• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

জেব্রা ক্রসিংয়ে এখনও লেগে আছে আবরারের রক্ত

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৭:১৪ | আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩১
তখন বাজে সকালে সাড়ে ৭টা নাগাদ। রাজধানী ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন প্রগতি সরণির সড়কে জেব্রা ক্রসিং দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। কিন্তু সুপ্রভাত পরিবহনের বেপরোয়া বাস আর জেব্রা ক্রসিং তোয়াক্কা করেনি। অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে বলি দিয়েছে আবরারকে। জেব্রা ক্রসিংয়ে যে রক্তের দাগ এখনও লেগে আছে।

whirpool
এদিকে ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আবরারের বন্ধুরা বলছেন, অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই বাসটি আবরারকে ধাক্কা দেয়। তিনি দুটি বাসের মাঝখানে পড়ে যান। পরে সুপ্রভাত বাসের নিচে চাপা পড়েন। আবরার নিয়ম মেনে নির্ধারিত জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন।

ঘটনার পর একজন পথচারী বলেন, ছেলেটি নিয়ম মেনেই রাস্তা পার হচ্ছিল। কিন্তু সুপ্রভাত বাসের চালক অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপাররত আবরারকে প্রথমে ধাক্কা ও পরে চাপা দেয়। বাসটি আবরারকে খানিকটা টেনেও নিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার জেরে বিইউপির শিক্ষার্থীরা কুড়িল থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ছয়টি জায়গায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে বেসরকারি নর্থ সাউথ ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।তারা ওই জেব্রা ক্রসিং ঘিরে রেখে বিক্ষোভ করছেন।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নিহত
---------------------------------------------------------------------

 

তাদের সঙ্গে বেসরকারি নর্থ সাউথ ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ সড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে এই এলাকায় এখন যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দুর্ঘটনার পর আবরারকে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন পথচারী

ঘটনার পর ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করলেও শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে আসবে না বলে জানায়।

তারা এসময় মিডিয়ার সামনে ৮টি দাবি জানান।

দাবিগুলো হলো:

১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রতিমাসে বাস চালকের লাইসেন্সসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে।

২. আটক চালক ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৩. আজ থেকে ফিটনেস বিহীন ও লাইসেন্স বিহীন চালককে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সব স্থানে আন্ডার পাস, স্পিড ব্রেকার ও ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

৫. সড়ক হত্যার সাথে জড়িত সবাইকে সর্বোচ আইনের আওতায় আনতে হবে।

৬. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থান বাসস্টপ ও যাত্রী ছাউনী করার জন্র যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. ছাত্রদের হাফ পাস বা আলাদ বাস চালু করতে হবে।

৮. দায়িত্বে অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আশ্বাস নয়, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন 

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়