Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

জানা গেল জাপানি স্ত্রীর সঙ্গে ইমরানের বিরোধের কারণ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান শরীফ ও জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকো

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান শরীফ ও জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকোর দাম্পত্য জীবনে তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে সর্বশেষ দুই সন্তানের জিম্মা নিয়ে ইমরান শরীফ ও এরিকোর মধ্যে আইনি লড়াই চলছে।

দাম্পত্য জীবনের এতোদিন পর টানাপোড়েন সৃষ্টির বিষয়টি স্পষ্ট করলেন ইমরান শরীফ। তিনি বলছেন, জাপানের টোকিওতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে।

ইমরান শরীফ বলেন, তিনি মেয়েদের অপহরণ করেননি, স্বেচ্ছায় মেয়েরা বাবার সঙ্গে এসেছেন। সন্তানদের মা ইমরানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন তা অসত্য। তবে জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, এটি অনেক সমস্যার একটি। এটি একমাত্র সমস্যা নয়।

জাপানের নাগরিক নাকানো এরিকোর দুই কন্যাকে উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দুই কন্যাকে ফিরে পেতে জাপানি নারী ঢাকায় এসে হাইকোর্ট বিভাগে ১৯ আগস্ট রিট আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৩১ আগস্টে ১০ ও ১১ বছরের দুই কন্যাকে হাজির করতে তাদের বাবা ও ফুফুকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগেই সিআইডি দুই শিশুকে উদ্ধার করে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে পুলিশের জিম্মায় আছে দুই শিশু। আদালতের নির্দেশনা সকাল থেকে পর্যন্ত মা সন্তানের কাছে সময় কাটাবেন এবং বাবা দুপুর থেকে মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মায়ের মতো ইমরানও নিজের সন্তানদের জন্য খাবার রান্না করে নিয়ে এসে উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের অভ্যর্থনাকক্ষে অপেক্ষা করছেন। সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় থাকা ইমরান শরীফ দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর সঙ্গে ২০০৮ সালে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১১, ১০ ও ৭ বছর বয়সী ৩টি মেয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান কলেজ জীবন শেষে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তড়িৎকৌশল নিয়ে পড়তে যান। পরে কর্মসূত্রে জাপানে এলে এরিকোকে বিয়ে করেন। এরিকো পেশায় চিকিৎসক। সপরিবার তারা টোকিওতেই থাকছিলেন। তবে প্রায়ই পেশাগত প্রয়োজনে তাকে টোকিওর বাইরে যেতে হতো। এর মধ্যেই তিনি একবার জানতে পারেন, তার স্ত্রী ও শ্বশুর টোকিওর বিলাসবহুল এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পরিকল্পনা করছেন। ইমরানের দাবি, ভালোভাবে সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই তার স্ত্রী ও শ্বশুর অ্যাপার্টমেন্টটি কিনে ফেলেন। ওই অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা তার ছিল না। তবু তাকে ৮০ শতাংশ ঋণ শোধ করার জন্য চাপাচাপি করেন স্ত্রী ও শ্বশুর। বছর দেড়েক ঋণ শোধ করার পর তিনি অপারগতা জানালে তাকে অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দেয় চিঠি দেয়া হয়।

শিশুদের বাবা বলেন, তার সঙ্গে তার স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়নি। তবে অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে যাওয়ার জন্য তার শ্বশুর তাকে কয়েবার চিঠি দেন। তারা (শ্বশুর) অ্যাপার্টমেন্টে এসে থাকবেন, এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন ওই চিঠিতে। অন্য চিঠিটি ছিল তার স্ত্রী নাকানোর পাঠানো। যেখানে তিনি আলাদা থাকা ও পরবর্তীকালে তালাক দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। এরপর মেয়েদের কাছে সব কথা জানালে ২১ জানুয়ারি স্কুল থেকে ফেরার পথে বড় দুই মেয়েকে নিয়ে জাপানেই অন্য একটি বাসায় ওঠেন। পরে পাসপোর্টের কাগজপত্র ঠিকঠাক করে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিয়ে আসেন তাদের। তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে জাপানের আদালতে তিনটি মামলা করেছেন।

ইমরান শরীফের পক্ষের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, জাপানের আদালতেও অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে বিরোধের উল্লেখ রয়েছে।

নাকানোর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি ইমরান শরীফ স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করেন। এর তিন দিন পর তিনি বড় মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু নাকানোর অনুমতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। ওই দিনই স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুই মেয়েকে বাসস্ট্যান্ড থেকে তুলে অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

সন্তানদের জিম্মা চেয়ে ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিওর পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। তখন সন্তানদের সঙ্গে মায়ের সাক্ষাতের আদেশ দেন আদালত। কিন্তু ইমরান শরীফ আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের সাক্ষাতের সুযোগ দেন। ইমরান মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি পাসপোর্ট করেন। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন ইমরান শরীফ। এখন সন্তানদের কাছে পেতে বাবা-মা দুজনই আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এফএ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS