• ঢাকা রোববার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১৫ বৈশাখ ১৪৩১
logo
মুসলিম দেশে হয়েও কেন ইসরায়েলের পক্ষ নিল জর্ডান?
ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে দেহরক্ষীর মতো পাশে ছিল প্রতিবেশী মুসলিম দেশ জর্ডান। আরব দেশ হয়েও ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে জর্ডানের এমন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছে খোদ ইসরায়েলও। তবে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এতে বেশ খুশিও হয়েছে ইসরায়েলিরা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তবে কী নিজেদের স্বার্থেই ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি? এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। যদিও জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলকে সাহায্য করতে নয়, বরং নিজের দেশকে রক্ষা করতেই ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে জর্ডানের এমন কাণ্ডে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে দেশটি। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অনেকে আবার হাস্যরসাত্মকভাবে নিন্দা করছেন। আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক ইউনিফর্ম পরিহিত জর্ডানের শাসক রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর ছবি প্রকাশ করছেন। পর্যবেক্ষকের অনেকেই বলছেন, জর্ডান প্রকৃতপক্ষে দুই নৌকায় পা রেখেছে। একদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা। কারণ, আর্থিকভাবে দুর্বল দেশ জর্ডান নানাভাবে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। কারণ, মুসলিম দেশ জর্ডানের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ফিলিস্তিনি শরণার্থী। অর্থাৎ ভৌগোলিকভাবে জর্ডান এমন একটি অবস্থায় রয়েছে যে ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে জর্ডানের ওপর। তাই এ সংঘাতে নিজেদের ক্রসফায়ারে ফেলতে চায় না জর্ডান। ফলে জর্ডানের বিবৃতিকে ‘ভারসাম্য রক্ষার’ বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।  এছাড়া ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর পেছনে জর্ডানের কূটনৈতিক বিষয় ছাড়াও রয়েছে কিছু ইতিহাস। ১৯৯৪ সালে জর্ডান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে জর্ডান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। শান্তি চুক্তির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে শক্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা তৈরি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল জর্ডানে গ্যাস ও পানি সরবরাহ করে। কারণ পৃথিবীর যেসব দেশে পানির তীব্র সংকট রয়েছে তার মধ্যে জর্ডান অন্যতম। এছাড়া সে চুক্তি অনুসারে কোনো দেশই তাদের ভূমি ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশকে আক্রমণ করতে দেবে না। ২০২২ সালে আরেকটি চুক্তির আওতায় জর্ডান ইসরায়েলের কাছে সৌর বিদ্যুৎ রপ্তানি করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে জর্ডান। ফলে ইসরাইলের সঙ্গে যে কোনো বৈরী সম্পর্ক অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও মিত্রতার সম্পর্ক জর্ডানের। ফলে নিজেদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আত্মরক্ষার স্বার্থেই ইরানের হামলায় ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটি।  
২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:৪৩

