logo
  • ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ৮ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৪ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:১২
Number of illegal immigrants in Britain is 8 lakh
ছবি সংগৃহীত
একটা স্বতঃসিদ্ধ সত্য হলো যা দেখা যায় না, তা গণনা করাও কঠিন। কিন্তু অন্তত অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানবিদরা অনেক সময়েই এই সত্য মানতে পারেন না। আর এর সর্বশেষ উদাহরণ হলো পিউ রিসার্চ সেন্টারের তৈরি একটি প্রতিবেদনে যেখানে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

ওয়াশিংটনভিত্তিক এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক বিশ্বের নানা ধরনের স্রোতধারার ওপর আলোকপাত করে থাকে এবং এর গবেষণার ফলাফল প্রায়ই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে পরিণত হয়।

সবশেষ প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টার যা দাবি করছে তা খুবই সরল- এই মুহূর্তে ব্রিটেনে প্রায় আট থেকে ১২ লাখ অবৈধ অভিবাসী বাস করছে।

পিউ সেন্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘অবৈধ অভিবাসী’ হলো এমন কোনও ব্যক্তি যার কোনও দেশে থাকার বৈধ অধিকার নেই। নানা দেশে তাদের নানা নামে ডাকা হয়ে থাকে- ‘অনুমতিপত্রবিহীন অভিবাসী’ কিংবা ‘দলিলবিহীন অভিবাসী’ ইত্যাদি।

কারা এই হিসাবের মধ্যে পড়ছেন?

একজন অস্থায়ী কর্মী যার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এমন কোনও ব্যক্তি যারা দালালদের টাকা দিয়ে সেই দেশে প্রবেশ করেছেন। এমন কোনও ব্যক্তি যিনি আশ্রয় প্রার্থনা করে ব্যর্থ হয়েছেন, কিন্তু তারপরও সেই দেশে রয়ে গেছেন।

পিউ সেন্টার কীভাবে ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা গণনা করেছে?

বেআইনি অভিবাসীদের সংখ্যা গণনা করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে একটি পথ হলো যারা এই বিষয় সম্পর্কে জানেন তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করা। যেমন- নির্মাণ প্রকল্পের ম্যানেজার। কারণ কোনও নির্মাণ শ্রমিককে কাজ দেয়ার আগে তারাই তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন।

আরেকটি উপায় হচ্ছে যাকে বলে ‘স্নোবলিং’। গবেষকরা প্রথমে একজন অবৈধ অভিবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার মাধ্যমে অন্যদের খুঁজে নেন। এর ফলে তথ্যের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ব্রিটেনের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা হিসাব করতে গিয়ে পিউ ‘রেসিডিউয়াল মেথড’ ব্যবহার করেছে। এই প্রক্রিয়ায় মোট বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা হিসাব করে যারা বাকি থাকবে, তাদের মোট সংখ্যা গণনা করা হয়।

ব্রিটেনের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা

প্রথমে পিউ রিসার্চ সেন্টার হিসাব করেছে, ব্রিটেনে সেই সব বাসিন্দা যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে এসেছেন। তারপর প্রতিষ্ঠানটি হিসাব করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা বসবাসকারীদের কতজনের কাছে সে দেশে থাকার বৈধ অনুমতি রয়েছে।

ব্রিটেনের অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্সের ২০১৭ সালের তথ্যানুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা ব্রিটিশ নাগরিকদের মোট সংখ্যা ২৪ লাখ। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যাকে হোম অফিস নামে ডাকা হয়, সেটি বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা ১৫ লাখ লোকের হাতে কোনও না কোনও বৈধ কাগজপত্র, যেমন ওয়ার্ক ভিসা রয়েছে।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: অযোধ্যার রায় নিয়ে রিভিউ পিটিশনের সিদ্ধান্ত ইসলামী দলগুলোর
---------------------------------------------------------------

এর পর গবেষণা কেন্দ্রটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা মানুষের মোট সংখ্যা থেকে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে এমন লোকের সংখ্যা বাদ দিয়েছে। ওই তথ্যকে আরও যাচাই-বাছাই করে পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষকরা একমত হয়েছেন যে, ব্রিটেনে আট থেকে ১২ লাখ অবৈধ অভিবাসী বসবাস করছেন।

কিন্তু এই হিসাবে মধ্যে একটা সমস্যা রয়েছে। সেটা হলো এটা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিবিসি এই বিষয়টি নিয়ে আগেও রিপোর্ট করেছে যে এই মুহূর্তে আসলে কত অবৈধ অভিবাসী ব্রিটেনে রয়েছে সে সম্পর্কে সরকারের কোনও ধারণাই নেই।

দ্বিতীয়ত, এখন ব্রিটেনে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে কতজনের হাতে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে সেই সংখ্যা হোম অফিসও জানে না। যেমন- ব্রিটেনের বৈধ বাসিন্দা ছিলেন, এমন কোনও লোক যদি তার নিজ দেশে ফিরে গিয়ে থাকেন বা তার মৃত্যু হয়ে থাকে, সেটা জানার কোনও উপায় নেই।

পিউ রিসার্চ সেন্টার এসব দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে, তবে উল্লেখ করেছে তাদের এই গণনা বাস্তবতার এতটাই কাছাকাছি যে নীতিনির্ধারকরা এর ওপর ভিত্তি করেই পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

অবৈধ অভিবাসীদের অন্যান্য সংখ্যার সঙ্গে এর অমিল কোথায়?

গত ২০ বছর ধরে অভিবাসনের ধারা থেকে আমরা যা জানতে পারি এবং ব্রিটেনে মোট অবৈধ অভিবাসীর যে হিসাব আগে জানা গেছে, তার সঙ্গে পিউ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদনের খুব একটা তফাৎ নেই।

হোম অফিস ২০০৫ সালে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, এই সংখ্যা তিন লাখ ১০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার। ২০১৭ সালে হোম অফিসের পরের আরেকটি গবেষণায় আগের তথ্যগুলোকে হালনাগাদ করে বলা হয়েছিল, এই সংখ্যা চার লাখ ১৭ হাজার থেকে আট লাখ ৬৩ হাজার হবে। তাদের মধ্যে ছিল সেই সব শিশু যাদের জন্ম ব্রিটেনে হয়েছে।

এরপরের বছরগুলোতে ব্রিটেন এবং ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসনের হার অনেক বেড়েছে। সেই বিচারে পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় খুব একটা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও এ নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকবেই। যারা এই তথ্যকে বিশ্বাস করতে রাজি নন, তারা বলবেন বানোয়াট উপাত্ত ব্যবহার করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ
  • আন্তর্জাতিক এর পাঠক প্রিয়