logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিকে প্রয়োজন পড়বে অ্যামাজন মালিকের, কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৫:১০ | আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৫:২৯
অ্যামাজন, রিলায়েন্স, জেফ বেজোস, মুকেশ আম্বানি
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিশাল খুচরা বাজার ধরতে দেশটির শীর্ষ ধনীর সঙ্গে একটি চুক্তি করার চেষ্টা করছেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোস। দ্য ইকোনোমিক টাইমস ও রয়টার্স গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় রিটেইলার রিলায়েন্স রিটেইলে বিনিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন বেজোস। এই দুই গণমাধ্যমকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে,  রিলায়েন্স রিটেইলের প্রায় ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কিনে নিতে চাইছে অ্যামাজন।

bestelectronics
রিলায়েন্সের একজন মুখপাত্র সিএনএন বিজনেসকে বলেন, আমরা গণমাধ্যমের অনুমান ও গুজবের ব্যাপারের কোনও মন্তব্য করি না। আমাদের প্রতিষ্ঠান সবসময়ই বিভিন্ন সুযোগের বিষয়ে মূল্যায়ন করে থাকে। ওই মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা আমাদের বাধ্যবাধকতা মেনেই প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করে এসেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।

তবে অ্যামাজন ইন্ডিয়ার একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ভারতজুড়ে রিলায়েন্স রিটেইলের প্রায় ১১ হাজার দোকান রয়েছে এবং তারা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে মুদি পণ্যও বিক্রি করে থাকে। ভারতে নিজেদের ব্যবসা বিস্তারে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অ্যামাজন আর রিলায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি হলে তাদের অবস্থান শক্তও হবে।

----------------------------------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: দিল্লিতে বহুতল ভবনে আগুন, শিশুসহ নিহত ৬
----------------------------------------------------------------------------------------

ভারতের অনলাইন রিটেইল মার্কেটের দখলে প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্টের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে অ্যামাজনকে। ২০২৭ সাল নাগাদ ভারতের অনলাইন রিটেইল মার্কেটের আকার ২০০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পুরো রিটেইল মার্কেটের আকার ৬৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টার জানিয়েছে, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠান ফ্লিপকার্ট ভারতের ই-কমার্সের ৩০ শতাংশের বেশি জায়গা দখল করে আছে। যদিও ফ্লিপকার্ট কিছুটা এগিয়ে আছে।

ফরেস্টারের বিশ্লেষক সতীশ মীনা বলেন, অ্যামাজন সাপ্লাই চেইন ও অফলাইন স্টোরসহ অফলাইন ইনফ্রাস্ট্রাকারের মার্কেট ধরতে চাইছে। কেননা অফলাইনে উপস্থিতি না থাকলে বড় বাজার ধরা অ্যামাজনের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

সিয়াটল ভিত্তিক কোম্পানিটি ভারতে তাদের অস্তিত্ব আরও বেশি করে জানান দিতে চাচ্ছে। ২০১৭ সালে অ্যামাজন ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইন শপার্স স্টপের একটি ছোট স্টেক কিনে নেয় এবং পরবর্তী বছর গ্রোসারি চেইন মোর-এ বিনিয়োগ করে। তবে রিলায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি হলে ভারতজুড়ে কয়েক হাজার স্টোরে প্রবেশাধিকার পাবে অ্যামাজন; বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ খুব একটা ভালো নয়। ভারতের ছয় হাজার ৭০০-র বেশি শহর ও ছোট টাউনে রিলায়েন্সের আউটলেট আছে।

আম্বানির রিলায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি হলে কিছু বাড়তি সুবিধা পেতে পারে অ্যামাজন। কেননা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান দেশটির অন্যতম বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক রিলায়েন্স জিও-র মালিক, যেটির ৩০০ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। রিলায়েন্স জিও-র সস্তা মোবাইল ইন্টারনেটের কারণে লাখ লাখ ভারতীয় অনলাইনে থাকছে। এদিকে অনলাইনে অ্যামাজনের এমনিতেই শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে; রিলায়েন্স জিও-র নেটওয়ার্কের অ্যাকসেস পেলে প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিপুল সংখ্যক ভারতীয়র সামনে হাজির হতে পারবে অ্যামাজন।

আম্বানি ইতোমধ্যেই তার ডিজিটাল ও রিটেইল ব্যবস্থা একত্রিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। জানুয়ারি মাসে নিজেদের একটি ই-কমার্স প্লাটফর্ম চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সেক্ষেত্রে অ্যামাজনের সঙ্গে চুক্তি করলে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নও বেগবান হবে।

ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেসের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কিরণ পেদাদা বলেছেন, এই চুক্তি হলে রিলায়েন্স রিটেইল ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি ই-কমার্স প্লাটফর্মের অ্যাকসেস পেয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, অ্যামাজনের প্রযুক্তি এবং তাদের বৈশ্বিক জ্ঞান অভিজ্ঞতার অ্যাকসেস পাবে রিলায়েন্স।

ভারতের মার্কেটে আধিপত্য বিস্তারে প্রতিযোগিতায় নেমেছে অ্যামাজন। জানা গেছে, এজন্য তারা গত বছর ফ্লিপকার্টকে কেনারও চেষ্টা করে কিন্তু ওয়ালমার্টের কাছে হেরে যায়।

এদিকে ই-কমার্স নিয়ে ভারত সরকারের নতুন নিয়মের কারণে বিপাকে পড়েছে অ্যামাজন ও ওয়ালমার্ট। ওই নিয়মানুযায়ী বড় ছাড় দেয়া এবং ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে দিয়েছে দেশটির সরকার।

তবে ভারতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিকে কাছে পেলে সরকারি ওই বিধিনিষেধের ব্যাপারে কার্যকরভাবে লবি করতে পারবে অ্যামাজন।

তবে ভারতে নিজেদের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা ছাড়িয়ে যাওয়াটাই সম্ভবত অ্যামাজনের অগ্রাধিকার। ফরেস্টারের মীনা বলেন, যদি (রিলায়েন্সের সঙ্গে চুক্তি) হয়; তাহলে তা ওয়ালমার্ট ও ফ্লিপকার্টের জন্য খুব কঠিন হবে।

এ/সি

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়