logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৮ ফাল্গুন ১৪২৬

তারা পাকবাহিনী, আমরা কী নাপাক: বঙ্গবীর

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৩
পাকবাহিনী নাপাক বঙ্গবীর
আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কাউন্সিলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে ‘পাকবাহিনী’উল্লেখ করায় বেজায় ক্ষেপেছেন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। শনিবার দুপুরে মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবীরের নাম ঘোষণার আগে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘এবার বক্তব্য দেবেন পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে যিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন...।’

এরপর বক্তব্য দিতে উঠে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, ‘যিনি ঘোষণা দিচ্ছেন, আমি তাকে অত্যন্ত স্নেহ করি। আমাকেও তিনি অত্যন্ত ভালোবাসেন। ঘোষণা করতে গিয়ে হানাদার বাহিনীকে তিনি পাকবাহিনী বলে উল্লেখ করলেন। এই পাকবাহিনী শোনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম। আমরা এমন একটা জাতি, যারা ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করে, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করে, তাদেরকে পাকবাহিনী বলি। আর যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করে, ভবিষ্যতে হয়তো তাদেরকে নাপাক বাহিনী বলব। এই হলো আমাদের চেতনা।’

আবদুল কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা পরাজিত হয়েছে যুদ্ধের ময়দানে। সাহিত্যের ময়দানে তারা হারেনি। তাদের অনেক দালাল সাহিত্যিক ছিল। ব্যবসার ময়দানে তারা হারেনি। আজও পাকিস্তানের বড় বড় ব্যবসায়ী বাংলাদেশে আছেন। বাংলাদেশের ১০-১৫ জন বড় ব্যবসায়ীকে একত্রিত করলেও পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের সমান হবে না। বাংলাদেশে যে কজন বড় ব্যবসায়ী আছে, তার প্রত্যেকটার সঙ্গে পাকিস্তানি ব্যাবসায়ীর লিংক আছে। আমরা পাকিস্তানের হাত থেকে প্রশাসনিভাবে মুক্ত হয়েছি। কিন্তু তাদের প্রভাব থেকে এখনও মুক্ত হতে পারিনি।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকা নিয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘গত নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আটজন নির্বাচিত হয়েছিল। সেই আটজন এই সংসদে আছে। যদি সংসদ অবৈধ হয়, তাহলে আপনাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) আটজনও অবৈধ। হয় তারা পদত্যাগ করুক ৩০ তারিখের আগেই। না হয় তাদের বহিষ্কার করা হোক। দেখবেন মানুষ আপনাদের পেছনে দাঁড়াবে। দ্বিচারিতা করা রাজনীতিতে শুভ কথা নয়। একদিকে থাকতে হবে। সেদিক হচ্ছে মানুষের দিক।’

জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • রাজনীতি এর সর্বশেষ
  • রাজনীতি এর পাঠক প্রিয়