Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

মালয়েশিয়া প্রবাসী হত্যার বিচারের দাবিতে কুয়ালালামপুরে মানববন্ধন

মালয়েশিয়া প্রবাসী হত্যার বিচারের দাবিতে কুয়ালালামপুরে মানববন্ধন
মালয়েশিয়া প্রবাসী হত্যার বিচারের দাবিতে কুয়ালালামপুরে মানববন্ধন

শরিয়তপুরের পালং থানার গয়ঘর গ্রামের বাসিন্দা দাদন খালিফার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সোমবার (২৬ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন শেষে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়ে হাইকমিশন বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন তারা। হাইকমিশনের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান রুহুল আমিন এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে আসা দাদন খলিফা দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে যান বিয়ে করতে। পরিবারের সিদ্ধান্তে সঙ্গী খুঁজে পেলেও সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ যায়।

মানববন্ধনে নিহত দাদন খালিফার বড় ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী সালাম খলিফা বলেন, বিয়ের ক’দিন পরই ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। হত্যার নির্দেশ দাতা ইস্কান্দার সরদার ও তার পালিত সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় হাইকমিশনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন তিনি।

কমিউনিটি নেতা ও মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক অহিদুর রহমান অহিদ বলেন, একজন রেমিটেন্স যোদ্ধার এ পরিণতি খুবই কষ্টদায়ক। যারাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার দাবি জানান তিনি।

কোতারায়া বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি ও কমিউনিটি নেতা রাশেদ বাদল বলেন, দাদন খলিফাকে যারা হত্যা করেছে তারা সমাজের যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অপরাধীদের এ ধরণের অপরাধ করার প্রবণতা বেড়ে যাবে।

শ্রমিক নেতা নাজমুল ইসলাম বাবুল বলেন, একজন রেমিটেন্স যোদ্ধাকে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো। আবার তার পরিবারকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। আমরা প্রবাস থেকে এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার চাই।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের পালং থানার গয়ঘর গ্রামের প্রবাসী দাদন খলিফা এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া থেকে দেশে যান। দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের সপ্তাহ না পেরোতে ১৫ এপ্রিল রাতে সন্ত্রাসী দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঐদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে কুপিয়ে ও পরে গুলি করা হয় তাকে। রাতে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। মারা যাওয়ার আগে পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও হামলায় অংশ নেয়া সকলের নাম বলে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হলেও আসামিদের আটকের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ আনে নিহতের পরিবার। অভিযোগ রয়েছে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে আসামিরা। এ অবস্থায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে নিহতের পরিবার। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে গয়ঘর ও তার আশপাশের সর্বস্তরের জনগণ।

এসআর/

RTV Drama
RTVPLUS