• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬

শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী ‘মুক্তিযুদ্ধ নাট্য উৎসব ২০১৯’

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৬ মার্চ ২০১৯, ১৮:৫৯

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী ‘মুক্তিযুদ্ধ নাট্য উৎসব ২০১৯’ শেষ হয়েছে। গত ১৪ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মঞ্চস্থ হবার মাধ্যমে এই আয়োজন শেষ হয়।

জামিল আহমেদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় শহিদুল জহিরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা-এর মোট ১৫টি প্রদর্শনী মঞ্চস্থ হয়। উৎসবটির আয়োজক প্রযোজনাভিত্তিক নাট্যসংগঠন স্পর্ধা এবং সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নাটকের পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী বাংলাদেশের গল্প নিয়ে। ১৯৮৫ সালের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১৪ বছর পর লক্ষ্মীবাজারের চৌধুরী লেনের যুবক আবদুল মজিদ বাজারে যাওয়ার জন্য বের হয়। পথিমধ্যে তার পায়ের স্যান্ডেল ছিঁড়ে যায়। সে দেখে, রাস্তার উল্টোদিকে মাইক্রোফোন হাতে আবুল খায়ের জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। তবে একাত্তর সালে প্রথম যেদিন লক্ষ্মীবাজার এলাকায় মিলিটারি আসে, সেদিন আবুল খায়েরের পিতা বদরউদ্দিন মাওলানার নির্দেশে একদিনে সাতজন মানুষ খুন হয় এবং তিনজন নারী সম্ভ্রম হারায়।

ডিসেম্বরে আবদুল মজিদের বোন মোমেনাকেও তুলে নিয়ে যায় বদু মাওলানার রাজাকার বাহিনী। বোনকে চার দিন পর রায়েরবাজারের পশ্চিম প্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর কিনারায় খুঁজে পেয়েছিল আবদুল মজিদ। মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহ দেখে আবদুল মজিদের মায়ের কান্না জমে গিয়েছিল।

যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, বদু মাওলানা পালিয়ে যায়। কিন্তু দুই বছর পর ১৯৭৩ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলে সে আবার লক্ষ্মীবাজারে ফিরে আসে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের স্থানীয় নেতা লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা আজিজ পাঠান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাড়ি মিলিটারির সহায়তায় লুট করে বদু মাওলানা। সেই আজিজ পাঠান বলেন, আমার নেতা যেহেতু বদু মাওলানাদের মাফ করছে, আমার নিজের কোনও প্রতিহিংসা নাই।

১৯৮৬ সালে আবদুল মজিদের ঘরে নবজাতক কন্যা আসে। মজিদ বোনের নামে মেয়ের নাম রাখেন মোমেনা। বদু মাওলানা আবদুল মজিদকে একদিন রাস্তায় থামিয়ে বলে, ‘বোনের নামে মেয়ের নাম রাখছ, বোনরে ভুলো নাই!’ বদু মাওলানার কথা শুনে আবদুল মজিদ মনে মনে বলেন, আবদুল মজিদরা একাত্তরের নয় মাসের কথা ভোলেনি। একসময় আবদুল মজিদ মহল্লা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবেই নাটকটি এগিয়ে যায়।

‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ নাটকটি মঞ্চস্থ হবার পর বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ১৪-২০ মার্চের মধ্যে এর ১১টি প্রদর্শনী হয়। পরবর্তীতে ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ আরও ৪টি প্রদর্শনী হয়। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন বিভিন্ন নাট্যসংগঠনের কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

জিএ/ডি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়