logo
  • ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন ২১ জুন

গাজী আনিস, আরটিভি অনলাইন
|  ১৪ মে ২০১৯, ১৫:৫৯ | আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ১৬:০৬

গেল এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল অভিনয়শিল্পী সংঘের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। কিন্তু সাংগঠনিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে পিছিয়ে যায় নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হয় সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক ও অভিনয়শিল্পী আহসান হাবিব নাসিমের সঙ্গে।

নির্বাচন নিয়ে আরটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে অভিনয়শিল্পী সংঘের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। ১৫ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২২ মে। ২১টি পদে নির্বাচন হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। রাতেই নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দেশীয় টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই নির্বাচন। ওই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত কমিটির সফল কিছু কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে আহসান হাবিব নাসিম বলেন, সংগঠন নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিনয়শিল্পীদের সংকটগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছি। সেবামূলক কাজ হিসেবে ২০ জন অভিনয়শিল্পীকে ৫ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে একলাখ টাকার বাজার সহায়তা দিচ্ছি। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিল্পীদের ঈদ খরচ সহায়তা বাবদ দুই ঈদে দুই লাখ টাকা দিয়েছি। চিকিৎসা সহায়তা বাবদ এ পর্যন্ত ৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া একজন শিল্পীর পরিবারকে ২ লাখ টাকা এবং তার ছেলেকে একটি চাকরি দেয়া হয়েছে। অভিনয়শিল্পীদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেছি।

অভিনয়শিল্পীদের কর্মপরিধি ছোট হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আহসান হাবিব নাসিম জানান, এখন নায়ক-নায়িকানির্ভর নাটক হচ্ছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্য বিশেষ করে সামাজিক চরিত্রগুলো নাটক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে করে নাটকের গল্পের পরিসর ছোট হয়ে যাচ্ছে। আমরা এটাকে চিহ্নিত করে দেখেছি, আমাদের অধিকাংশ অভিনয়শিল্পীদের কাজের পরিধি কমে যাচ্ছে। কেননা আমাদের ৯০০ শিল্পী থাকলে তার মধ্যে মাত্র ৫০ জন মূল ভূমিকায় অভিনয় করে। বাকিদের হাতে কাজ থাকছে না। এজন্য আমরা বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক টিআরপি পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব করেছি। এছাড়া পে চ্যানেল করারও প্রস্তাব করছি, যাতে করে দর্শকের টাকা সরাসরি যেন চ্যানেল পায়। সকলের স্বার্থ যেন অক্ষুণ্ণ থাকে; এজন্য আমরা এ ধরনের কিছু প্রস্তাব সরকারের কাছে দিয়েছি। এছাড়া কিছু হাসপাতালের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসরত শিল্পীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের এই বিশেষ চুক্তি।

তিনি আরও বলেন, অস্বচ্ছল শিল্পীদের সন্তানদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে আমরা একটি পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে অ্যাক্টরস ওয়েলফেয়ার ফান্ডের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, অর্থ সংগ্রহ চলছে। এর মাধ্যমে অসুস্থ ও মৃত শিল্পীর পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

শিল্পীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের একটি অফিস নেয়া হয়েছে। নিজেদের কার্যক্রম প্রচারের জন্য অনলাইন প্রচারমাধ্যম আছে। শিল্পীদের তালিকা করেছি। নাটক ও শিল্পীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের বেশ কিছু চলমান কাজ রয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন অনুযায়ী অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচনের সময় ২০২০ সালের শেষ দিকে। কিন্তু কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে। আহসান হাবিব নাসিম বলেন, শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করা আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকে। নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে পরবর্তী কমিটি হিসেবে যারা আসবেন তারাও শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করবেন বলে আশা করছি।

 

জিএ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়