• ঢাকা রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
logo
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
গাজীপুরে এক রাতে ২ কৃষকের ৮ গরু চুরি
গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়ায় কৃষকের গাভিসহ ৮টি গরু চুরি হয়েছে। রোববার (৯ জুন) ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে চোরেরা গোয়াল ঘর থেকে গরু নিয়ে যায়। শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামের বিউটি আক্তারের তিনটি এবং কাপাসিয়ার বামনখলা গ্রামের হারুন মিয়ার গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়। এতে ওই দুই কৃষকের প্রায় ৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।  সোমবার (১০ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত দুই কৃষক তাদের গরু চুরির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে বামনখলা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে হারুন বলেন, রোববার ভোরে গোয়াল ঘর থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়েছে। গরুগুলো আমি কোরবানির ঈদের বাজারে বিক্রি করার জন্য পালন করে আসছি। আগের দিন সন্ধ্যায় খাবার দিয়েছি। রাত আড়াইটার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে আমি ঘুমাতে যাই। ভোরে উঠে দেখি গোয়াল ঘরে থেকে গরু চুরি হয়েছে। আমার ৫টি গরুর মূল্য বর্তমান বাজারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা হবে। প্রতিবেশী জামাল সিকদার ও রশিদ সিকদার বলেন, আমাদের গরুও চুরি করে পিকআপ ভ্যানে উঠাচ্ছিল চোরেরা। এ সময় খোঁজ পেয়ে ধাওয়া দিলে চোর গরু রেখে পিকআপ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া বলেন, গরু চুরির ঘটনায় পুলিশ কৃষকের বাড়ি পরিদর্শন করেছে। রাতে পুলিশি টহল আরও বাড়ানো হবে। এ দিকে শ্রীপুরে এক নারীর শেষ সম্বল গাভিসহ তিনটি গরু চুরির হয়েছে। ভোর রাতে চোরেরা গোয়াল ঘরের তালা কেটে গরু নিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত নারী বিউটি আক্তার শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ এলাকার মৃত সাহাব উদ্দিনের মেয়ে। বিউটি আক্তার জানান, তিনি শনিবার রাত ১১টার দিকে গোয়াল ঘরে গরুগুলো বেঁধে দরজায় তালা দিয়ে ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরের তালা কাটা দেখে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করেন। পরে গোয়াল ঘরে গিয়ে গরু দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও না পেয়ে শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিউটি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওই তিনটি গরুই আমার শেষ সম্বল ছিল। চুরি হওয়া তিনটি গরুর মধ্যে একটি গাভি ২ কেজি দুধ দিতো। সিন্ধী গাভি পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিল। ছাই রঙের দুধের গাভির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা, সিন্ধী লাল রঙের গাভির মূল্য এক লাখ টাকা এবং ষাঁড় বাছুরের মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা বলেন, একই রাতে প্রতিবেশী তিন বাড়িতে চোরেরা হানা দিয়ে গরু চুরি করার চেষ্ট করেছে। গরু চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমাতে পারে না। ধারণা করা হচ্ছে, চোরেরা গভীর রাতের কোনো এক সময় গোয়াল ঘরের তালা কেটে পিকআপভ্যানে করে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন বলেন, গরু চুরির ঘটনায় এক নারী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। গরু চুরি রোধে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় শিশু নিহত
শ্রীপুরে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১
শ্রীপুরে অটোরিকশার ধাক্কায় পথচারী নিহত
র‌্যাব পরিচয়ে কারখানা কর্মকর্তাদের তুলে নিয়ে বোনাসের টাকা লুট
শ্রীপুরে শিক্ষককে ৩ দিনের জেল
গাজীপুরের শ্রীপুরে গোসিংগা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে ৩ দিনের জেল দিয়েছেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ইমাম রাজি টুলু।  মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল ১০টায় এ শাস্তি দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল হাসান খান (৪৪) গোসিংগা গ্রামের ফাইজুদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলার রাজেন্দ্রপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।  গোসিংগা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হক শেখ বলেন, ‘বারবার ঘোরাফেরা করা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এ দণ্ড দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট।’ প্রিসাইডিং অফিসার আরও বলেন, ‘এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৫ জন। মোট বুথ ৮টি। কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত ১২০টি ভোট কাস্টিং হয়।’ শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শোভন রাংসা জানান, ‘শ্রীপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭১৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৬ জন। মোট ভোট কেন্দ্রে ১৪৮টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৯৮৪টি। শ্রীপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘এ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী তিন জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ৯ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’ 
কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার হাতে চাচাকে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  রোববার (১৯ মে) কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কাজাহাজী (বড়টেক) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত চাচা সবুজ মিয়া ফকির (৪৫) কাপাসিয়া উপজেলার কাজাহাজি গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে। আহত সিয়াম (১৭) একই গ্রামের নিহত সবুজ মিয়ার ছেলে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া জানান, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কাজাহাজী (বড়টেক) গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমির কাঁঠাল গাছ থেকে সবুজ মিয়া ফকির ও তার ছেলে সিয়াম কাঁঠাল পাড়তে যায়। এ সময় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে নিহতের সহোদর বড় ভাই  ফারুক ফকির ও তার আপন ভাতিজা আবু বক্কর ছিদ্দিকের সঙ্গে বাগবিতন্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভাতিজা আবু বক্কর ছিদ্দিকের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করে চাচা সবুজ মিয়া ফকির এবং তার ছেলে সিয়ামকে গুরুতর আহত করে।  ওসি আরও জানান, পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
শ্রীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় রেলসেতু থেকে পড়ে নিহত ২
গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় রেলসেতু থেকে ছিটকে পড়ে ২ বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।  রোববার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে সুতিয়া নদীর ওপর রেলসেতুতে এই ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, সেতুটি ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলাকে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুক্ত করেছে। শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী রেলসেতু পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় সেতুর নিচে পড়ে গিয়ে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। নিহতদের একজন গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার মাখল গ্রামের জিরাদিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৭০)। নিহত অপর জনের পরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আল আমিন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা দুজন ময়নসিংহের গফরগাঁও উপজেলার গয়েশপুর বাজার থেকে রেলসেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ বাজারে আসছিলেন। ট্রেন আসতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করলেও তারা দুজন তাড়াহুড়ো করে ব্রিজ পার হওয়ার চেষ্টা করেন। সেতুর প্রায় শেষ সীমানায় পৌঁছে গেলেও ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী দ্রুত গতির ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেন সেতুর ওপর উঠে গেলে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় তারা সেতু থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান।  কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আল আমিন বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় দুজন মারা গেছেন। রেলওয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।’
থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর, দেখতে মানুষের ভিড়
চারদিকে বাঁশ আর নেটের বেড়া। লতানো গাছের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো ফল সবুজ আঙুর। ফলে ফলে ছেয়ে গেছে পুরো বাগান। দেশের মাটিতে এত সুন্দর আঙুরের বাগান, যে কেউ দেখলেই অভিভূত হবেন। এই ফলটি ভিনদেশি হলেও বহুকাল ধরে এ দেশের মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে এই টসটসে রসে ভরা আঙুর। কিন্তু পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও নেই দেশে এর তেমন চাষাবাদ। তাইতো চড়া দামে কিনতে হয় এই পচনশীল দামি ফল। দেশে এর চাহিদা মেটাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সবুজ নামে এক যুবক।  তার বাগানে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, লতায় পেঁচানো গেট সদৃশ মাচার ভেতর দিয়েই ঝুলছে আঙুর। এমন সফলতা দেখতে উদ্যোক্তা, চাষিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন তার বাগানে।  ইউটিউবে একজন ব্যক্তির আঙুর চাষের সফলতার ভিডিও দেখে উৎসাহিত হন সবুজ। তারপর সেই অনুযায়ী তিনি গাছ রোপণ ও চাষাবাদ শুরু করেন। তিনি চান দেশের যুবকরা যদি এই বিদেশি ফল চাষে উৎসাহিত হন তাহলে নিজেদের আমদানি নির্ভরতা কমবে। অন্যান্য ফল-ফসলের মতো বিদেশি আঙুর চাষেও সফল হওয়া যায়—এটি প্রমাণ করেছেন যুবক সবুজ। তাকে দেখে অনেক চাষি উৎসাহিত হবেন। আঙুরের মতো একটি বিশেষ ফলের চাহিদা মিটবে অদূর ভবিষ্যতে। মাচায় আঙুর চাষ দেখে অভিভূত এলাকাবাসী। তারা জানান, উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো একজন সফল চাষি হিসেবে সবুজ তার স্বাক্ষর রেখেছে। কমলা, আম, পেঁপেসহ নানা জাতের ফলের মধ্যে আঙুরের চাষ ব্যতিক্রম। এটি সবুজের ফল বাগানের সৌন্দর্য ও সফলতার প্রকাশ ঘটিয়েছে।  শ্রীপুরের মাটি আঙুর চাষের জন্য উপযুক্ত। প্রাথমিকভাবে তা করে দেখিয়েছেন সবুজ। সার ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ প্রয়োগের ব্যাপারে নানাভাবে তাকে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষিবিদরা। সবুজকে দেখে অন্য চাষিরাও আঙুর চাষে সফল হবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দর্শনার্থীদের।  তথ্য ও ভিডিও: রায়হানুল ইসলাম আকন্দ।  
