logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

যে কারণে হেরেই চলছে রিয়াল

সার্জিন শরীফ
|  ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০৮ | আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:১৭
সময় কত দ্রুতই না বদলে যায়। ২০১৭ সাল স্বপ্নের মতোই ছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য। জিনেদিন জিদানের দল একে একে স্প্যানিশ লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে। এদিকে জানুয়ারিতে ফিফার দ্য বেস্ট-২০১৬ অ্যাওয়ার্ড জয় করা রোনালদো ২০১৭ সালের দ্য বেস্ট ও ব্যালন ডি’অর জয় করেন। এতো সাফল্য যদি গর্বের হয়, তবে বছরের শেষটা ছিল হতাশায় ভরপুর। আর নতুন বছরে তো আরো বিবর্ণ। এ মুহূর্তে স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা দৌড়ে বলতে গেলে পিছিয়ে পড়েছে মাদ্রিদ। এখন নতুন করে শঙ্কা জেগেছে সামনের বছর তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করতে পারে কিনা। হঠাৎ করে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের এমন ভরাডুবির কারণ কী?

bestelectronics
মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও বার্নাব্যুতে উদ্ভূত সমস্যার কোনো সমাধানের বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি কোচ জিনেদিন জিদানকে। রিয়াল মাদ্রিদের এই দুর্দশার কারণগুলো বর্ণনা করা যেতে পারে এভাবে-

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: লা লিগায় রিয়ালের হোঁচট
--------------------------------------------------------

ঘরের মাঠে না জেতা
লিগ টাইটেল জেতার ক্ষেত্র ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, ছোট-বড় সব দলই চেষ্টা করে নিজেদের মাঠে তিন পয়েন্ট পকেটে পোরার। সেক্ষেত্রে এবার ব্যর্থই বলা চলে জিদানের শিষ্যদের। যদি শুধুমাত্র ঘরের মাঠে হওয়া ম্যাচগুলোর সাফল্য হিসাব করা হয়, তাহলে রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থান হবে তলানির দিকের দল এইবারের সঙ্গে ষষ্ঠ অবস্থানে। চলতি মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মাত্র পাঁচবার জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। ড্র করেছে দু’টি ম্যাচে এবং হেরেছে তিনটিতে (বেটিস, বার্সেলোনা এবং ভিলারিয়ালের বিপক্ষে)। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর আর কখনো এমন দুর্দশার শিকার হয়নি এই স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সেবার রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট সামলাতেন স্প্যানিশ বংশোদ্ভুত কোচ হুয়ান র‍্যামোস। আর সেবারও বার্সেলোনা এবং ভিলারিয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পর পর দু’টি ম্যাচে হেরে গিয়েছিল রিয়াল।

স্ট্রাইকারদের গোলখরা
‘রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ গোলদাতার গোলসংখ্যা ১৮ ম্যাচে মাত্র ৪!’ লা লিগার ইতিহাসে এর আগে কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেল, ইসকো এবং মার্কো অ্যাসেসিও এদের প্রত্যেকের গোলসংখ্যাই চার এবং লা লিগার সর্বোচ্চ ২৫ জন স্কোরার মধ্যে নেই রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়ের নাম! আর ৯ নম্বর জার্সিধারী করিম বেনজেমার গোলসংখ্যা মাত্র দুই। খরা চলছে রোনালদোর পায়েও, গত মৌসুমের একই সময়ে তার গোলসংখ্যা ছিল ১২।

গ্যারেথ বেলের ইনজুরি
লস ব্ল্যাঙ্কোসদের দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় গ্যারেথ বেল। কিন্তু ইনজুরির কারণে চলতি মৌসুমের প্রথমার্ধে তাকে বাইরে রেখেই দল সাজাতে হয়েছে জিদানকে। ওয়েলসের এই দুর্দান্ত স্ট্রাইকার খেলতে পারেননি ৯ টি লিগ ম্যাচ। ইনজুরি থেকে ফেরার পরেও যে আটটি ম্যাচে তিনি খেলেছেন তার মধ্যে পাঁচটিতেই তাকে দেখা গেছে অন্য কারো বদলি হিসেবে। যথারীতি এল ক্ল্যাসিকোতেও সাইড বেঞ্চে বসেছিলেন তিনি।

