• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৪

ফুটপাত আর পথচারীদের নেই

খান আলামিন
|  ০২ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১৯ | আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৩৭
‘সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা’- আরএসটিপি’র প্রথম ধাপে পথচারী চলাচল নির্বিঘ্নে করার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সেদিকে নজর পড়ছে না কর্তৃপক্ষের। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সামান্যই। অথচ ঢাকা শহরে পায়ে হেঁটে মানুষের চলাচল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ফুটপাত এখন নেই পথচারীদের জন্য।

ঢাকা শহরের ফুটপাতের বর্তমান চিত্র হচ্ছে, ফুটপাত আছে আবার ফুটপাত নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাথ যেখানে আছে সেখানেও আবার অধিকাংশই দখলের কবলে। এছাড়া ভাঙাচোরা, এবড়ো-থেবড়ো, ময়লা-আবর্জনার যন্ত্রণাতো আছেই।

ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৭৬ শতাংশ মানুষের যাতায়াত পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে। যার ৩৮ শতাংশের আবার দুই কিলোমিটারের মধ্যে। ফলে যেকোনো বাহনের চেয়ে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করে। অথচ ঢাকার রাস্তার দু’পাশে ৩৭ শতাংশ ফুটপাথ আছে। একপাশে আছে ১৯ শতাংশ, আর ফুটপাত নেই ৪৪ শতাংশ রাস্তায়। যেখানে আছে তার ৫৫ শতাংশ ময়লার স্তুপে ভরা এবং ৩১ শতাংশ উঁচু-নিচু, এবড়ো-থেবড়ো।

বিশ্বের বেশ কয়েকটি শহরে যেমন জাপান, ইংল্যান্ড, কলম্বিয়ায় মূল সড়কের চেয়ে বেশি জনবান্ধব ফুটপাত, আর ঢাকার ঠিক এর উল্টো চিত্র। অথচ জনবিমুখ ফুটপাতকে জনবান্ধব করতে, আরএসটিপিতে খুব সামান্য টাকাই বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফুটপাতগুলো সংস্কার ও নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ফুটপাতকে বাদ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পগুলো বস্তবায়ন হচ্ছে অনেকটা অপরিকল্পিতভাবেই।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী আদর্শ ফুটপাতের কিছু ধারণা এখন সমাদৃত। আবাসিক এলাকায় কমপক্ষে তিন দশমিক তিন মিটার ফুটপাত প্রয়োজন। যেখানে পথচারীদের জন্য এক দশমিক আট মিটার এবং সবুজায়ন ও বিশ্রামের জন্য এক মিটার জায়গা রাখার কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকায় থাকবে পাঁচ মিটার। এর মধ্যে আড়াই মিটার পথচারীদের ও দেড় মিটার সবুজায়ন ও বিশ্রামের জন্য। জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকার ক্ষেত্রে সাড়ে ছয় মিটার ফুটপাত রাখার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। যেখানে চার মিটার পথচারীদের জন্য, সবুজায়ন ও বিশ্রামের জন্য দেড় মিটার। অথচ এদেশে কোথাও বিশ্ব মানদণ্ড অনুসরণ করে ফুটপাত নির্মাণ হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মারুফ হোসেন বলেন, 'এই শহরে অর্ধেক যাতায়াত হয় প্রায় হেঁটে, সুতরাং এখানে বিনিয়োগটা ওইভাবে হওয়া উচিৎ। মেট্রোরেল, বিআরটি-তে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে, পাঁচ'শ কোটি বা হাজার কোটি টাকা দিয়ে পথচারীদের জন্য প্রকল্প নেয়া উচিৎ, যাতে মানুষ এখানে উৎসাহিত হয়।'

পথচারীবান্ধব ঢাকা গড়তে পারলে যানজট নিরসন, জ্বালানী সাশ্রয় সর্বোপরি পরিবেশবান্ধব একটি মানবিক নগরী গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
 

আরও পড়ুন :

জিএ / জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়