logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘থানা চলে হাজী সেলিমের কথায়’ (ভিডিও)

According to Haji Selim
বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে নতুন ভবন নির্মাণ
হাজী সেলিমের তাণ্ডবে ভীত হয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানেই যেতে পারছেন না এমন অভিযোগ অনেক ব্যবসায়ীর। অথচ মামলা থাকার পরও এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঢাকা-৭ আসনের এই সংসদ সদস্য। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রাতের আঁধারে চকবাজার বশির মার্কেটে কোটি কোটি টাকার মালামালসহ দোকান দখলে নিয়ে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করছেন তিনি। যারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন তাদের জন্য হটলাইন খোলার পরামর্শ টিআইবির। 

রাজধানীর চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। তিল তিল করে গড়ে তোলা দোকান দখল হয়ে গেলেও চেয়ে দেখা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যেন কিছুই করার নেই। প্রতিবাদ করলে যেন জীবনটাই চলে যায়, সেই ভয় সব সময় তাড়া করে ফেরে। অথচ নিজের ক্ষমতার জানান দিতে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাজী সেলিম। 

চকবাজারে বশির মার্কেটে দোকান হারানো কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, থানায় গেলে মামলা নেয় না পুলিশ। 
দোকান হারানো ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সরাসরি জজ কোর্টে মামলা করেছি। থানা তো হাজী সেলিমের, সেখানে কি মামলা নেবে? ওনাকে গ্রেপ্তার না করলে আমাদের তো অনেক অসুবিধা হবে। দোকানে আসতে পারছি না। ব্যবসাও করতে পারছি না। বুঝতেই তো পারেন কোন সমস্যায় আছি। আমাদের সাতটি দোকান ছিল। সবটাই দখল করেছে। আমরা র‌্যাব ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাই। 

আরও পড়ুন: 
চেয়ারম্যান মেম্বারদের চাল চুরির দিন শেষ (ভিডিও)
স্কুলের জন্য রাষ্ট্রপতির দেয়া জায়গাটিও রক্ষা পায়নি হাজী সেলিমের হাত থেকে (ভিডিও)
‘আজ তার বিরুদ্ধে কথা বললে কাল আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না’ (ভিডিও)
জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছে (ভিডিও)

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আলফালা মার্কেটের ভেতর অংশটুকু নেয়ার পরিকল্পনা প্রায় শেষ। যারা বিক্রি করতে চায়নি তাদের টর্চার সেলে নিয়ে বলেছে হয় বিক্রি কর না হয় জীবন দিতে হবে। বাধ্য হয়ে অনেকে জমি ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেকে ফকির ও হয়েছে। 

ডিএমপির চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুদ হাওলাদার বলেন, আমরা সবসময় মামলা নেই। কেউ এমন অভিযোগ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। 

আল ফালাহ মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও ভয়ে কথা বলতে না চাইলেও কয়েকজন জানান, হাজী সেলিম আতঙ্কে রয়েছেন তারা। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। এটি অবাক হওয়ার মতো কিছু না। কারণ এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আগের একটি দৃষ্টান্ত আছে যে গণশুনানির মতো আয়োজন করে তথ্য সংগ্রহ করা এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা অসম্ভব কিছু না। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, যদি র‌্যাবের নির্দিষ্ট কার্যবিধিতে পড়ে এবং নির্দিষ্ট ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে প্রমাণিত হলে সেক্ষেত্রে র‌্যাব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যারা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন তাদের অভিযোগ নিতে র‌্যাবের হটলাইন খোলার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  
জিএম/এমকে

RTVPLUS