logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

মালয়েশিয়ায় জোহর প্রদেশে শতাধিক শ্রমিকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মোস্তফা ইমরান, মালয়েশিয়া থেকে
|  ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৩৩
মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের একাংশ
মালয়েশিয়ার জোহর প্রদেশে অ্যাজেন্ডা রেংক্যাং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির পরিচালক বরিশালের মোহাম্মদ শহীদের বিরুদ্ধে শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে ভিসা করিয়ে দেয়ার নামে লক্ষাধিক রিঙ্গিত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় পাঁচ'শ কিলোমিটার দূরে জোহর প্রদেশে এসব ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা বর্তমানে অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করছে। 

সরেজমিনে জানা যায় ২০১৬ সালে অ্যাজেন্ডা রেংক্যাং কোম্পানি ৩ শতাধিক শ্রমিককে ভিসা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে  ধাপে ধাপে লক্ষাধিক মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত হাতিয়ে নেয়। তবে এসব শ্রমিকের রিহেয়ারিং এর ফিংগার প্রিন্ট হলেও ইমিগ্রেশন ফিংগার প্রিন্ট হয়নি। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেকে বাধ্য হয়ে অনত্র ভিসা করেছে। আর বেশির ভাগই ভিসা পায়নি। আর পুরো বিষয়টি নিয়ে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে লিখিত অভিযোগও প্রস্তুত করা হয়েছে। 

২০১৬ সালে টাকা দিয়েও ভিসা না পাওয়া একজন ময়মনসিংহের মনির হোসেন। কাছে পেয়ে এ প্রতিবেদককে জানান কষ্টের কথা। ধাপে ধাপে ৬ হাজার ৬'শ রিঙ্গিত দিয়েছেন ভিসা করার জন্য। তবে মাইইজির ফিংগার ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি হয়নি, পাননি কোনো ভিসা- জানালেন পুলিশ। আর ইমিগ্রেশনের ভয়ে সর্বক্ষণ সময় কাটে তার।

যশোর ঝিকরগাছার হুমায়ন কবিরের অভিযোগটা অনেকটা একই। টাকা দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ভিসা মেলেনি। বরং একবার পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে জেলও খেটেছেন। অ্যাজেন্ডা কোম্পানির কেউই তাকে ছাড়াতে যায়নি। জেলখানার নিদারুণ সেই কষ্টের কিছুটা বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ষাটোর্ধ্ব হুমায়ন। বলেন ভিসা না পাওয়ায় এখন ট্রাভেল পাস করে একবারে দেশে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই তার।

নরসিংদীর মাসুম বিল্লাহ, যশোরের মোক্তার হোসেন, শফি রহমান, মানিকগঞ্জের আনোয়ার, যশোর মনিরামপুরের হোসেন আলি, মেহেরপুরের ফরজ আলি, মনিরামপুরের ফারুক হোসেন, জামালপুরের আবু সাঈদসহ জোহর বারুর প্রায় জনা পঞ্চাশেক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে অ্যাজেন্ডা কোম্পানির প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ অ্যাজেন্ডা কোম্পানির মালিক শহীদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোম্পানি কোনো সমাধান করেনি। বরং নানা সময় ফোনে হুমকি-ধামকি দিয়েছে।

অর্থ ফেরত পেতে এসব ভুক্তভোগী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। তাদের একটাই দাবি কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত এবং অর্থ-আত্মসাৎকারীর উপযুক্ত শাস্তি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শহীদের পান্ডান ইন্ডা কমার্শিয়াল পার্ক সংলগ্ন অফিসে ও তার নিজস্ব ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

 উল্লেখ্য শহীদের বিরুদ্ধে এর আগেও মানবপাচারকারি অভিযোগে মামলা হয় যা স্থানীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশও করা হয়। এ অভিযোগে মালয়েশিয়ান পুলিশ তাকে আটকও করে। 

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশির ভাগই দীর্ঘদিন ধরে আলকোমেক্স কোম্পানির অধীনে কাজ করেন এবং এই কোম্পানির মাধ্যমেই অ্যাজেন্ডা কোম্পানিতে ভিসা করার জন্য টাকা দেন।

এ বিষয়ে কথা হয় আলকোমেক্স কোম্পানির সত্ত্বাধিকারী যশোরের আলি হোসেনের সঙ্গে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, অ্যাজেন্ডা কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে  ১'শ শ্রমিকের ভিসা করানোর জন্য সব ধরনের ডকুমেন্টস এবং ২ লাখ ৯৮ হাজার রিংগিত যা বাংলাদেশি টাকায় ৬০ লাখ টাকা পরিমাণের অর্থ দেয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা কাজ করতে পারিনি। অর্থ লেনদেনের সব ধরনের প্রমাণাদির ফটোকপি এ প্রতিবেদককে দেয়া হয়। এ নিয়ে স্থানীয় থানায় অ্যাজেন্ডা কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে মৌখিক অভিযোগ দেয়ার পর লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এখন আলকোমেক্স কোম্পানির মাধ্যমে ভিসা করে অনেকেই ফ্যাক্টরিতে চাকরি করছেন। আলকোমেক্স এর সহযোগিতায় অনেকে দেশেও ফেরত গেছেন। আলি হোসেন অভিযোগ করেন অ্যাজেন্ডা কোম্পানি শতাধিক শ্রমিককে প্রায় দুই মাস ধরে বেতন দেয়নি যা নিয়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও অ্যাজেন্ডা কোম্পানির শহীদ সমাধান করেনি। বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওইসব শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করান।

আলী হোসেন এই প্রতিবেদককে আরো জানান, আমার কোম্পানির সাথে ও মোহাম্মদ শহীদের সাথে ২০১৬ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ওইসব শ্রমিকের ভিসা ও কাজের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থান করার কথা শহীদের অ্যাজেন্ডা কোম্পানির। চুক্তি অনুযায়ী মোহাম্মদ শহীদ কথা রাখেনি। টাকা নিয়ে শ্রমিকের ভিসা করে দেয়নি। শ্রমিকের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে আমাকে আমাকে হুমকি-ধামকি দেয়। স্থানীয় তামিল সন্ত্রাসীদের দ্বারা মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে পাঠানোর ভয় দেখায়। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মামলা করি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ দূতাবাসকে লিখিত আকারে অভিযোগ করি। আমি প্রতারিত শ্রমিকের পাশে আছি সবসময় থাকবো। শ্রমিকরা যাতে টাকাগুলো ফিরে পায় সেই ব্যাপারে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

সি/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়