শুক্রবার শিল্পকলায় ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি কবিতা ‘দুই পাখি’ ও নাটক ‘রক্তকরবী’ অবলম্বনে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’। দলটির ২৮তম প্রযোজনা এটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
ইন্টারনেট-স্যাটেলাইট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর শোষন-শাসন-সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনময় বর্তমান বিশ্বে মানুষের জীবন যেন এক রোবটিক জীবন। সেই জীবনে একধরনের মানুষের জীবন প্রাচুর্য্য-বিলাসিতা-স্বাচ্ছন্দময় কিন্তু পরাধীন। অপরদিকে একধরনের মানুষের জীবন অনিশ্চয়তা-ঝুঁকি-কষ্টময় কিন্তু স্বাধীন। একটা জীবন স্বর্ণের খাঁচায় আবদ্ধ খাঁচার পাখির জীবন, অন্য জীবন অনিশ্চয়তা-ঝুকি-কষ্টময় সত্ত্বেও মুক্ত বনের পাখির মতো স্বাধীন।
একটা জীবন আবদ্ধ হতে হতে উড়বার শক্তি হারিয়ে পরাধীন, অন্য জীবন খাঁচার ফাঁদ এড়িয়ে স্বাধীন। এই পরাধীন এবং স্বাধীন রুপ খাঁচায় ও বনের পাখির পারস্পরিক সাক্ষাতে যখন দ্বৈতসত্ত্বা মিলিত হয়ে এক অভিন্ন সত্ত্বায় মুক্তির বারতা ঘোষণা করতে যেয়ে ও অসমর্থ হয়।
ঠিক তখনই মহামুক্তির পথ নির্দেশনা নিয়ে উপস্থিত হয় রক্তকরবী নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র যিনি আত্মার মুক্তি এবং খাঁচা তথা ব্যারিকেড ভেঙ্গে ফেলবার পথিকৃৎ সেই নন্দিনী। লোভ, নিষ্ঠুরতা, ভয়ভীতি, আঘাত প্রভৃতির যাঁতাকলে যক্ষপুরীর রাজা মকররাজের কারণে কিশোর, ফাগুলালের মতো শত সহস্র মানুষ বাধ্যতামূলক খনিতে নেমে স্বর্ণ তুলতে তুলতে যখন রোবটের মতো প্রানহীন দেহ নিয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য, তখন মানুষকে তার মানবিক অধিকার-স্বাচ্ছন্দ-জীবন উদযাপনের মূল সুরে ফিরিয়ে আনতে এবং শোকার্ত মানুষের সারিতে এনে যক্ষপুরীর রাজা মকররাজকে মানবিক হওয়ার, সমব্যাথী হওয়ার, সমন্বয় সাধনের পথরেখা দ্রোহ এবং আত্মত্যাগ দিয়ে আঁকেন রক্তকরবীর নন্দিনী।
স্বাধীনতা আর মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই পাখির যে জিজ্ঞাসা, রক্তকরবীর নন্দিনীর যে সমাধান, তারই চিরন্তন এবং সমসাময়িকতার শিল্প সৃজন ষড়েশ্বর্য লাকী ইনামের নাটক 'দুই পাখী ও নন্দিনী'।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নূরুল হাসনাত জিলান, জুয়েল জহুর, পারিশা আফরোজ, লায়লা পলি, ফারিন তামান্না, প্রলয় জামান, হিল্লোল সরকার প্রমুখ।
আলোক পরিকল্পনা করেছেন জয়নাল আবেদীন পবন, আবহ সংগীত পরিচালনায় শওকত আলী রানা, মঞ্চসজ্জায় শাওন আকন্দ ও কোরিওগ্রাফি সুমন আহমেদ।
আরটিভি/এসআর