Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১৪ কার্তিক ১৪২৮

স্বামীর সর্বস্ব নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন স্ত্রী

স্বামীর সর্বস্ব নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন স্ত্রী
ফাইল ছবি

সন্তানসহ সৌদি আরবে স্বামী শাহ আলমের কাছে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ। এরই মধ্যে ঘটলো অঘটন। চলে যাওয়ার তারিখ পড়ার আগেই স্বামীর সর্বস্ব লুটে নিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়েছেন স্ত্রী। এ ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডী কালু ফকিরপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৪ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে সবার অগোচরে পালানোর সময় স্বামীর পাঠানো নগদ ছয় লাখ টাকা, ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালিয়েছেন তিনি। সঙ্গে দুই বছরের শিশুসন্তানকেও নিয়ে গেছেন।

ওইদিন ভোর হতে মঙ্গলবার সারাদিন নানান জায়গায় খোঁজাখুঁজির পওর ওই গৃহবধূকে না পেয়ে কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নিরুদ্দেশ হওয়া ওই গৃহবধূ সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী। তাদের নুজাইফা ইসলাম রাইসা নামে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

প্রবাসী শাহ আলমের ছোট ভাই শাহ আমিন জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের উত্তর শরীফপাড়ার ওই নারীর সঙ্গে শাহ আলমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। গত সোমবার ভোর ৪টার দিকে বাড়ির সবার অজান্তে শিশুসন্তানসহ রোকসানা নিরুদ্দেশ হন। ফজরের আজানের পর সবাই ঘুম থেকে উঠলেও তার সাড়াশব্দ না পেয়ে দেখতে গিয়ে রুমের দরজা খোলা পাওয়া যায়।

রুমে ঢুকে আলমিরা খোলা দেখে তল্লাশি করে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবেশী মোক্তার আহমদের ছেলে মো. রিদুয়ানের (২০) সঙ্গে রোকসানা পালিয়ে গেছেন। ঘটনার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে প্রবাসী স্বামী, জিডিকারী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে মোবাইলে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার হুমকি দেন রোকসানা।

প্রবাসী শাহ আলম মোবাইল ফোনে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেয়েটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই রোকসানার পরকীয়ার বিষয়টি শুনছিলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলে অস্বীকার করতো। আমি ছুটিতে দেশে আসতে চাইলেই বেঁকে বসত। বলত, ঘর বিল্ডিং করলেই আমি দেশে আসতে পারব। প্রয়োজনে তাকে সৌদি আরব নিয়ে যেতে বলত। তার কথামতো প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে ঘর তোলার জন্য মাসখানেক আগে ছয় লাখ টাকা পাঠাই। বিয়েতে দেওয়া আট ভরি স্বর্ণ এবং গত মাসে ছুটিতে দেশে যাওয়া তার (স্ত্রীর) মামাকে দিয়ে মেয়ের জন্য তিন ভরি স্বর্ণ পাঠানো হয়।

শাহ আলম আরও বলেন, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমাদের পাঁচ ভাইয়ের দুই ভাই এক ঘরে আর তিন ভাই আলাদা ঘরে বাস করি। আমরা দুই ভাই এক ঘরে থাকি কিন্তু দুজনই প্রবাসে। বাড়ির একপাশে আমার স্ত্রী আরেক পাশে অন্য ভাইয়ের স্ত্রী থাকত। বাড়ির নিয়মিত কাজে ব্যবহার হওয়া যে সিএনজি করে চলে গেছে তার চালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। অসুস্থতার কথা বলে ফোন করে ডেকে সবকিছু নিয়েই তার গাড়িতে ওঠে রোকসানা। সঙ্গে রিদুয়ানও ছিল। প্রথমে চালকের বাসায় গিয়ে পরে আমার শাশুড়ির কাছে যায় তারা। সেখান থেকেই নিরুদ্দেশ হয়। সে আমার সর্বস্ব লুটে চলে গেছে। বিষয়টি রোকসানার চাচা তাদের ওয়ার্ড মেম্বারকেও অবহিত করা হয়েছে। তিনিও সিএনজি চালকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন।

এমআই/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS