Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

চাকরি চাওয়ার কারণ জানালেন মমেকের সাবেক পরিচালক 

চাকরি চাওয়ার কারণ জানালেন মমেকের সাবেক পরিচালক 
ছবি: ফসবুক থেক

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসির উদ্দীন আহমেদ চাকরি চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। অবসর গ্রহণের এক বছর পর নতুন করে আবারও চাকরি করতে চান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। এতে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানান, পেট চালাতে নয়, বরং নিজেকে কর্মক্ষম রাখতে নতুন করে চাকরি শুরু করতে চান। এছাড়া তিনি রাজনীতিতে যুক্ত না হয়েও দেশসেবায় কাজ করে যেতে চান বলেও জানান। চাকরির জন্য ক্ষমতাবানদের দ্বারস্ত হতে চান না বলেও জানান তিনি।

আরটিভি নিউজের পাঠকদের জন্য (মমেক) হাসপাতালের সাবেক পরিচালকের স্ট্যাটাসগুলো তুলে ধরা হলো।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসির উদ্দীন আহমেদ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন শুভাকাঙ্ক্ষী। আজ ১ বছর ২ মাস ঘরে বসা। এলপিআর শেষ। সংসার ও নিজকে কর্মক্ষম রাখতে কিছু করা প্রয়োজন। নিজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করিনি। হালাল ও হারামের সংমিশ্রণে এ জীবন। মেডিকেল ও নন মেডিকেল যেকোনো সেক্টরে কোনো নিবেদিত ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান আমাকে বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে চাকরির সুযোগ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।’

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আরও একটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘শ্রদ্ধাভাজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া স্যারের অধীনে ঢাকা সিএমএইচে আধুনিকায়নের কাজে নিবেদিতভাবে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে রিটায়ারমেন্টের চারদিন আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর ৮ মাস ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। দুইজন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়েকে একা ঢাকা রাখা এবং অসুস্থ মাকে রেখে ময়মনসিংহে একা থাকতে হয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ এবং ক্ষমতাধর মানুষ তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। অবসরে আসার পর তারা যেখানেই সিভি দেই সেখানে নেগেটিভ ফিডব্যাক দেয় আমার সম্পর্কে।’

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও লিখেন, ‘আল্লাহ সব কিছু দেখছেন। তিনি সব কিছুর হিসাব নেবেন। আমি চাকরিজীবনে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে নানা অসুখে আক্রান্ত হয়েছি। আমি কারো আনুকূল্যে বাঁচতে চাই না। মানুষ হিসেবেই সহযোগিতা চাই। চাকরিজীবনে যেটা দেশের স্বার্থে প্রয়োজন তাই করেছি। পপুলার হতে চাইনি। কর্মীরা কাজ করেন, সংস্থাপ্রধানের সুফল পান। আমার বাবা দুইবার ‘৭৫ পর্যন্ত এমপি ছিলেন। সম্মুখে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন। চাকরিজীবনে এর কোনো সুবিধা নেননি। সব সরকারের আমলে প্রথমবার পদোন্নতি পেয়েছি। অবসরের পর এলপিআর শেষ হয়ে যাওয়ায় পর সংকটে পড়েছি। বর্তমানে ব্যাংকের লভ্যাংশ ৬%। যারা ব্যাংকে টাকা রাখেন তারা বোঝেন সংকট কী। আমি ব্যবসা বুঝি না। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরির নিবেদন করেছি। আল্লাহ চাইলে হবে- না চাইলে হবে না।’

‘আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হব না। রাজনীতি না করে এমপি না হয়েও দেশের জন্য কাজ করা যায়। যদিও আমি রাজনীতি সচেতন মানুষ। জাতির পিতার বর্তমান আওয়ামী লীগকে পছন্দ করি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। আমি জাতির জনককে শ্রদ্ধা করি ও উনার পরিবারের সবার মাগফিরাতের দোয়া করি’, যোগ করেন নাসির উদ্দীন আহমেদ।

সোমবার দিবাগত রাতে আরেকটি স্ট্যাটাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. নাসির উদ্দীন আহমেদ লিখেন, ‘আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী হতাশ হয়েছেন এ পোস্ট দেখে। আমার সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী এটা করা উচিত হয়েছে কি-না এটা নিয়ে তাদের ভাবনা।’

তিনি লিখেন, ‘আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কাজ করতে চাওয়া অপরাধ নয়। পেট চালানোর জন্য নয়। নিজকে কার্যক্ষম রাখতে চাওয়া অপরাধ নয়। হেলথ সেক্টরে অনেককেই জানি কেমন মানুষ তারা। যারা আমাকে ভালোবাসেন তারা আমাকে অবশ্যই পরামর্শ দেবেন। আপনাদের দোয়া ও শুভকামনা কাম্য। আমারও ভুল হয়। আমার কাছে যা ঠিক তা অন্যের কাছে নাও হতে পারে। আমি আমার লক্ষ্যকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’

সর্বশেষ বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.)নাসির উদ্দীন আহমেদ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরেকটি স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ফেসবুকে আমার নিজস্ব আইডি থেকে একটি চাকরির জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে নিবেদন করেছিলাম। কোনও সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করিনি- এটা প্রচার করার জন্য।’

তিনি লিখেন, ‘ভিন্নমতকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমি ৬০ বছর বয়সে কর্মক্ষম থেকে দেশের জন্য কিছু করতে চাওয়া আমার বিবেচনায় অন্যায় নয়। আমি আল্লাহর একজন গুনাহগার বান্দা। মর্যাদা তো পরকালে নির্ধারণ হবে। অলস বসে না থেকে কাজে ব্যস্ত থাকলে মন সজীব থাকে। আমার কোনও আগ্রহ নেই ক্ষমতাবান কারো দ্বারস্থ হওয়ার। চাকরিজীবনে হইনি।’

‘অসাধারণ; সাধারণ মানুষের মমতায় আমি অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি। গত চার দিন অসংখ্য কল, এসএমএস, ইমেইল এ মানুষের হৃদয়ের উষ্ণতা আমার অন্তরকে আলোড়িত করেছে। অশ্রু সংবরণ করতে পারিনি। মানুষের এত ভালবাসার ঋণ আমৃত্যু শোধ করতে পারব না। সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আমার জন্য আপনাদের অকৃত্রিম ভালবাসা আমার মতো নগন্য মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আল্লাহ আমাকে সবই দিয়েছেন যা পাওয়ার কোনো যোগ্যতা আমার ছিল না। মানুষের ভালোবাসা প্রাপ্তি আমার সব বেদনাকে মুছে দিয়ে আগামীর পথকে অনেক সহজ করে দিয়েছে’, লিখেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

ব্রিগেডিয়ার (অব.)নাসির উদ্দীন আহমেদ আরও লিখেন, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার কাছে পার্থিব জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই। আল্লাহ আমার মতো গুনাহগারকে অবশ্যই নিজ দয়ায় ইহকালে ও পরকালে নাজাত দিবেন- এ আশা ও শঙ্কা নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিব একদিন। সকলের দোয়াপ্রার্থী।’

এ বিষয়ে কথা বলতে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার মো. নাসির উদ্দীন আহমেদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে তা ব্যস্ত পাওয়া যায়।

এনএইচ/জেএইচ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS