Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮

কঠোর বিধিনিষেধেও গার্মেন্টস খোলা রাখতে চায় বিজিএমইএ, সিদ্ধান্ত শনিবার

BGMEA wants to keep garments open despite strict restrictions, the decision was made on Saturday
ফাইল ছবি

ঈদুল আজহার পর ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও পোশাক কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ নেতারা এই দাবি জানান।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৮ দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই শিথিলতা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সেই বিধিনিষেধে শিল্পকারখানাও বন্ধ থাকবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা পোশাক কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আমাদের জানিয়েছেন, আগামী পরশু শনিবার (১৭ জুলাই) তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘করোনার কারণে যেসব অর্ডার ফিরে এসেছিল সেগুলো নিয়ে মাত্র কাজ শুরু হয়েছে গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে। সামনে শীতের জন্য কাজ চলছে এখন। এমন সময় গার্মেন্ট শিল্প ২ সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকলে সমস্যায় পড়বে শিল্প। গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকবে এটা শুনেই বায়াররা অর্ডার স্লো করে দিয়েছে। তাই আমাদের দাবি, সবকিছুর জন্য বিধিনিষেধ থাকলেও গার্মেন্ট শিল্প যেন এ সময় খোলা থাকে।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সরকার নতুন করে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য বলেছি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আমরা চিঠি দিয়েছি। বিধিনিষেধের মধ্যে যে সময়টুকু কারখানা বন্ধ থাকবে, তার মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়গুলো জানিয়েছি। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সে অনুযায়ী বিবেচনা করতে বলেছি।’

ফারুক বলেন, ‘আমাদের আবেদন শিল্প কারখানা যেন খোলা থাকে। কারণ আমরা জানি শিল্প কারখানা যদি খোলা না রাখা যায়, এটা মারাত্মকভাবে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। করোনার প্রথম ধাক্কায় শিল্প কারখানাগুলোর অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছিল। আবার সেগুলো ফিরে এসেছে। এগুলো বাস্তবায়ন করছি। উইন্টার ও ফল সিজনের শিপমেন্টগুলো ১৫ আগস্টের মধ্যে শিপমেন্ট করতে হয়।’

ফারুক আরও বলেন, ‘গত বছর করোনার সময় ৪ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল হয়েছিল। অর্ডারগুলো ধীরে ধীরে ফিরে পেয়েছি। কিন্তু এই বিধিনিষেধ ঘোষণা শোনার পর থেকে বায়াররা অর্ডার স্লো করে দিয়েছে, বন্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে অনুরোধ করেছি। উনারা বিবেচনা করবেন বলে আশা করছি। শিপমেন্ট করতে না পারলে অর্ডার ক্যানসেল হয়ে যাবে। শিপমেন্ট যাতে করতে পারি, সেই সহযোগিতা চাচ্ছি।’

পোশাক মালিকদের এই নেতা বলেন, ‘সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডির অল্প সময়ের জন্য সিজন থাকে। সে কারণে এই শিপমেন্টগুলো যদি দিতে না পারি, যেসব অর্ডার এনেছি, ফ্যাক্টরিগুলো দেউলিয়া অবস্থার মধ্যে চলে যাবে। ক্লোজিং ভীষণ সমস্যায় পড়ে যাবে। এজন্য জীবন-জীবিকার সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি। শনিবার সভা আছে, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

কেএফ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS