Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

গণতন্ত্রের একজন ‘মানস প্রতিকৃতি’ হারিয়েছে দেশ

ছবি সংগৃহীত।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার আটকে রাখা হয়েছিল। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল। সেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বাতিল করা হয় ১৯৯৬ সালে। সে সময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন আমার শ্রদ্ধেয়, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। তিনি সেদিন জাতীয় সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা আজও স্মরণীয়। আজও জাতীয় সংসদে বলা হয়, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা মনে রাখার মতো। তিনি সেদিন মানুষকে কাঁদিয়েছিলেন তার বক্তব্য দিয়ে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের সময় আমরা যেখানে কাজ করতাম, সেখানে তিনি সন্ধ্যাবেলা আসতেন এবং যখন কাজ শেষ হতো তখন তিনি বাড়ি ফিরতেন। আবদুল মতিন খসরু একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও মেধাসম্পন্ন আইনজীবী ছিলেন। অত্যন্ত দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন। তার মৃত্যুতে আইনাঙ্গনে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন ‘মানস প্রতিকৃতি’ হারিয়েছে বাংলাদেশ। তার মৃত্যুতে একটি বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি জানি না এই শূন্যতা পূরণ হবে কি না।

আবদুল মতিন খসরু পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, সংসদে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং (ব্রাহ্মণপাড়া) থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকা আর আমার নির্বাচনী এলাকা মিলে একসময় (পাকিস্তান আমলে) একটি নির্বাচনী এলাকা ছিল। ওই নির্বাচনী এলাকা থেকে আমার মরহুম পিতা ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে এমএনএ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আবদুল মতিন খসরুকে আমি চিনি ১৯৬৯ সাল থেকে। তিনি তখন ছাত্রলীগ করতেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তিনি ছাত্রলীগের পর আওয়ামী লীগ সরকারের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে যখন প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তখন তাকে ছয় মাসের জন্য প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন এবং পরে তাকে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

সবচেয়ে বড় কথা, তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী ও কর্মী ছিলেন। তার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অগাধ বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা ছিল। আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

লেখক : বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী

এম

RTV Drama
RTVPLUS