logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭

আহ্বায়ক রেজার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে মালয়েশিয়া আ'লীগের সংবাদ সম্মেলন

Picture of the press conference of Malaysia A League
মালয়েশিয়া আ'লীগের সংবাদ সম্মেলনের চিত্র
স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় না থাকা, নেতাকর্মীদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি এমন বেশ কিছু অভিযোগ এনে আহ্বায়ক এম রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগে'র নেতৃবৃন্দ। 

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান দলটি'র যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহীন সর্দার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় অসহায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে ও প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে তিন মাসের এ কমিটি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হিসেবে রুপলাভ করতে পারেনি। উপরন্তু আহ্বায়ক এম রেজাউল করিম রেজা নিজের পদকে অপব্যবহার করে নানা সময়ে ফায়দা লুটেছেন যা দলের ভেতরে বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। 

এছাড়া এম রেজাউল করিম রেজা মালয়েশিয়ায় নিয়মিত থাকেন না। তার মালয়েশিয়ায় থাকার স্থায়ী কোন ভিসাও নেই। সপরিবারে ঢাকায় থাকা রেজাউল করিম ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশ থেকে যাতায়াত করেন। স্থায়ীভাবে যারা মালয়েশিয়ায় থাকেন এমন কারো দ্বারা দল পরিচালিত হলে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত হবে এবং প্রবাসীরাও উপকৃত হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

স্বেচ্ছাচারী হয়ে নানা সময়ে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে আহ্বায়ক কমিটির ৩১ সদস্যের ২৩ জনই রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে একাত্মতা প্রকাশ করেন। একাত্বতা প্রকাশের ভিডিও, অডিও ও স্বাক্ষর প্রমানস্বরুপ উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

সোমবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে দলটির এক জরুরী সভায় ১৬ জন সদস্য উপস্থিত হয় ও বাকি সদস্যদের ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। এসময় প্রত্যেক সদস্য আহ্বায়ক রেজাউল করিমে'র বিরুদ্ধে পৃথক পৃথকভাবে অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে যারা মালয়েশিয়াতে কর্মীদের সুখে-দু:খে পাশে দাঁড়াতে পারে, যারা স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়াতে থাকে তাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব আসা উচিত বলে সবাই মতামত দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার  জন্য কেন্দ্রের প্রতিও জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।  

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) ফারুক খান স্বাক্ষরিত যে আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিলো নানা  সময়ে সেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন রেজাউল করিম। 

এসময় যুগ্ম-আহ্বায়ক অহিদুর রহমান ও কামরুজ্জামান কামালকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষে দায়িত্ব অর্পণের জন্য প্রস্তাব করা হয়।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ বাদল, সদস্য কাইয়ুম চৌধুরী ও মনিরুজ্জামান মনির। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিক চৌধুরী, নুর মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হুমায়ন কবির, মামুনুর রশিদ, আব্দুল বাতেন, শ্রী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, আক্তার হোসেনসহ অনেকে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেন মুকুল, হাজী আব্দুল হামিদ জাকারিয়া, মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন পান্না, এ কামাল হোসেন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহ্বায়ক কমিটি'র এ সিদ্ধান্ত'কে স্বাগত জানিয়ে অনতিবিলম্বে সকলের অংশগ্রহণে নতুন কমিটি গঠন করে তা কেন্দ্রে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।  

একইসঙ্গে নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গড়ার স্বার্থে যারা মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে থাকেন তাদের নিয়ে, সবকিছু ভুলে একসঙ্গে পথ চলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। 

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এ সংবাদ সম্মেলন দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন আহ্বায়ক এম রেজাউল করিম রেজা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বসে কে কাকে বাদ দিলো, কে কাকে নিলো তাতে কিছু আসে যায় না, দলীয় সভানেত্রী যাকে দায়িত্ব দেবেন তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।

জিএ

RTV Drama
RTVPLUS