• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

নুসরাত হত্যা: কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় জাবেদ, চেপে ধরেন মনি

ফেনী প্রতিনিধি
|  ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:২৯ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১০:০১
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তার সহপাঠী কামরুন্নাহার মনি ও জাবেদ।

whirpool
শনিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, আসামী কামরুন নাহার মনি ও জাবেদ হোসেন হত্যার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ঘটনার সময় বোরকা পরিহিত ৫ জনের মধ্যে মনি ও জাবেদ ছিল। নুসরাতকে হাত-পা বাধার পর আসামী মনি ছাদে শুইয়ে গলা চেপে ধরে। আসামী জাবেদ হোসেন ঘটনার সময় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেয় এবং ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ দুজন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছেন। এতে নতুন কিছু নামও উঠে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করা যাবে না।

আলোচিত এ মামলায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে এ পর্যন্ত ৭ আসামী জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হচ্ছেন- মামলার অন্যতম আসামী নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও উম্মে সুলতানা পপি। 

এ মামলা এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, এমরান হোসেন মামুন ও ইফতেখার হোসেন রানা। এদের মধ্যে মামলার এজহারভুক্ত আট জনের মধ্যে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামী করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়