logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

হৃদরোগকে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর মরণঘাতী রোগ হয়ে উঠছে ক্যানসার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩:১৫
ক্যানসার, হৃদরোগ, বিশ্বের শীর্ষ মরণঘাতী রোগ
ছবি: সংগৃহীত
হৃদরোগকে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর মরণঘাতী রোগ হয়ে উঠছে ক্যানসার। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি দেশে মধ্য-বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ক্যানসার। খবর সিএনএনের।

বিশ্বে ৩৫ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে এখনও মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হৃদরোগ। তবে মঙ্গলবার বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু উচ্চ-আয় ও মধ্যম-আয়ের দেশে হৃদরোগের চেয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে।

এসব দেশের তালিকায় রয়েছে-সুইডেন, চিলি, আর্জেন্টিনা, পোল্যান্ড ও তুরস্ক।

পাঁচ মহাদেশজুড়ে মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে এটিই সবচেয়ে বড় গবেষণা বলে জানান প্রখ্যাত অধ্যাপক ও কানাডার ম্যাকমাস্টাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন হেলথ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডা. সালিম ইউসুফ।

গবেষণার সিনিয়র এই লেখক বলেন, বেশ কয়েকটি দেশে হৃদরোগের পরিমাণ কমে আসছে। হৃদরোগের মৃত্যুহার কমিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, এর ফলে হৃদরোগে মৃত্যুর হার ক্যানসারের চেয়ে কম হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

গবেষকরা বলছেন, উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও উন্নত চিকিৎসার কারণেই হয়তো মৃত্যুর ‘মহামারী স্থানান্তরিত’ হয়েছে। যেখানে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে তেমন কোনও সাফল্য নেই।

অনেক হৃদরোগই প্রতিরোধযোগ্য

পাঁচ মহাদেশের এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ডাটা বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা করা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রস্পেক্টিভ আরবান রুরাল এপিডেমিওলজি বা পিওর সমীক্ষার মধ্য দিয়ে এই গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

যেসব দেশের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে, তাদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

নিম্ন-আয়ের দেশ: তাঞ্জানিয়া, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত। মধ্যম-আয়ের দেশ: ফিলিপাইন, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, চীন, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, পোল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও চিলি। সবশেষ, উচ্চ-আয়ের দেশ: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা ও সুইডেন। গবেষণা চালানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনও, যদিও সে দেশটির সঠিক আয় সম্পর্কে জানা যায়নি।

এসব দেশ থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অসুস্থতা ও মৃত্যুর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হচ্ছে হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগ।

উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর চেয়ে মধ্যম-আয় ও নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে হৃদরোগ সাধারণ বলে দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ-আয়ের দেশ এবং কিছু উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশে হৃদরোগের চেয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি।

গবেষকরা লিখেছেন, উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে ‘ক্যানসারে মৃত্যুর হার হৃদরোগের চেয়ে দ্বিগুণ।’ যেখানে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে ‘ক্যানসারের চেয়ে হৃদরোগে মৃত্যুর পরিমাণ তিনগুণ বেশি।’

এই গবেষণার কয়েকজন গবেষক ভিন্ন একটি গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, বিশ্বের অধিকাংশ হৃদরোগের ঘটনা ও মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য এবং এর জন্য কিছু সাধারণ পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকিকে দায়ী করা যেতে পারে। এই গবেষণাটিও মঙ্গলবার দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে।

ডা. ইউসুফ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘উচ্চ রক্তচাপ, তামাক ও লিপিড এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে- নিম্ন শিক্ষা, কম শক্তি এবং ইনডোর ও আউটডোর দূষণ।’

দুটি গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। যেমন- দুটি গবেষণাই পাঁচ মহাদেশে চালানো হলেও তাতে বিশ্বের সব দেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশ্বের সব দেশের জন্য এই গবেষণার ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে কিনা- সেটি নির্ধারণ করতে আরও গবেষণার দরকার।

দ্য ল্যানসেটে ওই দুই গবেষণার সঙ্গে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রত্যেক আয়ের ক্যাটাগরি থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত ওইসব ক্যাটাগরির সবগুলো দেশের প্রতিনিধিত্ব না-ও করতে পারে, ‘বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তথ্যের বিস্তর ফাঁক রয়েছে।’

টরেন্টোর উইমেন্স কলেজ রিসার্চ ইন্সটিটিউট অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ হাসপাতালের স্টেফানি রিড এবং যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সারাহ ওয়াইল্ড এই সম্পাদকীয়টি লিখেছেন।

রিড ও ওয়াইল্ড লিখেছেন, তবে নতুন গবেষণায় ‘সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার-যেমন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষার উন্নতির গুরুত্ব নির্দেশ এবং ডায়েটের উন্নতি এবং কম উন্নত দেশগুলোতে ঘরবাড়িতে বায়ু দূষণ কমানোর’ মতো বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলেও হৃদরোগকে পেছনে ফেলছে ক্যানসার

নতুন গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করা না হলেও, গত বছর জার্নাল আনালস অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত ভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির নিম্ন-আয়ের কাউন্টিগুলোতে মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হৃদরোগ; যেখানে উচ্চ-আয়ের বহু কাউন্টিতে মৃত্যুর প্রধান কারণ ক্যানসার।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মেডিসিনের অধ্যাপক ও পূর্ববর্তী গবেষণার প্রধান লেখক ডা. লতা পালানিয়াপ্পান বলেছেন, হৃদরোগকে পেছনে ফেলে মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হিসেবে ক্যানসার স্থান দখল করার মধ্য দিয়ে আমরা মরণঘাতী রোগের স্থানান্তর দেখছি, যা উচ্চ আয়ের কমিউনিটিগুলোতে ঘটছে। নতুন গবেষণা দুটোয় সম্পৃক্ত ছিলেন না ডা. লতা।

তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কী কারণে হৃদরোগ হ্রাস পাচ্ছে তা বোঝা জন্য আমাদের দেশ ও বিশ্বে অন্যান্য দেশের জন্য এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উপকারে এসব তথ্য সঠিকভাবে প্রয়োগ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

এ/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়