১০০ বছর পর খুলল মসজিদ, ঈদের নামাজ পড়লেন মুসলিমরা
অটোম্যান শাসনামলে তৈরি গ্রিসের থেসালিনিকির ঐতিহাসিক ইয়েনি যামি মসজিদ ১০০ বছর পর নামাজের জন্য খুলে দিয়েছে গ্রিস সরকার। আর মসজিদটি খুলেই ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসলিমরা। বুধবার (১০ এপ্রিল) এ খবর জানিয়েছে এপি নিউজ, দি ইকোনোমিকস টাইমস, ওয়াসিংটনপোস্ট, ইরান প্রেস। জানা গেছে, মুসলিমরা ১০০ বছর আগে গ্রিসে যুদ্ধে হেরে যাওয়ায় অনেক মসজিদ বন্ধ করে দেয় অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ঐতিহাসিক ইয়েনি যামি মসজিদ। দেশটিতে গত শতক থেকেই বহাল থাকলেও সম্প্রতি মত পাল্টায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফলে বুধবার (১০ এপ্রিল)  খুলে দেওয়া হয় মসজিদটি। পরে মুসলিমরা এখানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এদিন ৭০ হাজার মুসল্লি  নামাজে অংশ অংশ নিয়েছেন। এক শতাব্দি পূর্বে ইহুদি থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল ডনমেহ সম্প্রদায়ের মানুষ। আর তাদের জন্য অটোম্যান শাসকরা এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৯০২ সালে তৈরি মসজিদটির স্থাপত্যে দেখা মেলে ইসলামিক কারুকার্যের। ইতালিয়ান স্থপতি ভিতালিনো পোসেলির হাত ধরেই গড়ে ওঠে মসজিদটি। ১৯২৩ সালে গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যে দুই দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বিনিময় হয়। ফলে ইয়েনি যামি মসজিদটিতে নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে এটি কখনো ব্যবহার হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র, কখনো জাদুঘর হিসাবে। আবারও মসজিদটি খুলে দেওয়ায় দেশটির মুসলিমরা ফিরে পেয়েছেন হারানো ঐতিহ্য। এ প্রসঙ্গে এআই গ্রিসো নামের এক গ্রিস নাগরিক বলেন, আমাদের দেশে ৯৮ শতাংশ খ্রিস্টান এবং ২ শতাংশ মুসলিম বসবাস করেন। এবারের ঈদে প্রায় এক শতাব্দী আগের বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাচীন মসজিদ খুলে দেওয়ায় প্রমাণ করে গ্রিসে মুসলিম আর সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ সময় এক মুসল্লি বলেন, গ্রিস সরকার জানিয়েছিল, একশো বছর পর মসজিদটির দরজা খুলে দেওয়া হবে। তাই নামাজ পড়তে এসেছিলাম। প্রায় ৬৩ বছর যাবৎ এখানে আছি, এতদিন এটাকে জাদুঘর হিসেবে চিনলেও, জানতাম না এটা একটা মসজিদ।  প্রসঙ্গত, অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ইউরোপের দেশটিতে ২০২০ সাল পর্যন্তও মুসলিমদের জন্য কোনো মসজিদ ছিল না। ভোটানিকোসে প্রথম সরকারিভাবে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয় ২০২০ সালে। যেটি পুরোপুরি চালু রয়েছে। এ ছাড়া এথেন্সের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মুসলিম কমিউনিটিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য মসজিদ রয়েছে।
১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৭

মুসলিম উম্মাহকে বিএনপির ঈদ শুভেচ্ছা
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছে বিএনপি। বুধবার (১০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো শুভেচ্ছা বাণীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাসব্যাপী কঠোর সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উৎসবটি সারাবিশ্বে অনেক উৎসাহ ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হয়। বিশ্ব মুসলিম একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিনটি পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি চিহ্নিত করে, যেখানে মুসলমানরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়াম বা রোজা পালন করে। মাসব্যাপী রমজানের আত্মশুদ্ধির মহান দীক্ষার মধ্য দিয়ে আসে ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত। ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, নিয়ে আসে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের মহা সুযোগ। মির্জা ফখরুল বলেন, ঈদুল ফিতরের উৎসব আমাদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগরিত করে। তাই ঈদুল ফিতরের শিক্ষা থেকে আমাদের অঙ্গীকার হোক- সব হিংসা, বিদ্বেষ ও হানাহানি থেকে মুক্ত হয়ে ন্যায়, সাম্য, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, দয়া, সহানুভূতি, মানবতা ও মহামিলনের এক ঐক্যবদ্ধ ও ভালোবাসাপূর্ণ সমাজ এবং দেশ গঠনের জন্য একযোগে কাজ করা। তিনি বলেন, কোনো অসহায় ও দুস্থ মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে সেজন্য সচ্ছল ব্যক্তিরা যেন তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। যেন নিরন্ন মানুষরাও ঈদ আনন্দের অংশীদার হতে পারে। ঈদের দিনে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয় ধারা, এ কামনাই করি।
১০ এপ্রিল ২০২৪, ১৪:৪০

একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে বৃহস্পতিবার যে দেশে ঈদ
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার (১০ এপ্রিল) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে। এদিকে বিশ্বের সব মুসলিম দেশে বুধবার পালিত হলেও একমাত্র বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল)  ঈদ পালিত হবে। জানা গেছে, সৌদি আবরসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ, পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান ও ভারতের তিন অঞ্চলে বুধবার (১০ এপ্রিল) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে। তবে ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চল ও বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার ঈদ পালন করা হবে। এক নজরে দেখে নিন মুসলিম দেশগুলোতে কতটা রোজা হয়েছে এবং কবে ঈদ পালিত হচ্ছে- পাকিস্তান : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ২৯টি। মালয়েশিয়া : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ২৯টি। ফিলিস্তিন : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ৩০টি। ইন্দোনেশিয়া : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ২৯টি। সৌদি আরব : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ৩০ টি। আরব আমিরাত : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ৩০টি। কাতার : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা, ৩০টি। ইয়েমেন : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ৩০ টি। ওমান : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ২৯ টি। জর্দান : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ২৯টি। মিশর : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ৩০টি। তিউনিসিয়া : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ৩০টি। মরক্কো : ১০ এপ্রিল, বুধবার, রোযা ২৯টি।  
১০ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০৩

শবে কদরে দেশ ও মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শবে কদর রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন। শনিবার (৬ এপ্রিল) পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে এক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, লাইলাতুল কদর এক অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত পবিত্র রজনী। সিয়াম সাধনার মাসের এই রাতে আল্লাহ মানবজাতির পথ নির্দেশক পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে নাজিল করেন। মহান আল্লাহ কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জানো? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময় সে রাত বিরাজ করে ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫) প্রধানমন্ত্রী বলেন, কদরের রজনীর অপার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা আদ-দুখানে বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফয়সালা হয়। মহান আল্লাহ শবে কদরের রাতে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এ রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রজনীতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তার অসীম রহমত, বরকত ও মাগফিরাত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র লাইলাতুল কদরে দোয়া করি মহান আল্লাহ যেন আমাদের সব অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার তৌফিক দান করেন। পবিত্র এই রজনীতে মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
০৫ এপ্রিল ২০২৪, ২১:৫৯

রমজানে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কল্যাণ কামনা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের আকাশে দেখা গেছে মাহে রমজানের চাঁদ। এ অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এ উপলক্ষে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   সোমবার (১১ মার্চ) রাতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাণী দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের জাতীয় জীবনে পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষা কার্যকর করার তাওফিক দান করুন। মাহে রমজান আমাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি। সবার জীবন মঙ্গলময় হোক। পবিত্র মাহে রমজানে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি।’     দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সিয়াম সাধনা ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজান আমাদের মাঝে সমাগত। পবিত্র এ মাসে আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে ও সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্যলাভ এবং ক্ষমা লাভের অপূর্ব সুযোগ হয়। সিয়াম ধনী-গরিব সবার মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। বাণীতে পবিত্র মাহে রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ, উচ্ছলতা ও সংঘাত পরিহার এবং জীবনের সর্বস্তরে পরিমিতিবোধ, ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, সব ধরনের কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করি। সিয়াম পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করি ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকি। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।’  
১২ মার্চ ২০২৪, ০০:৪৪

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন মুদ্রা চালুর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন মুদ্রা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) গণভবনে তুরস্কের বাণিজ্য উপমন্ত্রী মোস্তফা তুজকুর নেতৃত্বে ডি-৮ বাণিজ্যমন্ত্রীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, মুসলিম দেশগুলো তাদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো একটি অভিন্ন মুদ্রা চালু করতে পারে।  তিনি বলেন, আমরা মুসলিম দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি অভিন্ন মুদ্রা চালু করতে পারি, তাহলে খুব ভালো হবে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের আটটি সর্বাধিক জনবহুল মুসলিম দেশকে নিয়ে ডি-৮ গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য তাদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এই দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বন্ধুত্বের উন্নতি ঘটানো। আমার লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের ভাগ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা এবং এটা তখনই সম্ভব, যখন আমরা আমাদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে পারব। ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের মধ্যে বাণিজ্য উন্নত করতে পারি, তবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের এক বা দুই প্রজন্ম হারিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। মিয়ানমারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এটি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ডি-৮-এর উচিত ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিবারের মতো একসঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য একে অপরকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া।  বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বাস্তবায়ন এবং এর কার্যকারিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত করা। ডি-৮ দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে সম্মত হওয়ায় ঢাকা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। প্রতিনিধি দলটি ২৭ বছর আগে ডি-৮ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সূচনাকারী হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং শেখ হাসিনাই একমাত্র ডি-৮ প্রতিষ্ঠাকালীন সরকারপ্রধান, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  প্রতিনিধি দলটি আরও বলেছে, বৈঠকে তারা ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা এখন ১৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  এ ছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাওয়ানোর জন্য প্রতিনিধি দলটি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, ডি-৮ এবং মুসলিম দেশগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।  গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডি-৮ মন্ত্রী গাজার পক্ষে শেখ হাসিনার অবস্থানের প্রশংসা করেন। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া ও সিনিয়র বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস  
০৬ মার্চ ২০২৪, ১১:২৮

