logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

জবাবদিহিতার অভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছে (ভিডিও)

ক্ষমতার কাঠামোতে ভারসাম্য না থাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে। একই অবস্থা সরকারি দলেরও। জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অবৈধ অনেক সুযোগ চর্চা হচ্ছে বৈধতার মোড়কে, যা নতুন প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার বৃদ্ধিরোধে সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক জবাবদিহিতা। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটতে থাকা এসব ঘটনা কেন ঘটছে তার কারণ বিশ্লেষণে এসব কথা বললেন অপরাধবিজ্ঞানী ও বিশিষ্টজনেরা।   

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক বাণিজ্য কিংবা দল বেঁধে ধর্ষণ, ধর্ষণ। অবাধ ক্ষমতার দম্ভে কি না হচ্ছে? ক্যাসিনো সম্রাট, এনু-রূপন-পাপিয়ার কীর্তি, শাহেদ-সাবরিনানামা থেকে শুরু করে টেকনাফের ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের নির্বিচার ক্রসফায়ার, এরপর সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদের খুন হওয়া। অপরাধের এমন কালো উপাখ্যানে সর্বশেষ সংযোজন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে লালবাগের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের আমলনামা!  

একের পর এক এসব ঘটনা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাগুলোর দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যার দায় শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেন সাবেক মন্ত্রীপরিষদের সচিব আলী ইমাম মজুমদার। 

তিনি বলেন, ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যদি কোনও কর্তৃপক্ষ না থাকে, তাহলে সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। সরকারের এক্সিকিউটিভ অর্গানের কোনটি ছাড়া বাকিগুলো নির্জীব হয়ে গেছে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় থাকতে হবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বেপরোয়া করছে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিলজি বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, যদি এই ঘটনা কোনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটতো তাহলে কি এমনটা হতো? তিনি একটি এলিট ফোর্সে আছেন, এজন্য তিনি এমনটা করতে পেরেছেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কি বিচার ব্যবস্থা এতটাই সহজ।

অনাকাঙ্ক্ষিত এমন সব ঘটনারোধে দরকার, সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।  নয়তো এসব প্রতিক্রিয়ায় এক সময় জাতির ভবিষ্যতও ধূসর হয়ে যাবে বলে আশংকা তাদের।  

এসএম/এমকে

RTVPLUS