logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭

স্ত্রীর মামলায় পুলিশ কনস্টেবলের দুই বছরের কারাদণ্ড

কারাদণ্ড×পুলিশ×কর্মরত×ডিএমপি×সন্তান×স্ত্রী×যৌতুক×জন্ম×
ফাইল ছবি

পাবনায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে একমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. শামসুল আলামীন এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম সোহেল রানা। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ওয়াদুদ হোসেনের ছেলে।

তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার কনস্টেবল নম্বর ২৯৫৪৬। মামলার বাদী সোহেল রানার স্ত্রী জালেকা খাতুন একই উপজেলার দারামুদা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, সোহেল রানার সঙ্গে জালেকা খাতুনের বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন কনস্টেবল সোহেল রানা।

যৌতুকের টাকা না পেয়ে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি। এরই একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট গর্ভজাত শিশু সন্তানসহ স্ত্রী জালেকা খাতুনকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর বাবার বাড়িতে থাকলেও স্ত্রী-সন্তানের কোনও খোঁজ নেননি।

ওই বছরের সাত অক্টোবর জালেকা খাতুনকে নিয়ে তার স্বজনরা সোহেল রানার বাড়িতে গিয়ে তাকে মেনে নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সোহেল পাঁচ লাখ টাকা না দিলে জালেকাকে গ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দেন।

পরে বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি জালেকা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা আমলি আদালত-৩ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাঁথিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা পারভীনকে নির্দেশ দেন।

তিনি ওই বছরের ১৪ মার্চ তারিখে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে একই বছরের ১২ এপ্রিল আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

এরপর সমনে হাজির হয়ে আদালতে থেকে জামিন নেন পুলিশ কনস্টেবল সোহেল। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ বৃহস্পতিবার এই সাজার আদেশ দেন।

এ সময় আসামি সোহেল রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলা পরিচালনায় বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রউফ ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আজিজুল হক।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS