logo
  • ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

ম্যানসিটির জয়ের পরও সেমিতে টটেনহ্যাম

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩৮ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৫৯
সেমিতে ওঠায় উল্লাসরত টটেনহ্যামের খেলোয়াড় ও কোচ

প্রথম লেগে পরাজিত হওয়ার পর দ্বিতীয় লেগে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে জয় তুলে নেয় ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্ত অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে পরাজয়ের পরও সেমিতে জায়গা করে নেয় আরেক ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার। ম্যানসিটির এমন বিদায়ে চলতি মৌসুমে কোয়াড্রাপল জয়ের স্বপ্নচ্ছেদ ঘটলো গার্দিওলার শিষ্যদের। 

বুধবার রাতে নিজেদের মাঠ ইতিহাদে টটেনহ্যামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচটিতে ৪-৩ গোলে জয় পেলেও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে কোয়ার্টারেই থামতে হয় আগুয়েরো-রহিম স্টার্লিংদের। অপরদিকে সেমিতে টটেনহ্যাম প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলো রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসকে বিদায় করে দেয়া আয়াক্সকে। 

ম্যাচের শুরুতেই থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে উঠেছিল ম্যাচটি। ম্যাচের ২১ মিনিটের মধ্যেই হয় পাঁচটি গোল। খেলা শুরু চতুর্থ মিনিটেই নিজেদের মাঠে এগিয়ে যায় ম্যানসিটি। কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে কিয়েরন ট্রিপিয়েরকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের শটে হুগো লরিসকে পরাস্ত করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড রহিম স্টার্লিং।

তবে এ লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সিটি। সপ্তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসনের পাস ধরে ৮ গজ দূর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং মিন। গোল সমতায় গিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় পচেত্তিনোর শিষ্যরা। সেই সাফল্য ধরা দিতে বেশি সময় নেয়নি। খেলার ১০ম মিনিটে এরিকসের বাড়ানো বল ১৭ গজ দূর থেকে উঁচু ও কোনাকুনি শটে জালে জড়ান দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড সন। এটি ছিল ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল আর গত দুই ম্যাচে তৃতীয় গোল। 

কিন্তু স্পার্সদের এগিয়ে থাকার আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ১ মিনিট। মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে ৪ গোল! এবার সিটির হয়ে গোল করে সমতা ফেরান স্ট্রাইকার বার্নান্দো সিলভা। তখনও দুই লেগ মিলে ৩-২ গোলে এগিয়ে স্পার্সরা। ২১তম মিনিটে আবারো গোল এবার এগিয়ে সিটি। ডি ব্রুইনের ব্যাক পোস্টে পাঠানো বল অনায়াসে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান সেখানে অপেক্ষমান অবস্থায় থাকা স্টার্লিং। 

৩-২ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় ম্যানসিটি। ম্যাচরে ৫৯তম মিনিটে ব্যবধান ৪ এ উন্নীত করেন আগুয়েরো। ডি ব্রুইনের রক্ষণচেরা পাস ডি-বক্সে ডান দিকে পেয়ে জোরালো কোনাকুনি শটে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। সিটির আকাশে উঁকি দেয় সেমির স্বপ্ন।

কিন্তু তখনও নাটকীয়তা বাকি। কারণ ফুটবলে এক গোল লিডের ভরসায় অন্তত এমন ম্যাচে থাকা যায় না। শেষ পর্যন্ত ৭৩তম মিনিটে সেই অশনী সংকেতটাই সত্যি হয়ে গেল সিটির জন্য।কিরান ট্রিপিয়ারের কর্নারে উড়ে আসা বল ছোট ডি-বক্সে স্পেনের ফের্নান্দো লরেন্তের ঊরুতে লেগে জালে জড়ায়। বল তার হাতে লেগেছিল কি-না, ভিএআর দেখে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে সমতা ফেরে, কিন্তু অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে ফের এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্টার্লিং জালে বল পাঠালে উচ্ছ্বাসে মাতে স্বাগতিক সমর্থকরা। সাইডলাইনে কোচ পেপ গার্দিওলার উল্লাস ছিল দেখার মতো। তবে সব আনন্দ মাটি হয়ে যায় কিছুক্ষণ পরেই। আগুয়েরো অফসাইডে থাকায় ভিএআরের সাহায্যে বাতিল হয় গোলটি। ম্যাচ শেষে সিটি খেলোয়াড়দের চোখে মুখে ছিল হতাশা। পুরো মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত খেলে ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে চোখের জল নিয়ে বিদায় নিতে হয় তাদের।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পা রাখলো টটেনহাম। এর আগে ১৯৬১-৬২ মৌসুমে এই সৌভাগ্য হয়েছিল তাদের। এই ম্যাচে একটা রেকর্ডও হয়েছে। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটেই ৫ গোল হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এত কম সময়ে ৫ গোল অতীতে কখনও হয়নি।

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়