পিকআপকে পেছন থেকে ডাম্পট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণ শ্রমিক বহনকারী পিকআপকে পেছন থেকে ড্রাম্পট্রাকের ধাক্কায় পিকআপ উল্টে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী নির্মাণ শ্রমিকসহ আহত হয়েছেন ১২ জন।  শনিবার (৪ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় শ্রীপুর পৌরসভার মধ্য ভাংনাহাটি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ডুলোরা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাসেল মিয়া (২৫) এবং একই থানার ভুলোরা গ্রামের আমীর হোসেনের ছেলে আবু সুফিয়ান (২৭)। এ ঘটনায় আহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের চর শোলাকিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২২), নেত্রকোনার শাহাব উদ্দিনের স্ত্রী পারভীন (৪২), সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার সামারচর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে আলমগীর হোসেন (১৬), শুক্কুর মাহমুদের ছেলে আবু হানিফ (২০), একই গ্রামের শাহজাহান ফকিরের ছেলে সূর্য্য (২৮), আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে আমীর মিয়া (৫০), একই উপজেলার বজেন্দ্রগঞ্জ গ্রামের ধনাই মিয়ার ছেলে লাল মিয়া (৪০), দিরাই উপজেলার আব্দুর রশীদের ছেলে নূর ইসলাম (২০), একই উপজেলার নেয়াগাঁও গ্রামের সমর আলীর স্ত্রী আম্বিয়া (৩০), গড়িয়া গ্রামের আইনুদ্দিনের ছেলে ওহাব উদ্দিন (৩০), ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বীর আহম্মদপুর গ্রামের ফেরদৌস মিয়ার ছেলে মহসীন (২৮), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডুলোরা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে এরশাদ (২৫), একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাসেল (২০)। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সারা ফারুকি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে রাসেল মিয়া ও সুফিয়ানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহত ৩ জনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল এবং ৬ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৩ জন এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।    শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১৪ জনের নির্মাণ শ্রমিক উপজেলার গোসিংগা এলাকা থেকে কাজ শেষে মাওনা চৌরাস্তায় যাচ্ছিলেন। শ্রীপুর-মাওনা সড়কের ভাংনাহাটিসংলগ্ন এলাকায় পৌছালে দ্রুত গতির ড্রাম্পট্রাক পেছন থেকে পিকআপকে ধাক্কা দিলে সড়কের পাশে উল্টে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত এবং এক নারী শ্রমিকসহ ১২ জন আহত হন। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত ডাম্পট্রাক জব্দ করা হয়েছে তবে চালক পালিয়ে গেছেন। আহত ও নিহতের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শ্রীপুরে সড়ক সংস্কারের দাবিতে ৭ গ্রামবাসীর মানববন্ধন
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ কলেজ রোডটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সাত গ্রামের শত শত মানুষ।  রোববার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ কলেজ রোডের প্রবেশমুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন মোড়ল, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাত গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অংশগ্রহণকারীরা জানান, শতবর্ষী পুরনো রাস্তাটি প্রথমে মাটি ফেলে ও পরবর্তীতে ‘ইটের সলিং’ করে উন্নয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি কার্পেটিংয়ের জন্য সরকারিভাবে দরপত্র দিয়ে উন্নয়ন সংস্কারকাজ শুরুর আড়াই মাস পর বন বিভাগের লোকজন কিছু অংশে বাধা দিচ্ছে। অথচ রাস্তাটি শতবর্ষী পুরনো। গাজিয়ারন গ্রামের পলাশ মিয়া জানান, এটি আমাদের সাত গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। আমাদের পূর্ব পুরুষরা এ রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করেছে। আমরাও চলাফেরা করছি। হাজারও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গাজীয়ারন, নতুন পটকা, পেলাইদ, পাঁচুলটিয়া, তাঁতীসুতাসহ সাতটি গ্রামের মানুষ কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাফেরা করেছে। আগে ইট বিছানো রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন চলছে ঢিমেতালে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাস্তাটি কার্পেটিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই মাসের বেশি সময় যাবত সংস্কারকাজ করা হলেও বর্তমানে সকল প্রকার কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সাত গ্রামের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পেলাইদ গ্রামের কলেজ পড়ুয়া সজীব হাসান বলেন, বর্ষাকালে কাঁধে ব্যাগ ও হাতে জুতো নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটির কিছু অংশ ইট বিছানো বাকি পথ কাদামাটির। আমার মতো সাত গ্রামের কমপক্ষে ৫’শ শিক্ষার্থী এমন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যাতায়াত করে থাকি। পেলাইদ গ্রামের কৃষক অমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার সকল কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হয়। এ যুগেও উপজেলা শহরের অতি নিকটে থেকেও কাদামাটির পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে সরকারের কাঙ্খিত সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে আমরা একত্রিত হতে বাধাগ্রস্ত হতে হবে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগসূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ নদীর ঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যথারীতি ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটির ওপর ইতোমধ্যে ৯টি কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বন বিভাগ রাস্তাটির উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সকল উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। শতবর্ষী রাস্তাটির উন্নয়নে স্থানীয় বন বিভাগের বাধা প্রদানের বিষয়টি আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি নীতি নীর্ধারণী মহলের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন চাই। শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোভন রাংসা বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে যাতায়াত সমস্যা ও সংস্কার কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেন, রাস্তাটিতে বন বিভাগের বেশ কিছু জমি রয়েছে। এটি রক্ষার দায়িত্ব বন বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের।