• ঢাকা শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫

বৃদ্ধার ঘরে মিলল বস্তাভর্তি টাকা ও ৮৮ কেজি কয়েন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৪ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪১
‘রাজার ঘরেও যে ধন আছে, আমার (চড়ুই) ঘরেও সে ধন আছে’ কলিকালের চড়ুই পাখির প্রবাদবাক্য মিলেছে আজকের এই জামানায়। রাজা আর চড়ুই পাখির দেখা মিলেছে রাজধানীর দক্ষিণ মান্ডা এলাকায়।

গরিব সাজেদার (৭৫)।চার মাসের বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় উদ্বিগ্ন বাড়ির মালিক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ট্রেজার) জাকির হোসেন। 

তিনি বলেন, প্রতিদিনই রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন জিনিস বস্তায় ভরে ঘরে রাখেন মা সাজেদা ও মেয়ে আমেনা। এক পর্যায়ে ভাঙারির জিনিসপত্র দিয়ে তারা দুই ঘর ভরে ফেলে। এ জন্য তাদের ঘরের বাইরে ঘুমাতে হতো।

--------------------------------------------------
আরো পড়ুন: বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওয়ার্ড যুবদল সভাপতিকে গুলি করে হত্যা
--------------------------------------------------

এভাবে এক মাস কেটে গেলে তাদের কাছে ঘর ভাড়ার টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু তারা গড়িমসি করতে থাকেন। এভাবে কাটে আরও প্রায় দুই মাস। গত কয়েক দিন আগে ভাড়া চাওয়া হলে মেয়ের বাড়ি টাকা আনতে যাচ্ছেন বলে জানান। এরপর তারা সেখানে গিয়ে আর ফেরেননি।

বাড়ির মালিক ধরেই নিয়েছিলেন তারা বাড়িভাড়া দিতে পারবে না বলে আর ফিরবে না।এইজন্য বাড়ির মালিক এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সাজেদা বেগমের ঘর থেকে বস্তার স্তূপ সরিয়ে বাইরে ফাঁকা জায়গায় রাখি।

একটি বস্তা অনেক ভারী ছিল। পরে টোকাইরা বস্তা খুলে কাপড়ের ভাঁজে দেখতে পায়  টাকা ও কয়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয় । পুলিশ এসে প্রায় দেড় বস্তা এক-দুই টাকার নোট ও বিপুল পরিমাণ কয়েন উদ্ধার করে। গণনা করে পাওয়া যায় এক লাখ আট হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৮৮ কেজি কয়েন।

তিনি আরও জানান, এই টাকা ও কয়েন গণনা করতে ছয় থেকে সাতজন মানুষের সারাদিন লেগে যায়।

পরে পুলিশ সাজেদা ও মেয়ে আমেনাকে তার আরেক মেয়ে নাজমার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।

সাজেদা বেগম পুলিশকে বলেন, ১২ তারিখে বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এতদিন তারা আসতে পারেননি। তাদের অবর্তমানে ঘরের তালা ভেঙে টাকার বস্তা, মালপত্র বের করা বাড়িওয়ালার উচিত হয়নি। এগুলো আমার দীর্ঘদিন ধরে জমানো ভিক্ষার টাকা।

এ বিষয়ে মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, এই টাকার মালিক ভিক্ষুক বৃদ্ধা ও তার মেয়ে। আমরা এই টাকা মা-মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়েছি।  

আরো পড়ুন: 

আরসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়