মালয়েশিয়ায় বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুসলিম নারী সম্মেলন
ওআইসি অন্তর্ভুক্ত দেশের নারিদের নিয়ে মালয়েশিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে নারী সম্মেলন-২০২৪। সোমবার কুয়ালালামপুরের মান্দারিন ওরিয়েন্টাল হোটেলের বলরুমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জাহিদ হামিদি। এ বছরের জুনে কুয়ালালামপুরে বসবে এ নারী সম্মেলন।      আয়োজকরা বলছেন, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপি নারী জাগরণের শুরু আর এবারের প্রতিপাদ্য ‘শক্তিমান নারী পরবর্তী প্রজন্মের নারী শক্তির অগ্রগামী’। এ সম্মেলনে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানানো হবে। জুনে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল থেকে ৫ শতাধিক প্রতিষ্ঠান বুথ নিয়ে থাকবে এবং ছোট আকারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে নারী, পরিবার ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. নুরাইনি আহমেদ ও ওআইসি’র পরিচালক লাতিফা এল বওয়াবেডেল্লাওয়ী উপস্থিত ছিলেন।    সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ, আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সেনেগাল, পাকিস্তান, আজারবাইজান, উজেবেকিস্তান, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়াসহ ২৫টি দেশের বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান উপস্থিত থাকবে। এই সম্মেলনে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, এনজিও, নীতি নির্ধারক এবং আইনজীবিদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হবে। যা নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে বলে মনে করেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপি নারীদের উজ্জল ভবিষ্যত নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।        এর আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম ওয়ার্ল্ড রায়না অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয় কেএলসিসি’র কনভেনশন সেন্টারে।
০১ মার্চ ২০২৪, ২২:২৯

নওয়াজ-বিলাওয়ালের সঙ্গে জোট করবে না পিটিআই : ইমরান খান
পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল) নওয়াজ শরীফ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সঙ্গে সরকার গঠনে জোট করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) লাহোরের আদিয়ালা জেলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। ইমরান খান বলেন, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানের (এমকিউএম-পি) সঙ্গেও জোট গঠন করা হবে না। তবে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের ব্যাপারে আলোচনা করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জোট না করতে চাওয়া দলগুলো অর্থপাচারকারী। যাদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়েছে তারা সবাই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অর্থপাচারকারী। তবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে; তা পাকিস্তানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনবে। তিনি আরও বলেন, যখন জানতে পেরেছি যে, নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করেছেন; তখনই বুঝতে পেরেছি, তারা দুজনই নির্বাচনে হেরে গেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান খান বলেন, আগে আমরা নির্বাচনের কারচুপির বিরুদ্ধে আদালতে যাব। আমরা নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবো। তিনি বলেন, পিটিআই সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রার্থী ঠিক না করলেও খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুরের নাম ঠিক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নজিরবিহীন বিলম্বের পর রোববার ২৬৪টি আসনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পরিষদে সরকার গঠনের জন্য ১৩৪টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৯৩ জনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই-সমর্থিত। ৭৫ আসনে জিতে এরপরের অবস্থানে আছেন নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল)। আর ৫৪ আসনে জয়লাভ করে তৃতীয় অবস্থানে বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। এ ছাড়া এমকিউএম ১৭টি ও অন্যান্য দল ১৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি কোনো দলই। তাই জোট গঠনে তোড়জোর চালাচ্ছে দলগুলো। বিশেষ করে নওয়াজ শরিফের পিএমএল ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপির জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এখন অনেকটাই পাকা। তবে, বড় এ দুই দলের মোট আসনও পূরণ করতে পারছে না সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম আসন পূরণের শর্ত। এ জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিশেষ করে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শিবিরে হানা দিচ্ছেন নওয়াজ। সূত্র : জিও টিভি
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১৩
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়