• ঢাকা শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৪ ফাল্গুন ১৪২৫

বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আর্থিক সেবায় চার ব্যাংক

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫২
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চলছে ২৪তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলা মানেই অনেক মানুষের আনাগোনা আর আর্থিক লেনদেন। কেনাকাটার সময় ক্রেতাদের যেন অর্থ পরিশোধে কোনও ঝামেলা না হয়, তাই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এবারের আসরেও রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বুথ ও অস্থায়ী শাখা। এসব শাখায় পণ্যের ভ্যাট পরিশোধ, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর মত সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এটিএম বুথের মাধ্যমে নগদ টাকাও তুলতে পারছেন মেলায় আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।

বাণিজ্য মেলায় এবার সরকারি-বেসরকারি চার ব্যাংক ব্যাংকিং সুবিধা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি ডাচ্ বাংলা ও ইসলামী ব্যাংক। তবে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবার মধ্যে এবারে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে বিকাশ ও রকেট।

মেলায় শুধু ক্রেতাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা নয়, স্টল-প্যাভিলিয়ন মালিকদের জন্য রযেছে লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা। সারা দিনের বেচা-কেনার অর্থ সহজেই এসব ব্যাংকে জমা দিতে পারছেন তারা। একই সঙ্গে ব্যাংকে হিসাব খোলা ও ঋণ আমানতসহ বিভিন্ন সেবার তথ্য প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংকগুলো ক্রেতা-দর্শনার্থীদের লেনদেনের সুবিধায় দেওয়া হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা। কেনাকাটা করতে চাহিদামতো টাকা তোলা ও বিক্রেতাদের নগদ টাকা জমা নেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এসব শাখায় পণ্যের ভ্যাট পরিশোধ, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর মতো সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি এটিএম বুথের মাধ্যমে নগদ টাকাও তুলতে পারছেন মেলায় আগতরা। একই সঙ্গে গ্রাহকের নতুন হিসাব খোলা, বিভিন্ন আমানত ও ঋণ প্রকল্প সম্পর্কেও নানা তথ্য জানানো হচ্ছে।

মেলার সদস্য সচিব ইপিবির কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে মেলায় চারটি ব্যাংক সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ভ্যাট গ্রহণ, অর্থ লেনদেনের সুবিধার্থে সরাসরি সোনালী ব্যাংককে বরাদ্দ দিয়েছে ইপিবি।

মেলা প্রাঙ্গণে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সৈকত হাসান বলেন, মেলায় আরটিজেএস সুবিধা, যেটা ব্যাংকিং ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে অন্যতম একটা আধুনিক সুবিধা, এটা আমরা দিচ্ছি। মেলায় ব্যবসায়ীরা সারাদিন বিক্রি করেন। তাদের এই টাকার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা ৪টার পরও মেলায় টাকা জমা নিয়ে থাকি। সে ক্ষেত্রে আমরা পে-অর্ডার দিয়ে দেই। এই পে-অর্ডার ব্যাংকে জমা দিয়ে পরে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন তারা। এছাড়া এটিএম বুথের সুবিধা আছে। এটিএমের মাধ্যমে কার্ড হোল্ডাররা টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

জনতা ব্যাংকের প্যাভিলিয়নে দায়িত্বরত কর্মকর্তা পৃথ্বীরাজ কিশোর চন্দ্র জানান, মেলায় সাধারণ লেনদেনসহ ব্যাংকিং বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা অনলাইন ব্যাংকিং ও এটিএম বুথের সেবা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবার মধ্যে বাণিজ্য মেলায় এবার বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। বেশ কয়েকটি ব্যাংক নিয়মিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মেলায় আগতদের জন্য দিচ্ছে এ সেবা। মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সেবা দিচ্ছে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। সঙ্গে রয়েছে এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা। রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি ডাচ বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন আছে মেলায়। এছাড়া রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের একটি এটিএম বুথ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী এই মেলা ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। মেলার গেট ও বিভিন্ন স্টল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। এবারই প্রথম মেলার টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।

মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫টি। যাতে রয়েছে বাংলাদেশসহ থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়