logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭

বিশ্বকে পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন যে ১০ ব্যক্তি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৪ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:১৬
বিশ্বকে পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন যে ১০ ব্যক্তি
ফাইল ছবি
আমাদের বিশ্বকে এক উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে কিছু কিছু মানুষের অবদান অবিশ্বাস্য। এই মানুষগুলো কাজ করেছেন মানুষ, প্রকৃতি, পশু-পাখি নিয়ে। তাদের এই বৃহৎ অবদানের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তারা মানব জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

সিএনএন খুঁজে বের করেছেন সেই ১০জন ব্যক্তিকে যারা বিশ্বের জন্য কাজ করেছে অদম্যের সাথে এবং এই ১০ জনকে সিএনএন হিরো বলে আখ্যায়িত করেছে সংবাদ সংস্থাটি-

১. স্টেসি এলনসোঃ ষ্টেসি এলনসো একজন পশু প্রেমী। পশুর প্রতি ভালোবাসা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০০৭ সালে এলনসো একটি পশু আশ্রয়কেন্দ্র খোলেন। যেখানে ঘর ছেড়ে আসা মহিলারা তাদের পশুকে রাখতে পারে। তিনি এই চিন্তাটি শুরু করেন যখন তিনি একটি আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করতেন। সেখানে কাজ করার সময় তিনি দেখেন মহিলারা যখন ঘড় ছেড়ে চলে আসে তখন তাদের পোষা প্রাণী নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পরে। অনেক সময় শুধু তাদের পোষা প্রাণীর কথা চিন্তা করে তাদেরকে আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে হয়।     

২.নাজাহ বেজিঃ নাজাহ বেজি জামান ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তিনি দরিদ্র প্রবণ এলাকার ২ লাখ ৫০ হাজার নারী-শিশুদের মৌলিক চাহিদা পুরণ, শিক্ষা এবং চাকরীর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বেজি ১৯৯৬ সালে ইরাকে নার্স হিসেবে কাজ করার সময় দেখতে পান যারা দরিদ্র প্রবণ এলাকায় বসবাস করে তারা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক কিছু থেকে বিরত থাকেন। সেই ধারণা থেকেই তিনি এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটির সুচনা করেন।

৩.উডি ফেয়ারক্লথঃ উডি ফেয়ারক্লথ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন যার নাম দিয়েছেন তিনি “RV4Camp fire family”। তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়াতে ঘটে যাওয়া ক্যাম্প আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে “আর ভি” গাড়ী সরবরাহ করেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়াতে সকল “আর ভি” গাড়ির মালিকদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং তাদের থেকে কম মূল্যে গারিগুলো ক্রয় করে তা মেরামত করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরবরাহ করেন।

৪.ফ্রেউয়িনি মেব্রাহতুঃ  ইথিওপিয়ার মেয়েরা প্রায়সই “পিরিয়ড” এর জন্য স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। এটি একটি মহামারি সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। এই সমস্যা মোকাবেলায় মেব্রাহতু একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থার সাথে মিলে “মরিয়ম সেবা সেনিয়ারি” নামে একটি কোম্পানি চালু করেন। ২০০৫ সালে তিনি একটি প্যাড ডিজাইন করেছিলেন যেখানে দেখিয়েছিলেন তার প্যাড কিভাবে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে তিনি এবং তার দল মিলে বছরে ৭লক্ষ ৫০হাজার প্যাড উৎপাদন করেন।

৫.মার্ক মেয়েরসঃ গাধা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এগুতে অনেক ভূমিকা রেখেছে। কিছু গাধা আজ যুক্তরাষ্ট্রে অবহেলার স্বীকার হয়ে এবং চিকিৎসার অভাবে ভুগছে। মার্ক মেয়েরস এবং তার স্ত্রী মিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই পশুদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করেন। তারা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার গাধার চিকিৎসা সম্পন্ন করে সুস্থ করে তুলে অবমুক্ত করেছেন।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: ভিন্নধর্মী উদ্যোগে পাঠে আগ্রহী হচ্ছে উখিয়ার শিশুরা
---------------------------------------------------------------

৬.রিচার্ড মাইলসঃ রিচার্ড মাইলসের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মাইলস অফ ফ্রিডম কারাগারে বন্দী থাকা প্রাক্তন কয়েদীদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু করতে সহায়তা করেন। রিচার্ড মাইলস প্রাক্তন কারাগারে বন্দী ব্যক্তিদের জীবন পুনরায় শুরু করতে সহায়তা করে। কারাগার থেকে বাড়ি ফিরে আসা ব্যক্তিদের তাদের পরিচয় পেতে, কলেজে ভর্তি হতে এবং নিরাপদ আবাসনের সহায়তা নিশ্চিত করে। এই গ্রুপটি কম্পিউটার এবং ক্যারিয়ারের প্রশিক্ষণ, আর্থিক স্বাক্ষরতার প্রোগ্রাম এবং চাকরীর স্থান প্রদান করে। মাইলস অফ ফ্রিডম লন কেয়ার সার্ভিস প্রোগ্রামে পুরুষ ও মহিলাদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সরবরাহ করে।

৭.রোজার মনটয়াঃ অপিওড সংকট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নিউ মেক্সিকোর একটি অঞ্চলে রোজার মনটয়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠান “মুভিং আর্টস এস্পোওলা” প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অপিওড সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি আলাদা পথ এবং ইতিবাচক উপায় খুঁজে বের করেন। ২০০৮ সাল থেকে তাঁর কমিউনিটি আর্টস সেন্টার ৫ হাজারের বেশি শিশু ও যুবকদের আর্ট ক্লাস, ফ্রি খাবার, টিউটরিং সহায়তা দিয়ে আসছেন।

৮.মেরি রবিনসনঃ প্রিয়জনের মৃত্যুর পরে যে সমস্ত আবেগের মুখোমুখি হয় শিশুরা, তাদের মোকাবেলায় শিশুদের সহায়তার জন্য ২০১১ সালে একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এই কেন্দ্রে শিশুরা তাদের বাবা-মা, ভাই বা বোনকে হারানোর পর বেড়ে উঠে।

গেমস বা আর্টস এবং কারুশিল্পের ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে শিশুরা বেড়ে উঠে। সেখানে একটি ঘর আছে। সেসব শিশুরা সেখানে থাকে যাদের বাবা-মায়েরা দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় ভোগেন।

৯.আফরোজ শাহঃ আফরোজ শাহ একটি স্বেচ্ছাসেবীর অলাভজনক সংস্থা শুরু করেছিলেন যা মুম্বাইয়ের সৈকত এবং নৌপথ থেকে মিলিয়ন পাউন্ডের জঞ্জাল প্লাস্টিকের বর্জ্য পরিষ্কার করতে। মুম্বইয়ের একজন আইনজীবী মহাসাগরকে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে তার প্রচারের জন্য আফরোজ শাহ ফাউন্ডেশন চালু করেছিলেন। এই আফরোজ শাহ প্রতি বছর ভারতের সাগর এবং নদী পথ পরিষ্কার রাখতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখছে।

১০.জ্যাচ উইগালঃ জ্যাচ উইগাল তার শখ থেকে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। সেখানে দীর্ঘকালীন অসুস্থতায় আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য গেমিং কনসোল এবং ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়। যেসব শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে হাসপাতালের বাইরে যেতে পারে না তাদের জন্য এই ভিডিও গেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার এই ব্যবস্থা এখন দেড় শতাধিক হাসপাতালে রয়েছে।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • ফিচার এর সর্বশেষ
  • ফিচার এর পাঠক প্রিয়