logo
  • ঢাকা শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঘুমের ঘোরে বোবায় ধরে? যেভাবে মুক্তি পাবেন

Symbolic image
প্রতীকী ছবি
ঘুমের ঘোরে বোবায় ধরার ঘটনা অনেকের জীবনে হয়। তখন নিজের হাত পা নাড়ানোর মতো, মুখে আওয়াজ করার মতো শক্তি থাকে না। চেষ্টা করলে গোঙানির মতো শব্দ হয়। ছুটতে চাইলে ছোটা যায় না, কিছু বলতে চাইলে কথা বের হয় না, এ এক সীমাহীন কষ্ট। 

চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় স্লিপ প্যারালাইসিস বা ঘুমের মধ্যে পক্ষাঘাত। এটি সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। 

স্লিপ প্যারালাইসিস হলে ভীষণ ভয় হয়। শরীর ঘেমে যায়। এছাড়া শারীরিক নানা সমস্যা দেখা যায়। 

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামান্থা আফরিনের মতে, বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস হলো গভীর ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি স্নায়ুজনিত সমস্যা। ঘুমের ওই পর্যায়টিকে বলা হয় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট-রেম।

স্লিপ প্যারালাইসিস তরুণ-তরুণী এবং কিশোর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। এই পরিস্থিতি যে কারও সঙ্গে যেকোনো বয়সে হতে পারে।

ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা বা এনএইএস-র তথ্য মতে তরুণ-তরুণী এবং কিশোর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ-  

  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা অসময়ে ঘুমানো। 
  • মাদকাসক্ত হলে অথবা নিয়মিত ধূমপান ও মদপান করলে।
  • পরিবারে কারও স্লিপ প্যারালাইসিস হয়ে থাকলে।
  • সোশ্যাল অ্যাঙ্কজাইটি বা প্যানিক ডিসঅর্ডার বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যা থাকলে। 
  • স্লিপ প্যারালাইসিস আসলে গুরুতর কোনও রোগ নয়। মাঝে মাঝে নিজে থেকেই ভাল হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো- 

প্রতিদিন সময় করে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠতে হবে। রাতে অন্তত ৬ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা। 

শোবার ঘরটিতে আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে। যেন সেই ঘরে কোলাহল না থাকে, ঘরটি অন্ধকার থাকে এবং তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় থাকে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ধূমপান, মদ পান এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা-কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ভারী খাবার না খাওয়া উত্তম। 

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যায়াম করার চেষ্টা করা।

ঘুমের সময় হাতের কাছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি রাখা যাবে না।

স্লিপ প্যারালাইসিস হলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। 

যদি কারও বাড়াবাড়ি রকমের স্লিপ প্যারালাইসিস হয় অর্থাৎ আপনার ঘুমে নিয়মিতভাবে ব্যাঘাত ঘটে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সূত্র- বিবিসি

জিএ  

RTVPLUS