DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

বাংলাদেশ থেকে শিগগির নতুন নিয়মে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

শাহীনুর রহমান ও সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১৫ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৯
বাংলাদেশ থেকে শিগগির নতুন নিয়মে কর্মী যেতে পারবে মালয়েশিয়ায়। চলতি মাসেই কর্মী নিয়োগের এ ঘোষণা দিতে পারে দেশটি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, গত অক্টোবরে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির সরকারের।

এরইমধ্যে দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের একাধিক বৈঠক হয়েছে। আশা করছি শিগগির বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ চালু হবে।

তিনি বলেন, এবার নিয়োগ চালু হলে স্বল্প ব্যয়ে অভিবাসনের সুযোগ উন্মোচন করবে। সেক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। অনলাইনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

২০১২ সালে জিটুজি পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ১০টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে জিটুজি প্লাসের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মাধ্যমে ২০১৭ সালে ৯৯ হাজার ৭৮৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়া যান। আর ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৮১৯ জন শ্রমিক পাঠিয়েছে এ ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি।

পরে এসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে গত ১৪ আগস্ট এক বিশেষ কমিটির বৈঠকে জিটুজি প্লাস থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

তিনি এসময় নতুন পদ্ধতিতে লোক নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।

যে পরিকল্পনায় ছিল- কর্মী নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনও সুনির্দিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি থাকবে না। নিবন্ধিত সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে লোক নেয়া হবে।

মূলত ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত ছিল মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

বাংলাদেশ অংশে কাজ করেছে এ ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটটি। অভিযোগ আছে, এ চক্র ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীপ্রতি আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। অথচ জিটুজি প্রক্রিয়ায় কর্মীদের কাছ থেকে জনপ্রতি সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা নেয়ার কথা।

হঠাৎ করে কর্মী নেয়া বন্ধের সিদ্ধান্তে ১ সেপ্টেম্বরের আগে কাজের অনুমতি পাওয়া ৭০ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়ায় গমনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দুই দেশের মন্ত্রিপর্যায়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল হলেও গত ৩০ আগস্টের আগে যেসব বাংলাদেশি কাজের অনুমতিপত্র পেয়েছেন, তাদের সবাই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন :

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়