• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

আইসিসি-বিসিসিআইয়ের দ্বন্দ্বে ঝড়ের আভাস

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৪২ | আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৫২
গত কয়েকবছর ধরেই আইসিসি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তবে এবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এ সংস্থার আসন্ন সভাকে ঘিরে আগে থেকেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লো দুটি সংস্থা। যার মূলে রয়েছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। 

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান করছে প্রতিযোগিতার আয়োজক ভারত এবং ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ২০২১ সালের মেগা এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চরমে গিয়ে ঠেকতে পারে। আইসিসি চায় পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হবে ২০ ওভারের, আয়োজক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) চায় ৫০ ওভারের। 

দুই প্রতিষ্ঠানের দুই মেরুতে অবস্থানের কারণে কলকাতায় আইসিসির বৈঠক ফের উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। যেখানে ২২ থেকে ২৬ এপ্রিল, বেশ দীর্ঘ বৈঠকের সূচি রয়েছে। সভায় ২০১৯ বিশ্বকাপের সূচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও হবে। সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, পাকিস্তান থেকে বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা আসছেন। তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে ভিসার আয়োজন করা হয়েছে। পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান নাজম শেট্টির আসার কথা ছিল রবিবারেই। 

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বিশ্বকাপের পরই বিদায় বলবেন যুবরাজ
--------------------------------------------------------

আগে ঘোষণা করা হয়েছিল ভারতে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালে পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হবে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে। কিন্তু, হঠাৎ করেই আইসিসি তার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে। জানিয়ে দেয় ওয়ানডে ফরমেট না, টুর্নামেন্ট হবে টি-টোয়েন্টি ফরমেটে। তাতে বাধ সাধে বিসিসিআই। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার এমন প্রস্তাব মানতে নারাজ তারা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে বিবাদ চরম আকারে যাওয়ার আগে খবর হলো, ভারতীয় বোর্ডের কর্তারা জানিয়েছেন, আইসিসি যা খুশি তাই শুরু করে দিয়েছে। আমরা টুর্নামেন্ট করতে চেয়েছিলাম পঞ্চাশ ওভারের। এখন টি-টোয়েন্টি করে দিলেই আমরা তা মেনে নেব কেনো?

ভারতীয় বোর্ডের কর্তারা উত্তেজিতভাবে আরও বলছেন যে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো লাভজনক ও জনপ্রিয় একটি প্রতিযোগিতা চালুই করেছিল ভারত। তারা বলছেন, জাগমোহন ডালমিয়া যখন আইসিসির প্রধান হন, তখন কোষাগারে কোনও অর্থই ছিল না। আইসিসি-তে অর্থ আনার জন্য উনি মিনি বিশ্বকাপ নামে এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন। পরবর্তীকালে নাম পাল্টে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি করা হয়। আইসিসি ইতিহাসটাকে মনে রেখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভুলে গিয়েছে।

অন্যদিকে ভারতীয় বোর্ড কর্তাদের ক্ষোভ দেখানোটাও স্বাভাবিক। তারা চেয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল ইডেনে আয়োজন করবেন। সেখানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসির সাবেক প্রধান প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। যেহেতু সাবেক বোর্ড ও আইসিসি প্রধানই এই প্রতিযোগিতা চালু করেছিলেন। ডালমিয়ার চালু করা প্রতিযোগিতার ভাগ্য কী দাঁড়ায়, সেটাও এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাইরে থেকে দেখে অনেকে বিস্মিত হতে পারেন যে, আইসিসি প্রধান এখন ভারতের শশাঙ্ক মনোহর। তার পরেও ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে কেনো এমন সম্পর্কের অবনতি? এর কারণ, অধিকাংশ বোর্ড কর্তার সঙ্গেই মনোহরের সম্পর্ক খারাপ। তিনি যেভাবে মাঝপথে বোর্ড ছেড়ে আইসিসি-তে চলে গিয়েছেন, তা নিয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ।

আইসিসি-তে গিয়েও মনোহর ভারত বিরোধী অনেক সিদ্ধান্ত বলবৎ করেছেন বলে অভিযোগ। যেমন, ভারতীয় বোর্ডের প্রাপ্য টাকা কমিয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তান বোর্ডকে প্রচ্ছন্ন মদত জুগিয়েছেন ভারতের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার ব্যাপারে। আয়করের কথা তুলে ভারত থেকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ভারতীয় বোর্ডের কেউ কেউ তাই মনোহরকে সরিয়ে নতুন আইসিসি চেয়ারম্যান আনার দাবি তুললেও অবাক হওয়ার থাকবে না।

আরও পড়ুন : 

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়