logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির ভিডিও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

The High Court has directed to remove the video of indecent exposure to the housewife
হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শমীম এই আদেশ দেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ করায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনার ৩৩ দিন পর নয়জনকে আসামি করে রোববার (৫ অক্টোবর) দিনগত রাতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নির্যাতিতা গৃহবধূ (৩৫) বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় প্রধান আসামি বাদলসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব। গ্রেপ্তার অন্যরা হলো-দেলোয়ার (২১), মো. আব্দুর রহিম (২০) ও মো. রহমত উল্যাহ (৩১)। বাদলকে ঢাকা ও দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ সোমবার ভোর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার আগে গতকাল রোববার রাতে বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

নিজের মেয়েকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা নূর ইসলাম বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কোনো কথা বলার সাহস পাই না। আমি শুধু আল্লাহর কাছে বিচার চাই।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন উর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের ৫টি ইউনিট ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব। পুলিশ অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এবং নির্যাতিতা পরিবারকে আইনি সহযোগিতা দিতে জেলা পুলিশের ৫টি ইউনিট মাঠে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: 
নোয়াখালীর ঘটনায় শাহবাগ মোড় অবরোধ
‘আমরা নিরীহ মানুষ, শুধু আল্লাহর কাছে বিচার চাই’

পি

RTVPLUS