logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আরটিভি নিউজ

  ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২০:১২
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২০:৫০

সাকিব ক্ষমা চেয়ে ভালো করেছেন, কেউ বলছেন উল্টো

সাকিব আল হাসান
বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জুয়াড়ির সঙ্গে কথোপকথন গোপন করায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আইসিসি তার বিরুদ্ধে দুই বছরের সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এক বছর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। বাকি এক বছর নিষেধাজ্ঞা শেষ (২৯ অক্টোবর) হওয়ার পরেও তিনি ৩৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব সেরা ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

বিশ্বের সেরা ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে থাকার খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্বসহকারে হেডলাইন করে ‘নিষেধাজ্ঞামুক্ত বিশ্বসেরা সাকিব’ ‘ক্রিকেটে ফিরেই শীর্ষে সাকিব’ এ রকম বিভিন্ন চমকপ্রদক হেডলাইন চোখে পড়ে সাকিব ভক্তদের। তাকে নিয়ে এমন চমৎকার খবর প্রকাশ হওয়ায় ভক্তদের মন ভাল হয়ে যায়। এমন প্রশংসিত হেডলাইনের ঠিক কয়েকদিন পর সাকিব আল হাসান দেশ ফেরেন। দেশের মাটিতে পা রেখেই একের পর এক কর্মকাণ্ডে সমালোচিত হতে থাকেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে আসেন সাকিব। করোনাকালীন সময়ে সাকিব আল হাসান দেশে ফিরেই হোমকরেন্টাইন না গিয়ে সরাসরি হোটেল উদ্বোধন করলেন। ভারতে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য যখন বেনাপোলে যান তখন একভক্ত তার সঙ্গে ছবি তুলতে গেলে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হয়- মন্দিরে গিয়েও বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার পূর্জা করেছেন। এসব ঘটনার ব্যাখ্যাও অবশ্য দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। 

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব সম্প্রতি দেশে ফিরেই বেশকিছু বিতর্কমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। যদিও সাকিব এসব বিতর্কমূলক কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্গিক আখ্যায় দিয়ে ভক্তদের উদ্দেশে ক্ষমতাও চেয়েছেন।

নেটিজেনদের দুই মত

তার এ ক্ষমা প্রার্থনা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ এক পক্ষ মনে করে এভাবে ক্ষমা না চেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা উচিত ছিল তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘হত্যার হুমকির পর এ ছাড়া আর কী বা করার ছিল সাকিবের? জীবনের ঝুঁকি কে বা নিতে চায়’?

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নুর তুষার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘একদল বিশিষ্ট ফেসবুকজীবী খুবই ব্যস্ত হয়েছেন সাকিব এর সমালোচনায়? সাকিব কেন ক্ষমা চাইল? সে যদি মনে করে সে ক্ষমা চাইবে, আপনি তাকে না বলার কে’?

‘বরং নিজেদের প্রশ্ন করেন আপনারা কেমন সমাজ গড়েছেন যেখানে প্রকাশ্যে ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে রামদা উঁচিয়ে পৃথিবীর সেরা একজন খেলোয়াড়কে জীবনের হুমকি দেওয়া যায়? এখন দেশের ভাবমূর্তি কোথায় গেলো?....’।

এই পোস্টেই আনন্দ জামান নামে একজন লিখেছেন, ‘প্রশ্ন একটাই, এই ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যে সাকিব দেশের ধর্মান্ধদের আরও একধাপ এগিয়ে দিল কি না!’

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় মো. শামীম লিখেছেন, অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভাল না, সাকিবকে হত্যার হুমকি দেওয়াটা অনেক বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো, আবার সাকিব ও মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে হজ্ব করে হিন্দুদের মন্দিরে গিয়ে কোটি মুসলিমের মনে আঘাত দেওয়াটা ও বাড়াবাড়ি।’

আনসার আলী খান জয় লিখেছেন, ‘হত্যা বা ধর্ষণের আসামিকেই এত দ্রুত ধরা হয় না। যত দ্রুত এনাকে ধরা হয়েছে। সাকিব বলেই আইন আলাদা। অথচ সে দেশের আইন অমান্য করে কোয়ারেন্টিনে না থেকে অপরাধ করেনি? আইন শুধু অসহায়, দুর্বল প্রবাসীদের জন্য।’

নুরুল আবছার লিখেছেন, ‘সাকিব ভুল স্বীকার করাতে দেশের মানুষ ক্ষমা করে দিয়েছে, সাকিবের ও উচিৎ হত্যার হুমকি দাতাকে ক্ষমা করে বড় মনের পরিচয় দেওয়া’।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক অবশ্য সাকিব আল হাসানকে রামদা দেখিয়ে হুমকি দেয়ায় অভিযুক্ত মহসিন তালুকদারের ছবিসহ পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘ইনিই বাংলাদেশ, বাকি সব বোগাস’।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, সাকিব আল হাসান এমন কিছু করেননি যেটা নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক হতে পারে। তারপরেও তাকে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলতে হয়েছে বাংলাদেশের এখনকার বাস্তবতার কারণেই ।

`তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বাস্তবতা পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন ধর্ম নিয়ে একাডেমিক আলোচনাও করা যায় না। লক্ষ্য করে দেখুন গত কয়েক বছরে ধর্মীয় অনুভূতির নাম দিয়ে গণপিটুনি থেকে আরম্ভ করে মানুষ খুন সবকিছুই হয়েছে। অর্থাৎ একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে’।

তিনি বলেন, এসই কারণেই হয়তো সাকিব আল হাসান কোনো ঝুঁকি নেননি। তাই ভালো হোক মন্দ হোক তিনি ক্ষমা চেয়ে নিজেকে নিরাপদ করার চেষ্টা হয়তো করেছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এফএ/ এমকে

RTVPLUS