• ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

সানজারী দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ: মিলা

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৫ মে ২০১৯, ২২:০১
জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মিলা ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে বৈমানিক পারভেজ সানজারির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর গানে হয়ে পড়েন অনিয়মিত। জড়িয়ে যান সংসার জীবনে। কিন্তু সেই সংসারে অশান্তির আগুনে জ্বলেছেন তিনি। সম্প্রতি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অমানবিক নির্যাতনের কারণে ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন এই কণ্ঠশিল্পী। এছাড়া কদিন ধরেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নানা নির্যাতন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। ৪ মে তিনি আরও একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি আরটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। 

‘বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়া’র সন্মানিত সদস্যবৃন্দ, সঙ্গীতাঙ্গনের সদস্য, সঙ্গীতপ্রেমী বন্ধুদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু কথা

একজন ব্যক্তি যখন নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভেবে সীমাহীন বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যখন তাকেই অনৈতিকভাবে আশকারা দিতে থাকে কিছু মহল, তখন নিশ্চয়ই বিবেকবান যে কেউ প্রতিবাদী হবেই। প্রতিটি সমাজেই একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি আছে। আধুনিকতা মানুষকে শুধু অগ্রসরমান হতেই শেখায় না, আধুনিকতা মানুষকে শিষ্টাচার হতেও সাহায্য করে। ইংরেজিতে ‘ফ্যামিলি ভেল্যুজ’ বলে একটা শব্দ আছে যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় পারিবারিক মূল্যবোধ। আমাদের সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ বিরাজমান বলেই আমরা একটি নির্দিষ্ট প্রথার ভেতর বসবাস করি। আর একারণেই সমাজ অজস্র মন্দ বিষয় থেকে মুক্ত থাকে।

প্রতিটি বিবাহিত দম্পতির ক্ষেত্রে একে-অপরের প্রতি বিশ্বস্ত হওয়া একান্তই আবশ্যক। এটা না থাকলে পারিবারিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়বে। ধ্বংস হয়ে যাবে সমাজ। আর এর ফলে আক্রান্ত হবে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা। বিয়ে মানেই হচ্ছে একটি এমন অঙ্গীকার যা আজীবন স্বামী-স্ত্রী রক্ষা করেন, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে। আমাদের মতো পুরুষ শাসিত সমাজে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দাম্পত্য বোঝাপড়া এবং সুখ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুরুষ বা স্বামীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কোনো কারণে যদি ওই স্বামীই হয়ে ওঠে দূরাচারী, সে যদি নিজের স্ত্রীর মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করে ক্রমাগতভাবে প্রিয়তমা স্ত্রীকেই প্রবঞ্চিত করতে থাকে; যদি স্ত্রীর অজ্ঞাতে জড়াতে থাকে একের-পর-এক পরকীয়ায়, তাহলে ওই দম্পতির, বিশেষ করে স্ত্রীর মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়, সেটা আপনারা সবাই জানেন ও বোঝেন। আমাদের এই দেশে প্রতিনিয়ত স্বামীদের এ ধরনের অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এসিডে ঝলসে দেয়া হচ্ছে প্রবঞ্চিতা স্ত্রীদের– নারীদের। সভ্যতার এই সময়ে এসে এমন জঘন্য পরিস্থিতির কষ্ট শুধু ভুক্তভোগীরাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

আপনারা জানেন, আমি এসএম পারভেজ সানজারী ওরফে লেলিনকে ২০১৭ সালে বিয়ে করি। কিন্তু আমি হতবাক হয়ে লক্ষ্য করি, সানজারী বিয়ের পর থেকেই কেমন যেন অচেনা আচরণ করতে থাকে। সে প্রায়ই বিভিন্ন লোকের সাথে লুকিয়ে-লুকিয়ে ফোনে কথা বলতো। আমি জানতে চাইলে সে শুধু মারমুখীই হতো না বরং নিয়মিতভাবেই আমার ওপর চালাতো অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

