এখন ইসলামিক কনটেন্ট তৈরির মধ্যে আপনি কী কোনও ধরনের পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন?

তানভীর হায়দার: যখন আমি বিনোদনের জন্য কনটেন্ট বানাতে শুরু করি, তখন আমাকে খুব বেশি পড়াশুনা করতে হত না। গভীরভাবে চিন্তা করারও কিছু ছিল না। কিন্তু এখন ইসলামিক কনটেন্ট তৈরির করার ক্ষেত্রে আমাকে সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হচ্ছে এবং ইসলাম সম্পর্কে আরো সুস্পষ্ট ধারণার জন্য আমাকে পড়াশুনা করতে হচ্ছে। কারণ আগের কনটেন্টগুলাতে কাজ ছিল শুধু মানুষকে হাসানো কিন্তু এখন আমি মানুষের মাঝে একটা বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছি, যে বার্তার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে পরিবর্তন করবে। যদি এই বার্তার মধ্যে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে যায়, তাহলে সেটার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার। এজন্য আমাকে অনেক সচেতন থাকতে হচ্ছে এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

আরটিভি নিউজ: আপনার বিশাল একটা ভক্তকূল রয়েছে, কিন্তু আপনি যখন ইসলামিক কনটেন্ট বানাতে শুরু করলেন, এক্ষেত্রে তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

তানভীর হায়দার: নতুন কিছু শুরু করতে গেলে একটা ধাক্কা আসে। আমি যখন আগের সব ভিডিও ডিলিট করে দিয়ে আবার নতুনভাবে কনটেন্ট বানানো শুরু করলাম, তখন বেশ কিছু সাবস্ক্রাইবার কমে গিয়েছিল। যারা মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভিডিও দেখে, তাদের সংখ্যাটাই বেশি কমতে থাকে। আমি যখন শুরুতে হাস্যরসাত্মক ভিডিও বানাতে শুরু করি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমি জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলি এবং মানুষ আমাকে সমর্থন করা শুরু করে। ফলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা তরতর করে বাড়তে থাকে। এরপর আমি দীর্ঘ বিরতি নিয়ে যখন আবার নতুনভাবে ফিরে আসি তখন যারা ইসলামকে পছন্দ না করে বা ধর্মভিত্তিক কনটেন্ট যারা পছন্দ করে না, তাদের সংখ্যা কমতে থাকে। তবে সেই সংখ্যাটা খুব বেশি ছিল না। বর্তমানে আমি ফলোয়ারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং তারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

আরটিভি নিউজ: ধর্মের নামে মানুষ বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারে লিপ্ত রয়েছে, সেখান থেকে তাদেরকে বের করে আনার জন্য বার্তা দিচ্ছেন, এক্ষেত্রে মানুষের কাছ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছেন?

তানভীর হায়দার: আমরা প্রতিনিয়ত এমন কিছু খারাপ কাজ করে যাচ্ছি যেগুলো ইসলামে বড় ধরনের অন্যায় ও গুনাহর কাজ। যেমন- সুদ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া। আমি আমার জায়গা থেকে মানুষের মাঝে বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছি। যাতে তাদের ভুলটা ভাঙে। কিন্তু কে অন্যায় পথ ছেড়ে দিবে কে অন্যায় পথ ছেড়ে দিবে না, সেটা আমি জানি না। কাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন, কাকে করবেন না তাও আমার জানা নেই। আমি শুধু আমার কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে কিছু মানুষের কাছে আমার কাজ ভালো লাগবে, আবার কিছু মানুষের কাছে অপছন্দ হবে এটাই স্বাভাবিক।

আরটিভি নিউজ: আপনি কনটেন্ট ক্রিয়েটের পাশাপাশি আর কী করছেন?

তানভীর হায়দার: আমি আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর পড়াশুনা শেষ করলাম। ছাত্র অবস্থাতেই আমি কনটেন্ট ক্রিয়েটের সঙ্গে যুক্ত হই। এখন চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে কনটেন্ট তৈরি করছি।

আরটিভি নিউজ: ইসলামিক কনটেন্ট ক্রিয়েট নিয়ে আপনার ভবিষ্যত কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

তানভীর হায়দার: কখন মৃত্যু আছে আমি জানি না, তবে আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন ততদিন আমি ইসলাম চর্চার মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আমি ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছু জানি না। সেই বিষয়গুলো জানার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া ইসলামিক কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে অনেক কিছু জানতে হয়। এখানে চাইলেই মনগড়া কথা বলা যায় না।

আরটিভি নিউজ: কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে আপনি কারো সহযোগিতা নিচ্ছেন কিনা?

তানভীর হায়দার: কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে আমি কারো সহযোগিতা নিচ্ছি না। স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে শুরু করে ভিডিও সম্পাদনা, সব আমি নিজেই করছি।

আরটিভি নিউজ: আরটিভি নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

তানভীর হায়দার: আরটিভি নিউজকেও ধন্যবাদ।

জেএইচ/পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS