logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

অনুষ্ঠিত হলো মুক্তবাকের প্রযোজনা ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০১ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:১০
মুক্তবাক বিদায় দে মা ঘুরে আসি
রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হলো মুক্তবাকের আবৃত্তি প্রযোজনা ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’। শহিদ জননী জাহানারা ইমাম রচিত ‘৭১-এর দিনগুলি’র কিশোর ভাষ্য-এর নানা পর্যায়ে দেশাত্মবোধক গান সংযোজন করে নান্দনিক এই প্রযোজনার গ্রন্থনা করেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী, প্রশিক্ষক ইকবাল খোরশেদ।

আমরা যখন বাংলাদেশ নিয়ে ভাবি, ইতিহাসের নানা বাঁক ঘুরে একটি পতাকা, একটি ভূখণ্ড আর সার্বভৌমত্ব রচনায় অগণন মানুষের রক্ত-ঋণ আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয় নয় মাস জুড়ে চলতে থাকা এক মহাকাব্যের সামনে। অমিত সাহস, শৌর্য, দক্ষতা আর বুকভরা দেশপ্রেম নিয়ে হাজার রুমি, বদি, গাজী, হাফিজ, বাসার, আলতাফ মাহমুদ, জুয়েল আমাদের ঘিরে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ নামের অনিন্দ্য-সুন্দর ভূখণ্ড আর এর ইতিহাস নতুন করে জানতে, চিনতে, বুঝতে ও ভাবতে শেখায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়। বারবার আমরা ফিরে আসি ইতিহাসের কাছে, একাত্তরের কাছে। তাই মনে ও মননে স্বপ্ন ও বাস্তবতার মিশেলে এই পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের সবুজ আর রক্তে রঞ্জিত দেশটির গৌরবগাঁথা তুলে ধরি। মুক্তিযোদ্ধাদের মা জাহানারা ইমাম-এর ‘একাত্তরের দিনগুলি’ উপন্যাসের কিশোর ভাষ্য ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ অনন্যসাধারণ এক আলেখ্য। এই আলেখ্য এমনই আকর্ষণীয়, মর্মস্পর্শী আর বেদনা ও গৌরবগাঁথার, যা বারবার আমাদের আলোড়িত করে। বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছে। শহিদ জননী জাহানারা ইমাম জনতার আদালত গঠন করেছিলেন

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবার জন্যে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য এই প্রযোজনাটি খুবই প্রাসঙ্গিক। জাহানারা ইমামের হৃদয়গ্রাহী বর্ণনায় মুক্তবাকের আবৃত্তিশিল্পীরা তাদের কণ্ঠে তুলে এনেছেন একাত্তর সালের সেই উত্তাল দিনগুলো। মিলনায়তনে বসে দর্শক-শ্রোতা যেন চোখের সামনে দেখছিলেন ঢাকা শহরের গেরিলা যুদ্ধ, মেলাঘরের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, শহিদ রুমির এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ি আর ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয়ের মুহূর্তে মুক্তিযোদ্ধাদের উল্লাসধ্বনি। 

মুক্তবাকের এই প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেছেন আশরাফ আলী সরকার লিখন, রুবিনা শাহনাজ, রহমত আরা বেগম লিপি, রায়হান হায়দার রঞ্জন, অদিতি অমৃতারাজ, ইরাম মাহফুজা, সৈয়দা তাসনিম আরা, সাদিয়া আফরিন, জান্নাতুল ফেরদৌস রোজা, আলমগীর হোসেন উজ্জ্বল, অমিয়া অমানিতা। আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন অম্লান বিশ্বাস। সংগীত পরিচালনা করেছেন অদিতি অমৃতারাজ। বাঁশিতে অংশ নিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাস।

এম/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়