Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

আজিমপুরে ঢাবি ছাত্রী তুষ্টির মৃ’ত্যুর কারণ জানালেন সহপাঠীরা

The cause of death of DU student Tushti in Azimpur was stated by her classmates
ইসরাত জাহান তুষ্টি।। ফাইল ছবি

‘বন্ধু তুষ্টি তুই নেই, এটা মেনে নিতে পারছি না। তোর মতো মানুষটা এতো দ্রুত আমাদের ছেড়ে চলে যাবি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছি না।’-তুষ্টিকে হারিয়ে তার বন্ধবী নওশীন চৌধুরী এমনভাবে বিলাপ করছিলেন। আজ রোববার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবনের বাথরুম থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ইসরাত জাহান তুষ্টির (২১) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তুষ্টি ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে থাকতেন। তবে হল বন্ধ থাকার কারণে এক বান্ধবীকে নিয়ে পলাশীতে একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন। ওই বাসার বাথরুম থেকে তুষ্টির লাশ উদ্ধার করা হয়।

হলের রুমমেট আসমা আক্তার লিয়া বলেন, ‘সে রাতে কখনও একা একা ওয়াশরুমে যায়নি। ভয় পেতো। বেশির ভাগ সময় আমাকে নয়তো অন্যদেরকে দরজার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখতো। আজ সেই বাথরুমের আবদ্ধ ঘরে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য কত কষ্টই না করেছে।’

রাশিদাতুল রোশনি নামের একজন বলেন, ‘তুষ্টি আমার পাশের রুমে থাকতো। ওর ঠাণ্ডার সমস‌্যা ছিলো। শুনেছি ২ দিন আগে নাকি বৃষ্টিতে ভিজেছে। তুষ্টি এতো দ্রুত আমাদের ছেড়ে চলে যাবে কখনও ভাবিনি।’

ইসরাত জাহান তুষ্টির গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার নীলকণ্ঠপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আলতাফ হোসেন।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অসুস্থতাজনিত কারণে তুষ্টি বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তিনি শনিবার বৃষ্টিতে ভিজেছিলেন। এ ছাড়া তার ঠান্ডার সমস্যা ছিল বলে জানতে পেরেছি।

তুষ্টির মৃত্যুর কারণ নিয়ে একই কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাফায়েত আহমেদ। তার বাড়িও নেত্রকোনায়। তুষ্টিকে বাসা থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

সাফায়েত গণমাধ্যকে বলেন, ‘জানতে পেরেছি শনিবার বিকালে দোকানে যাওয়ার সময় তুষ্টি বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। আগে থেকেই তার অ্যাজমা (হাঁপানি) ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। বৃষ্টিতে ভিজে শরীর খারাপ লাগায় গতকাল সে আর বাসা থেকে বের হয়নি। পরে রাতে যখন রুমের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, সে তখন ওয়াশরুমে যায়। ঠিক কখন সে ওয়াশরুমে গিয়েছিল, তা কেউ বলতে পারছে না।’

তিনি আরও জানান, ‘ভোরের দিকে রুমমেটরা সাড়াশব্দ পায়, কিন্তু বাথরুমটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। আমি অন্য জায়গায় থাকি। ইশরাতের রুমমেট ও সহপাঠী রাহনুমা তাবাসসুম রাফি আমাকে ফোন দিলে আমিও সেখানে যাই। পরে ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে ৭ টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় তুষ্টিকে বাথরুম থেকে বের করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

কেএফ

RTV Drama
RTVPLUS