সানজারী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স নামের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে কর্মরত আছে। এই সুযোগে সে নিয়মিতভাবেই এয়ারলাইন্সের নারী স্টাফ এমনকি বিমানবালাদের শয্যাসঙ্গিনী হতে বাধ্য করতো কিংবা ওদের সাথে প্রেমের ভান করে শয্যাসঙ্গিনী করতো, যা এখনও থেমে যায়নি। সানজারীর নষ্ট লালসা থেকে ইউএস বাংলা’র কোনও নারী সদস্যই রেহাই পাননি। আমার কাছেই এধরনের অজস্র প্রমাণ আছে, যা প্রবঞ্চিত-প্রতারিতরাই বিভিন্ন সময়ে পাঠিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়। সানজারী মিডিয়ার অনেক অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পীদেরও মিথ্যে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নষ্ট করেছে, এখনও করছে। আবার এমন কিছু বিতর্কিত অভিনেত্রীও আছে, যারা টাকা কিংবা অন্য কিছুর লোভে ইচ্ছে করেই সানজারী’র সাথে সম্পর্ক গড়েছে, দৈহিক মেলামেশাও করেছে, এখনও করছে। আমি জানি না, ওইসব অভিনেত্রীদের স্বামীরা ঠিক কোন পর্যায়ের নির্লজ্জ– নাকি ওনারা অসহায় সেটাও জানি না। তা না হলে, নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার কথা এমনকি ওই পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার ঘটনা জানার পরও ওরা কেন নিশ্চুপ আছেন আমি বুঝি না। কখনও-কখনও আমার এমনটাও সন্দেহ হয়, ওইসব স্বামী নামধারী কুলাঙ্গারগুলো হয়তো ওদের অভিনেত্রী স্ত্রীদের বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেই ব্যবহার করছেন। হয়তো আমার অনুমান ভুল নয়।

সানজারীর সব অপকর্ম, এমনকি দেশের নিরাপত্তার জন্যে হুমকিস্বরূপ নানা কার্যকলাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে আমার সম্পর্কে নানা বানোয়াট কথাবার্তা বলে মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। সে বলে বেড়াচ্ছে আমি নাকি তাকে তার বাবা-মাকে ত্যাগ করার শর্ত দিয়েছি। কি জঘন্য মিথ্যাচার! আমার কাছে প্রমাণ আছে সানজারীর মায়ের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তিনি বহুবার আমায় বলেছেন ওনার ছেলে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনও পর্যায়ে গেলে একজন মা তার নিজের সন্তান সম্পর্কে এমন কথা বলতে বাধ্য হন, সেটা বিবেচনার ভার আপনাদের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

সানজারী আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে ক্রমাগত কুৎসা রটাচ্ছে এবং আমার পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে; যা দেশের প্রচলিত আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি বিশ্বাস করি দেশের বিবেক সম্পন্ন সাংবাদিক বন্ধুরা এসব মিথ্যাচারে কান দেবেন না।

এসএম পারভেজ সানজারী ওরফে লেলিন-এর অর্থ লিপ্সা সম্পর্কে আমি আগেই বলেছি। তার নৈতিক চরিত্র সম্পর্কেও অনেক কথাই আগে বলেছি। যদিও আমার কাছে বলার মতো আরও অজস্র প্রমাণ আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের প্রতি আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। একজন ক্যাপ্টেন ও বিমান বাহিনীর সাবেক অফিসার হওয়ার সুবাদে সানজারীর বিমানবন্দরের অতি স্পর্শকাতর এলাকাসহ সেনানিবাস এলাকায় অবাধ বিচরণ আছে। সে কিছু সেনা অফিসারের স্ত্রীর সাথেও অনৈতিক কার্যকলাপ করেছে বলে ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তি কেবলমাত্র সেনানিবাসগুলোয় বসবাসরত পরিবারগুলোর জন্যেই ক্ষতিকর নয় বরং এমন অর্থলোভী নৈতিকতা বিবর্জিত ব্যক্তিকে দিয়ে যেকোনো ধরনের ভয়ঙ্কর কাজ করানোও অসম্ভব নয়। সে এমনকি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ খোদ ভিভিআইপিদের জন্যেও যেকোনো সময় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ বিষয়টি এরই মাঝে আমি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি। এখন এটা আর কেবলমাত্র আমার ব্যক্তিগত ইস্যু নয়– বরং নিঃসন্দেহে এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়।

আমার নিজের জীবনের ওপর হুমকি আছে। সানজারী নিজেই মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আমায় হুঁশিয়ার করেছে সে তার নিজের অস্ত্র দিয়ে যখন-তখন আমায় হত্যা করবে। একথাটা সে আমার সাবেক সেনা অফিসার বাবাকেও জানাতে দ্বিধা করেনি।

এতো কিছুর পরও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অন্যায় হুমকির কাছে মাথা নত করবো না। যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাশাপাশি আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আবারও সঙ্গীতের প্রতি মনোযোগী হবো। খুব শিগগিরই আপনারা আপনাদের প্রিয় মিলা’র নতুন গান শুনবেন। আমার পথচলায় আমি ঠিক যেভাবে আপনাদের সহযোগিতা এবং ভালোবাসা পেয়েছি, তা আগামীদিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। আমার ও আমার পরিবারের জন্যে দোয়া করবেন। আপনাদের সবার প্রতি পবিত্র রমজানের আগাম শুভেচ্ছে।’

এম/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়