• ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫

যদি আমি জানতাম, তবে এটার অংশ হতাম না: ড. কামাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৫ | আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৫২
ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

যদি আমি জানতাম (জামায়াতের নেতাদেরকে বিএনপির টিকিট দেয়া হবে), তবে এটার অংশ হতাম না কিন্তু যদি ভবিষ্যৎ সরকারে এসব মানুষের কোনও ভূমিকা থাকে, তবে আমি একদিনও থাকবো না। বললেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার বিকেলে ঢাকার মতিঝিল এলাকায় নিজের চেম্বারে ভারতের গণমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী একটি এক্সক্লুসিভ কথোপকথন শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অধীনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২ নেতার আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে যে জামায়াতের নেতাদেরকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়া বোকামি হয়েছে। আমি লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম যে জামায়াতকে সমর্থন করা এবং ধর্ম, মৌলবাদ, উগ্রপন্থাকে আনা যাবে না।

এর আগে কথোপকথনের সময় তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জার নই। আমি ৮০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ মাত্র। দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছি। আমি নির্বাচনের দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি। নির্বাচনের দিনটি স্বাধীনতার দিন। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে এটি হবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস।

এদিন পুলিশের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের চেম্বারে তার সঙ্গে দেখা করেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন যে তারা আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমার বাসায় ও চেম্বারে আমাকে নিরাপত্তা দেবে তারা।

বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, মাত্র কিছুদিন আগে এই শক্তির ঐক্য গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশিদের জন্য এই ঐক্য ছিল রেনেসাঁর মতো। দেশ কোনও বিশেষ একটি দল বা পার্টির অধীনে নয়- এটাই তার প্রমাণ। এখন গণতন্ত্রই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্যই আপোষ করা হচ্ছে।

যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি ‘না’ বা ‘হ্যাঁ’ বলছি না…কিন্তু কোনও পদ ও বেতন ছাড়া এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি পুলিশ ও প্রশাসনের সংকীর্ণ পক্ষপাতের অবসান চাই, যার সুন্দর বাংলা ‘দলীয়করণ’।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে দেখুন, তারা কী করছে? পুলিশ সদস্য হয়ে গেছে দলীয় লাঠিয়াল(দলের সৈন্য)…প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘একজন সম্পূর্ণ স্বৈরশাসক’। আমাদের ভারতের সত্যিকার সহযোগিতা প্রয়োজন। আর ভারতের স্বার্থেই দেশটিকে আমাদের স্বার্থকে দেখা উচিত।

ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়ে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভারতে যান, তখন তিনি বলেন যে তারা এর আগে ভুল করেছে। এটা তাদের সংশোধনেরই একটা প্রক্রিয়া।

ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কথোপকথন সংক্রান্ত এই প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

কে/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়