নির্বিষ মার্সেলো
রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হলেও আক্রমণে বেশ কার্যকর হিসেবেই পরিচিত ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাক মার্সেলো ভিয়েরা। রক্ষণভাগ থেকে দ্রুতগতিতে উঠে আক্রমণে সহায়তা করে আবার সময়মতো নিজের জায়গায় ফিরে আসতে তার জুড়িমেলা ভার। তবে এই মৌসুমে যেন নির্বিষ হয়ে পড়েছেন তিনিও। বয়সের প্রভাব পড়েছে তার শরীরে। তার অভাব পূরণ করতে গত জুলাইয়ে দলে টানা হয় ফ্রেঞ্চ লেফট ব্যাক থিও হার্নান্দেজকে। কিন্তু থিও আসার পরেও মার্সেলোর ওপরেই ভরসা রাখছেন জিদান। গত শনিবার বার্নাব্যুতে ভিলারিয়ালের কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্সেলো। আক্রমণেও খুব একটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি তিনি। সেদিন তিনি ১৬টি ক্রসশট খেললেও তার মধ্যে মাত্র তিনটি তার কোনো সতীর্থকে খুঁজে পায়। সেদিন মার্সেলোর ক্রসগুলোর বেশিরভাগই গিয়ে লাগে ভিলারিয়ালের রাইট ব্যাক মারিও গ্যাসপার এর শরীরে।

প্রশ্নবিদ্ধ জিদান
দলের মধ্যে বিশেষ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন জিদান। মার্সেলো, টনি ক্রুস, মদ্রিচ এবং বেনজেমারা ফর্মহীনতায় ভুগলেও তাদেরকে ছাড়া যেন চলছেই না জিদানের। গত সামার ট্রান্সফার উইন্ডোতে নতুন কোনো স্ট্রাইকারকে দলে টানতে অস্বীকৃতির মাশুল গুণতে হচ্ছে তাকে। এসব ছাড়াও বদলি খেলোয়াড় নামাতেও যেন কার্পণ্য করছেন সাবেক এই রিয়াল সুপারস্টার। খুব কম ম্যাচেই ৭০ মিনিটের আগে বদলি খেলোয়াড় নামাতে দেখা গেছে তাকে।

নতুন খেলোয়াড়দের কার্যকরিতার অভাব
থিও হার্নান্দেজ (৭১৩ মিনিট), জেসাস ভ্যালেহো (৪৪৯ মিনিট), ড্যানি সেবায়োস (৫৩১ মিনিট) এবং বোরহা মায়োরাল (৫২৭ মিনিট) গত সামার ট্রান্সফার উইন্ডোতে বার্নাব্যুতে আসা খেলোয়াড়দের মাঠে কাটানো সময়ের পরিসংখ্যানটা এমনই। শুধুমাত্র কোপা দেল রে তে-ই তাদের মাঠে নামিয়েছেন জিদান। পাশাপাশি তাদের কেউই দলের সদ্য সাবেক হওয়া খেলোয়াড় পেপে, জেমস রদ্রিগেজ কিংবা আলভারো মোরাতার সমপর্যায়ের নন।

গোল নেই শেষ মুহূর্তেও
২০১৬-১৭ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে দেখা গেছে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে। বিশেষ করে ক্যাপ্টেন সার্জিও র‍্যামোসকে দেখা যেত দলের শেষ মুহূর্তের নায়ক। কিন্তু এবার তেমন পারফরম্যান্স চোখে পড়েনি। উপরন্তু, সর্বশেষ লিগ ম্যাচে ভিলারিয়াল ম্যাচের ৮৮ তম মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগকে চূর্ণ করে তাদের জালে বল জড়ায়। এই মৌসুমে কোনো ম্যাচেই ৮৬ মিনিটের পরে গোলের দেখা পাননি কোনো রিয়াল খেলোয়াড়।

এল ক্ল্যাসিকো
রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ০-৩ ব্যবধানে তাদের চূর্ণ করেছে বার্সেলোনা। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে কোভাচিচকে খেলানো এবং আক্রমণভাগের মূল তিন খেলোয়াড়দের পেছনে ইসকো-কে না খেলানোর ফলটা সুখদায়ক হয়নি জিদানের জন্য। ফলশ্রুতিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে তিন পয়েন্ট খোয়াতে হয় তাদেরকে।

আরও পড়ুন

এএ

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়