logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাবির নির্জন ক্যাম্পাসে পাখিরাই এখন প্রাণ

রাবির নির্জন ক্যাম্পাসে পাখিরাই এখন প্রাণ
রাবির নির্জন ক্যাম্পাসে পাখিরাই এখন প্রাণ
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে হেমন্ত। হেমন্তে পরিযায়ী পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এবারও এর কোনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। করোনাকালীন বন্ধ ক্যাম্পাসে প্রতিবারের মতো শীত আসতে না আসতেই সপ্তাহখানেক ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করেছে। এই পাখিগুলোর আগমনে যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে নির্জন ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া, তাপসী রাবেয়া, রহমতুন্নেছা হলের পেছনের চামপঁচা, শামসুজ্জোহা হলের পাশের পুকুরসহ বেশ কয়েকটি জলাশয়ে বসেছে পরিযায়ী পাখির মেলা। সরালিরা ঝাঁক বেঁধে উড়ছে শাঁই শাঁই করে, খোলা আকাশে দু-এক চক্কর দিয়ে আবার নেমে আসছে। খুনসুটি করছে নিজেদের মধ্যে দিচ্ছে ডুবসাঁতার। কেউ স্বচ্ছ পানিতে ডানা ঝাপটাচ্ছে কেউ আবার পালকের ভেতর মুখ গুঁজে পোহাচ্ছে মিষ্টি রোদ। প্রতিবছর শীতজুড়ে অবাধ বিচরণ থাকে তাদের। এবারও পরিযায়ী পাখির কলকাকলি খুনসুটি আর জলকেলিতে নিসর্গমতি এই ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে স্বর্গ। 

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয়ের উত্তরাঞ্চল থেকে ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসে পরিযায়ী পাখিদের দল। তীব্র শীত আর ভারী তুষারপাতে টিকতে না পেরে উষ্ণতার খোঁজে তারা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশে। দেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে সেসবের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

দুই ধরনের পাখি আসে রাবি ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি থাকে ডাঙায় বা ডালে। আরেক ধরনের পাখি থাকে পানিতে। তবে রাবির জলাশয়গুলোতে আসা বেশিরভাগ পাখিই হাঁস জাতীয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখিই ছোট সরালি। আর বাকিদের মধ্যে রয়েছে বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুন্তে হাঁস, ভূতি হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস ইত্যাদি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিযায়ী পাখিদের দেখে উচ্ছ্বসিত হন। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও অনেকে আসেন পরিযায়ী পাখি দেখতে। ক্যাম্পাসে এবার খুব বেশি পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আ-আল মামুন। গত মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) ছাত্রী হল সংলগ্ন পুকুরে তিনি পরিযায়ী পাখিগুলো দেখতে পান। 

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অন্যান্য সময় খুব কম পরিমাণে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। তবে এবারে প্রচুর পরিমাণে পরিযায়ী পাখির আগমন আমাকে মুগ্ধ করেছে।

নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ায় গত কয়েকবছর ধরে আসছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারেও এসেছে। ইতোমধ্যে তিনশ থেকে চারশ এর মতো সরালি পাখি পাড়ি জমিয়েছে ক্যাম্পাসে। এবং দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, চলতি মাসের গত ৫ নভেম্বর থেকে পাখিরা আসতে শুরু  করেছে। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীদের সতর্ক থাকতে বলেছি।

জিএম/এসএস

RTVPLUS