logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

মর্গে মুন্নার ধর্ষণের দায়ে নিরাপরাধ ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর মুক্তি

Munnar, released, arresting, innocent, man, rape, morgue
মর্গে মুন্নার ধর্ষণের দায়ে নিরাপরাধ ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর মুক্তি

শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে রাখা তরুণীদের মরদেহ ধর্ষণ করতো ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত। আর সেই ধর্ষণের দায়ে দু’জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদেরকে কারাগারেও পাঠানো হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের ডিএনএ পরীক্ষার করলে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মুক্তি দেন আদালত।

জানা গেছে, রাজধানী আদাবর এলাকায় ২০১৯ সালে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী আত্মহত্যা করেন। আর সেই তরুণীর ফরেনসিক প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়ায় তরুণীর প্রেমিক ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তরুণীর প্রেমিক ও তার বন্ধুর ডিএনএ পরীক্ষা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, তারা তরুণীটিকে ধর্ষণ করেননি। এতে মুক্তি মেলে তাদের।

সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক সৈয়দ রেজাউল হায়দার বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আত্মহত্যার পর যেসব মরদেহ শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে আনা হতো সেগুলোর মধ্যে অল্প বয়স্ক তরুণীদের মরদেহ ধর্ষণ করতো মুন্না। ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক।

আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, তরুণী আত্মহত্যার পর তার পরিবারের তথ্য অনুয়ায়ী প্রেমিক ও তার বন্ধুকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় সত্যতা পাওয়া যায় যে, তরুণীর প্রেমিক ও বন্ধু নির্দোষ। ডিএনএ’র তথ্য আদালতে দাখিল করলে তাদেরকে খালাস দেয়।

সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার সামসুন নাহার গণমাধ্যমকে বলেন, ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত বিকৃত ঘটনা প্রমাণ হওয়ার পর তার যোগদানের তারিখ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি নারী-শিশুর মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করি। সেগুলো প্রোফাইলিংয়ের পর নতুন করে দুটি ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। আরও কয়েকটি নমুনা প্রমাণের কথাও শুনছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউটন কুমার দত্ত বলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে যে কয়টি মরদেহে মুন্না ভগত তার বিকৃত রুচির বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছে প্রতিটিতেই সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু বা অন্য ধারায় মামলা রয়েছে। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন বা ডিএনএ ফলাফলের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো আলাদভাবে প্রতিটি মামলা তদন্ত করতে পারবে।

ডোমের সহযোগী মুন্না ভগতকে যেভাবে শনাক্ত করলো সিআইডি

২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। ল্যাব স্থাপনের পর হতে ধর্ষণ ও হত্যাসহ আদালতের নির্দেশে প্রেরিত সব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে সিআইডি। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ কয়েকটি নমুনা পাঠিয়েছিল সিআইডিকে। সেখানে মৃত নারীর এইচভিএসে পুরুষ বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কোডিস (CODIS) সফটওয়্যার সার্চে দেখতে পায় মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনায় প্রাপ্ত ডিএনএ’র প্রোফাইলের সঙ্গে একই ব্যক্তির ডিএনএ বারবার ম্যাচ করছে। যেটা অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিল। ধারণা করা হয়, একজন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা অথবা ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যা হয়েছে। কিন্তু মরদেহগুলোতে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

গত বছরের ২০ নভেম্বর সিআইডি থেকে বলা হয়, কয়েক জনের মৃতদেহে একই ব্যক্তির ডিএনএ’র প্রমাণ মিলে যায়। তখন কোনও না কোনোভাবে ভিকটিমদের মৃতদেহের ওপরে কোনও ব্যক্তির বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ হয়েছে। প্রতিটি মৃতদেহ মর্গে আনার পর তার মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। সব লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রেখে দেওয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন ডোম নিয়মিত পাহারা দিতো। কিন্তু এই লাশগুলোর ক্ষেত্রে একজন ডোম সহকারী নিয়মিত ডিউটিতে থাকতো। প্রাথমিকভাবে তাকে সন্দেহ হয় সিআইডির। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাইরে নিয়ে গিয়ে কথা বলার নামে, চা খাওয়ার ছলে তার ডিএনএ সংগ্রহ করে। সেটা সিআইডি ল্যাবে নিয়ে এসে বিশ্লেষণ করলে ওই ৬ মরদেহের ডিএনএ’র সঙ্গে ম্যাচ করে। তখন শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। বিষয়টি আসামি বুঝতে পেরে গাঢাকা দিয়েছিল। কিন্তু গাঢাকা দিয়ে বেশিদিন থাকতে পারেনি। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS