logo
  • ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

ভিন্নধর্মী উদ্যোগে পাঠে আগ্রহী হচ্ছে উখিয়ার শিশুরা

  রুমানা আক্তার শান্তা

|  ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২০:২২ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৪
ভিন্নধর্মী
শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহী করতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে
কক্সবাজারের উখিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহী করতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ছবি দেখিয়ে বর্ণনা, গল্প বলা, খেলাধুলার মাধ্যমে পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি বেড়েছে। ক্লাস আনন্দায়ক হওয়ায় নতুন করে জানার আগ্রহও প্রকাশিত হচ্ছে তাদের মাঝে। একইসঙ্গে বাড়ছে পাঠের স্থায়ীত্বও। স্থানীয় এনজিওকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।  

২০১৯ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের শিশু তহবিলের দেয়া তথ্যানুসারে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ  শরনার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ ক্যাম্পে রয়েছে ১ হাজার ৬০০ টি  লার্নিং সেন্টার। এই শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ১ লক্ষ ৪৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থী শিশু পড়াশোনা করচ্ছে। যেগুলো পরিচালনা করছে বেশকিছু এনজিও। এই শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সচরাচর গৎবাধা নিয়মের বাইরে বিভিন্ন পাঠদান পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু আয়ত্ত্ব করতে পারে।

এসব স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ করে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণ করায় তাদের একঘেঁয়েমি দূর হচ্ছে। শিক্ষার্থীর মাঝে পাঠও স্থায়ী হয়। উপযুক্ত পদ্ধতি ব্যবহারে শিক্ষকের কাজ পাঠ-উপস্থাপন অনেক সহজ হয়ে যায়। কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা স্ব-প্রণোদিত হয়ে শিখতে অংশগ্রহণ করে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। 

কুতুপালং সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা মিনা বড়ুয়া জানান, ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা দিলে তারা তা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে। বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠদান তাদের মধ্যে অনিহা তৈরি করে না। নিজে নিজেই নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী করে তোলে। 

তিনি বলেন, অতীতে টোল, মক্তব বা পূজামন্ডপে গুরু তার শিষ্যকে শিক্ষা দিতে বিভিন্ন শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে এখানকার স্কুলগুলোতেও শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এমন বিভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হয়। 

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গল্প, ছবি আঁকা, কবিতা, খেলাধুলার মাধ্যমে যদি পাঠদান হয় তাহলে শিশুরা সহজে যে কোনো বিষয় বুঝতে পারে এবং তাদের মধ্যে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুরা পড়াশোনার দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকায় তাদের এই ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি তাদের মেধা বিকাশে সহায়ক বলে মনে করেন ক্যাম্পে শিক্ষা কাজে নিয়োজিত শিক্ষকরা।  

কাম্প-৫ এ অবস্থিত মুক্তি কক্সবাজার শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক ওমর ফারুক জানালেন তাদের পাঠদানের বিস্তারিত। তিনি বলেন, 'সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ছবি দেখিয়ে, গল্প বলার মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে থাকি আমরা। শিক্ষার্থীরা একেকটা গল্প পড়ে ওই গল্পের চরিত্র হওয়ার চেষ্টা করে এবং তা তাদের মধ্যে নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি করে।' শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব পদ্ধতি আনন্দদায়ক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

'আমি একজন শিক্ষিকা হিসেবে মনে করি এ ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে সময় জ্ঞান, পরিপাটি থাকা, শিক্ষদের সম্মান করা ইত্যাদি গুণ তৈরি করে। আমার শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক রয়েছে, যা পাঠদানে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।' এমনটাই জানালেন কুতুপালং ক্যাম্পের ব্র্যাকের লার্নিং সেন্টারের শিক্ষিকা রাজুমা বেগম।

এসজে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৩৫৫৪৯৩ ২৬৫০৯২ ৫০৭২
বিশ্ব ৩,২১,৯৬,৬৫৫ ২,৩৭,৫১,১৩৪ ৯,৮৩,৬০৯
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • ফিচার এর সর্বশেষ
  • ফিচার এর পাঠক প্রিয়