logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭

আরটিভি নিউজ

  ২০ অক্টোবর ২০২০, ২৩:১২
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২৩:৩৫

চীনা ভ্যাকসিন ট্রায়াল ও পেঁয়াজ থেকে শিক্ষা

health ministry, health Department, Corona virus,
করোনা ভ্যাকসিন
করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ভ্যাকসিন নিয়ে হেলাফেলা করে ভারত, চীন কিংবা রাশিয়ার আশ্বাসে বসে থাকলে চলবে না। কারণ কোনো রাষ্ট্র-ই নিজেদের চাহিদা মেটানোর আগমুহূর্ত পর্যন্ত অন্য রাষ্ট্রকে ভ্যাকসিনর দিয়ে সহযোগিতা করতে চাইবে না। 

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী ভ্যাকসিন বাজারে আসার পরে করোনা মহামারীতে একজন নাগরিকও যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যান, সেটিও চাইবে রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এখানে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম হলে চলবে না। ভ্যাকসিন বাজারে আসলে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বিনা চিকিৎসায় মারা না যান সেটিই প্রত্যাশা করছেন মানুষ। ভ্যাকসিন নিয়ে যেন কোন ধরনের বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।   

বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে ইতোমধ্যেই একটা নাটকের জন্ম দিয়েছে। চীনা কোম্পানি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের কথা বলে পিছুটান। যা নিয়ে স্বাস্থ্যবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথমে চীনা কোম্পানি আশ্বাস করে যে তারা অর্থ ছাড়াই ট্রায়াল দেবে। এজন্য কোম্পানিকে ট্রায়ালের অনুমোদন দেয় সরকার। কিন্তু পরবর্তীতে ট্রায়ালের জন্য সরকারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করলে পিছিয়ে যায় সরকার। ভ্যাকসিন নিয়ে চীনা কোম্পানির এমন কর্মকাণ্ডে আগেভাগেই শিক্ষা নিতে পারে বাংলাদেশ। শুধু এই চীনা কোম্পানি নয়- বাংলাদেশের পরম বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ভারতের কথাও একবার চিন্তা করেন- দেখবেন, চোখের সামনে স্পষ্ট কিছু বৈষম্য ভেসে উঠবে। গত বছরের যে দিন বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ পাঠিয়েছিল ঠিক তার পরের দিন ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ওই বছরে পেঁয়াজের বাজার সামাল দিতে বেসরকারি আমদানিকারদের পাশাপাশি সরকার নিজেও পেঁয়াজ আমদানি করেও ২৫ টাকার পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় কিনতে হয়েছে ক্রেতাদের। এবারও ঠিক একই ঘটনা ঘটিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেদিন ইলিশ পাঠানো হল, ঠিক তার পরেই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল। ভারতের এমন হঠাৎ হঠাৎ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সরকারও বিড়ম্বনা ও চাপের মধ্যে পড়ছে। এজন্য পেঁয়াজের মতো ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটতে পারে। প্রথমে হয়তো ভারত ভ্যাকসিন দিতে চাইবে- পরে পিছুটান দিলে সরকার বেকায়দায় পড়ে যাবেন। সেজন্য পেঁয়াজ ও চীনা ভ্যাকসিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকারকে আগেভাগেই প্রস্তুত নিতে হবে। অর্থ্যাৎ বরাবর বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্য নয় ভালোবাসার সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। 

অবশ্য বাংলাদেশ সরকার বরাবর বলছে করোনার ভ্যাকসিন পেতে সব পথ খোলা রেখেছে। কোন কোন পথ খোলা তা পরিষ্কার করলে ভাল হবে। ভ্যাকসিন পেতে কি ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দিতে সবাইকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক দেশের ভ্যাকসিন অন্য দেশে নিরাপদ নাও হতে পারে। ফিলিপাইন্সে পরীক্ষা ছাড়াই শিশুদের ওপর একটি টিকা প্রয়োগের পর অনেকে মারা গিয়েছিল। ওই টিকা কিন্তু আমাদের দেশেও প্রয়োগ করার কথা ছিলো। কিন্তু ফিলিপাইনের ঘটনার পর দ্রুত সেটা বাতিল করা হয়। ভ্যাকসিন পেতে বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগোতে হবে। 

বিশ্বের প্রতিটি দেশ করোনা ভ্যাকসিনের দিকে নজর রাখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়া মাত্রই সব রাষ্ট্র হুমড়ি খেয়ে পড়বে। অবশ্য ডাব্লিউএইচও বলছে- সকল রাষ্ট্র ভ্যাকসিন যেন পায় তা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হয় তো ভিন্ন হতে পারে। যে দেশ যত শক্তিশালী সেই দেশ ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে ততই জোর রাখবে। সেই দিক থেকে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়ে তা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে গত সাড়ে সাত মাসে সারা দেশে ৫ হাজার ৬৯৯ জন করোনায় মারা গেছেন। সরকারের অনেকে করোনার এই মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে উন্নত দেশের পার্থক্য তুলে ধরেন। তারা হয় তো ভাবছেন করোনা মৃত্যুর সংখ্যা উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম। সেই জন্য যেন করোনা থেকে জনগণ রক্ষা পেতে গাছাড়া ভাবে বসে আছেন। আমেরিকা, ইতালি ও জার্মানিসহ অনেক দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য কঠোর নির্দেশনা আসছে তখন বাংলাদেশ যেন নির্বিকার। আসন্ন শীতের মৌসুমে করোনার বাংলাদেশ বাড়তে পারে সেই আশঙ্কা মানুষের সামনে ছুঁড়ে দিয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে না বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের লেখা পড়ে উদ্বেগ আছেন মানুষ।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS