Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
discover

কৃষ্ণচূড়া গাছটি এখন শুধুই স্মৃতি

কৃষ্ণচূড়া গাছটি এখন শুধুই স্মৃতি
কৃষ্ণচূড়া গাছ

অযত্ন-অবহেলা, ডাল কাটা, বিভিন্ন পোস্টার আর বিলবোর্ডের পেরেকের ভারে মারা গেছে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কৃষ্ণচূড়া গাছটি। প্রকৃতি পালাবদলের সাথে রূপ বদলাতো গাছটি। হেমন্তের এই সময়ে সবুজ পাতায় ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকটিকে রাঙ্গিয়ে তুলতো। আর গ্রীষ্মকালে গাছটি রক্তের মতো রাঙা রূপে হাজির হতো। সেই গাছটি এখন নিষ্প্রাণ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গত ২ মাস আগে গাছটি মারা গেছে। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আরটিভি নিউজের কাছে অভিযোগ করে বলেন, গাছটি নিয়মিত পরিচর্যা করা হতো না। প্রধান ফটকের সামনে হওয়ায় অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পেরেক দিয়ে বসানো হতো। সেই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কখনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এ ছাড়াও কয়েক দফায় গাছটির ডাল কাটা হয়েছিল। এসব কারণেই গাছটি মারা গেছে। যে গাছটির সঙ্গে আমাদের হাজারও স্মৃতি বহমান সেই গাছটির এই অবস্থা দেখে আমরা ব্যথিত- মর্মাহত। সেই স্থানে আবারও পরিকল্পিতভাবে কৃষ্ণচূড়া গাছ চাই আমরা।

জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিলবোর্ডের পেরেক, বৈদ্যুতিক লাইনের তারের জন্য কয়েক দফায় ডাল কাটা, করোনাকালীন সময়ে গাছটির পরিচর্যা না করায় গাছটি মারা গেছে। গাছটি মারা যাওয়ার দুই মাস পার হলেও কর্তৃপক্ষ নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গাছটির এমন অবস্থা শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গাছটির পূর্বের ছবির সাথে বর্তমান সময়ের চিত্র দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছেন। এছাড়াও একই স্থানে নতুন করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর দাবি জানাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আদনান আরটিভি নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সৌন্দর্যবর্ধক কৃষ্ণচূড়া গাছটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন এবং অবহেলায় ছিল। গাছের জন্য প্রয়োজনীয় সার দেওয়া তো দূরের কথা। বরং এর মূলে একটু পানি পর্যন্ত দেওয়া হতো না। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার জন্যই ঐতিহ্যবাহী এই গাছটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রোজদার আলী রুপম আরটিভি নিউজকে বলেন, করোনাকালে গাছটির বেহাল দশা দেখে আমি ব্যক্তি উদ্যোগে গাছটির পরিচর্যা শুরু করি। তবুও গাছটিকে বাঁচানো গেল না। গাছটি মারা যাওয়ায় প্রধান ফটকটিকে নিষ্প্রাণ লাগে। প্রায় ২০ বছর ধরে গাছটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফঢকটিকে সৌন্দর্য্যমন্ডিত করে রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে অ্যাস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিপু সুলতান আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি তখন এ দায়িত্বে ছিলাম না। পূর্বের প্রশাসনের সময় এমনটি ঘটেছে। তবে এখনও গাছ লাগানোর কোনো পরিকল্পনা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে গাছ লাগানো হবে। তবে কৃষ্ণচূড়া গাছ নাও হতে পারে, বিকল্প গাছও লাগানো হতে পারে।

এমআই/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS