logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু ২৭ জন, আক্রান্ত ২৮৫১ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৭৬০ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনায় কিডনি রোগীর খাদ্যতালিকা

স্বাস্থ্য ডেস্ক, আরটিভি নিউজ
|  ০৬ জুলাই ২০২০, ১৬:০৯ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ১৬:২১
Kidney Patient Diet in Corona Dr. Mausumi Afrin Eva
করোনায় কিডনি রোগীর খাদ্যতালিকা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মৌসুমী আফরিন ইভা
প্রতিটি কিডনি রোগীর জন্য সুষম খাদ্য তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি ফাংশন ও ফেইলরের ধাপ, বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা, রক্তের রিপোর্ট, রোগীর বয়স, ওজন, উচ্চতা, রোগীর কাজের প্রকারসহ নানান বিষয় বিবেচনা করে একটি ব্যালেন্স ডায়েট চার্ট তৈরি করা হয়। সঠিক ডায়েট অনেক দিন রোগীকে রক্তের ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কিডনি রোগীর প্রপার ডায়েটের উদ্দেশ্য হলো- ১) সঠিক পুষ্টিমান বজায় রাখা ২) কিডনি রোগে বিষ ক্রিয়াকে কমিয়ে কিডনির কার্যকারিতা ঠিক রাখা ৩) শরীরের প্রয়োজনীয় আমিষ ক্ষয় রোধ করা ৪) ডায়ালাইসিস এর প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা ৫) ডায়েটের পাশাপাশি ল্যাব টেস্ট এর মাধ্যমে রক্তের সোডিয়াম, পটাশিয়াম, গ্লুকোজ, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ঠিক রাখা।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ কিডনি রোগী অপুষ্টিতে ভোগে। কিডনি রোগী মাছ, মাংস, ডিম, দুধ খাবে না- এটি একটি ভ্রান্তপথ ধারণা। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি ডিজিজের ৫টি স্টেজ আছে। রোগীর খাদ্য তালিকা প্রস্তুত হবে তার কিডনির রোগের প্রকার ও স্টেজের উপর। যেমন ডায়ালাইসিস এবং নন ডায়ালাইসিস- এই দুই রকম রোগীর খাদ্য তালিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সাথে কিডনি রোগের পাশাপাশি রোগী আরও অন্যান্য কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা - সেটিও জানতে হবে। যেমন- ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার, স্ট্রোক, কার্ডিয়াক ডিজিজ ইত্যাদি থাকলে তার খাদ্য তালিকাটি হবে আরেকটু ভিন্ন।

 

প্রোটিন:

প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে কিডনি রোগীদের বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এসব রোগীর ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজনের তুলনায় প্রোটিন বেশি খাওয়া পরলে-তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রোগের স্টেজ বিবেচনা করে ০.৫-০.৮/কেজি/পার ডে প্রোটিন খেতে হবে। ক্যালোরির মাত্রা সঠিক না হলে- খুবরিক্ত প্রোটিন শরীরে জমা হয়ে ইউরিয়া ও নাইট্রোজেন তৈরি করে যা দুর্বল কিডনির পক্ষে অপসারণ করা দুঃসাধ্য হয়ে পরে।

প্রতিদিনের খাবারে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন যেমন-মাছ, মুরগীর মাংস, ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার ৩০-৪০ গ্রাম গ্রহণ করা যাবে। তবে না বুঝে কিডনি রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী প্রোটিন রেসট্রিক্ট করতে গিয়ে সপ্তাহে মাত্র ৩ বা ৪ পিস মাছ বা মাংস খান। তাই খাদ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে অপুষ্টি যেন তৈরি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

 

কার্বোহাইড্রেট:

ডায়াবেটিস না থাকলে শর্করা জাতীয় খাবারে বিশেষ কোনো বাধা নেই। তবে যতটা সম্ভব কম্পেক্স কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। যেমন- গমের আটা, চিড়া, ওটস, মিস্কড গ্রেইন, সাগু ইত্যাদি। কিডনি রোগীর ক্যালরির চাহিদার বেশির ভাগই কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে পূরণ হয়।

 

পানি:

যেহেতু কিডনি রোগীর কিডনির ফিলট্রেশনের কার্যকারিতা কমে যায়, তাই পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। রোগীর পরবর্তী ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম স্টেজ-জি এফ আর অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শক্রমে পানির পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে রোগের স্টেজ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ৮০০-১২০০ সি সি তরল খাবার(চা, ডালের পানি, স্যুপ) খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

 

তেল বা চর্বি:

বেশির ভাগ কিডনি রোগীই উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যায় ভোগে। সাধারণত স্যাচুরেটেড বা সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

 

পটাশিয়াম:

কিডনি রোগীর পটাশিয়াম যুক্ত খাবারে সীমাবদ্ধতা রাখতে হবে। ডাবের পানি, কলা, শুকনো ফল, টমেটো, টক জাতীয় খাবারে লেবু, মালটা, কমলা, আমড়া(সাইট্রিক এসিড সমৃদ্ধ ) খাবারে পটাশিয়াম এর মাত্রা বেশি থাকে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা যেন বেশি মাত্রায় না কমে যায়।

 

ফসফরাস ও মিনারেলস:

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগীদের শরীরে ফসফরাসের মাত্রা খুব বেশি হলে তখন তারা হৃদরোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ক্যালশিয়ামের মাত্রা কমে গেলেও হাড় ভঙ্গুর বা পেশির অবস্থান দুর্বল হতে পারে। প্রোটিন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ খাবার সীমিত করার কারণেও ক্যালশিয়াম কমে যায়। কিডনি রোগে ভিটামিন ডি এর বিপাক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই ফসফরাস টেস্ট এর পাশাপাশি সিরাম ক্যালসিয়াম ও সিরাম ডি 3 লেভেল চেক করে প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে । পাশাপাশি ভিটামিন সি, জিংক, বি কম্পেকস এর ডেফিসিয়েন্সি বা ঘাটতি থেকে থাকলেও সাপ্লিমেন্ট হিসেবে যোগ করা যেতে পারে।

 

যেসব খাবার খাওয়া যাবে না:

১) সোডিয়াম-অতিরিক্ত লবন খাওয়া যাবে না। এতে শরীরে পানি জমবে সেই সাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। যেসব খাবারে লবন বেশি, যেমন- আচার, চিপস, শুঁটকি মাছ, সল্টেজ বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর, সয়াসস খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

২) সব প্রকার কোমল পানীয়

৩) সম্পৃক্ত বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যেমন- ঘি, মাখন, ডালডা, পনির, নারকেল তেল

৪) শুকনো ফল যেমন-খেজুর, কিসমিস, কাজুবাদাম ইত্যাদি

৫) টিনজাত এবং ফর্মুলা খাবার

৬) কোকো পাউডার দিয়ে তৈরি সব প্রকার খাবার। যেমন- চকলেট, কেক, আইসক্রিম।

৭) মাটির নিচের শাকশবজি- আলু, মিষ্টি আলু, কচু, পাশাপাশি পুঁই শাক, পালং শাক, সব প্রকারের ডাল, সীমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ( পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার) খাওয়া যাবে না। এতে করে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। তবে গাজর, মূলা, পেয়াজ পরিমিত খাওয়া যাবে।

৮) যেসব খাবারে পটাশিয়াম বেশি থাকে যেমন-ডাবের পানি, কলা, আঙ্গুর, নারকেলের তৈরি খাবার, সব প্রকার স্কোয়াস, কামরাঙ্গা, অ্যালোভেরার রস খাওয়া যাবে না।

এসব খাবারের পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন-

# যখন তখন না বুঝে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না।

# ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

# রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ত্রণে রাখতে হবে

# ধূমপান ও মদ্যপান করা যাবে না।

# BMI-অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

# নিয়মিত ঘুমাতে হবে এবং দুঃচিন্তা পরিহার করতে হবে।

# পরিবারের কারো কিডনি রোগ থেকে থাকলে শতর্ক হোন। নিয়মিত রুটিন চেকআপ করাতে হবে।

 

যেসব খাবার খেতে পারবেন:

# লাউ, জালি পটল, ঝিংগা, চিচিঙ্গা, কাঁচা পেঁপে, করলা, শালগম(ভিটামিন-সি, বি-৬), মুলা(ফসফরাস), মাশরুম(সেলেনিয়াম, ম্যান্গানিজ) -ইত্যাদি সবজি বিচি বাদে খাওয়া যাবে। সবজি ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে

# ফল- কালো জাম(অ্যান্টি অক্সিডেন্ট) আপেল(খোসা ছাড়া, নাসপাতি, বেদানা, পেয়ারা, পাকা পেঁপে, বড়ই, আনারস(ব্রোমেলিন, ম্যান্গানিজ), চেরি(প্রো অ্যান্থসায়ানাইড), ইত্যাদি

# তেল- অলিভ অয়েল( মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট) খেতে পারবে।

# কিডনি রোগীরা রসুন খেতে পারবে(সালফার) ।

# প্রতিদিনের খাবারে পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম ও প্রোটিন এর পরিমাণ সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

 

উল্লেখ্য যাদের বিভিন্ন রকম কো মরবিডিটিজ আছে, -তাদের খাদ্য তালিকায় কিছুটা ভিন্নতা থাকবে। প্রোপার মেডিকেশনের পাশাপাশি অনেক খাবারই বেছে খেতে হবে। সেক্ষেত্রে নিয়ম মতো অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ানের সরণাপন্ন হয়ে প্রোপার মেডিকেশন, লাইফ স্টাইল এবং ডায়েট চার্ট তৈরির মাধ্যমে প্রাতাহিক জীবনযাপনের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

 

ডা. মৌসুমী আফরিন ইভা

কনসালট্যান্ট-পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার

২৪৫/২ নিউ সার্কুলার রোড, মালিবাগ, ঢাকা

ডায়াবেটলজিস্ট, ফ্যামিলি ফিজিসিয়ান অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ান

 

সি/

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২৫২৫০২ ১৪৫৫৮৪ ৩৩৩৩
বিশ্ব ১৯২৮১৯২৮ ১২৩৭৭১৩৩ ৭১৮০৬১
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ
  • লাইফস্টাইল এর পাঠক প্রিয়