• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
logo
বিরোধী দল কারা হবে, যা বললেন আইনমন্ত্রী
আপাতত শপথ নিচ্ছেন না জাপার সংসদ সদস্যরা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিতরা বুধবার (১০ জানুয়ারি) শপথ নিলেও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আপাতত শপথ নিচ্ছেন না। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাল (বুধবার) আমরা শপথ নিচ্ছি না। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জি এম কাদেরের অফিসে আমরা বৈঠকে বসব। বৈঠকে আলাপ-আলোচনার করে শপথের বিষয়টি ঠিক করা হবে। এদিকে,  বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্তমান সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, শপথগ্রহণের আগে আজ (মঙ্গলবার) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করতে হবে। শপথগ্রহণের পরই তিনি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলেও গণ্য হবেন। উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯৮টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ২২৫টি আসনে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৬১টি এবং জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতা।
বড় একটা দায়িত্বের মধ্যে প্রবেশ করলাম : ফেরদৌস
এবারের নির্বাচন ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের নির্বাচন যেভাবে দেখছে জাতিসংঘ
যেসব কারণে নির্বাচনে ধরাশায়ী মমতাজ
নির্বাচনে ধরাশায়ী, দীর্ঘ সময়ের নীরবতা শেষে মুখ খুললেন মাহি
অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এবারের নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসন থেকে ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। তবে জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী হলেও শেষ পর্যন্ত ৯ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন এই নায়িকা।   এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দীর্ঘসময় কারও সঙ্গে কথা বলেননি মাহি। এমনকি চিত্রনায়িকার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কল রিসিভ করেননি তিনি। অবশেষে দীর্ঘ সময়ের নিরবতা শেষে মুখ খুলেছেন মাহি। শুধু তাই নয়, তানোর-গোদাগাড়ীর উদ্দেশে নতুন বার্তাও দিয়েছেন এই নায়িকা। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুকে লাইভে এসে ভিডিও বার্তা দেন মাহি। এসময় প্রতিপক্ষের উদ্দেশেও কিছু কথা বলেন তিনি।  মাহি বলেন, আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। সবাই হয়তো ভাবছেন আমার প্রচণ্ড মন খারাপ। হ্যাঁ, নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় কিছুটা তো মন খারাপ। তবে অতোটা না। আর আমি প্রত্যেকটা পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। কারণ আমি জানি, নেগেটিভ কিছু হতেই পারে।    চিত্রনায়িকা বলেন, আমি আমার ইশতিহারে যে কথাগুলো বলেছিলাম যে, ঘরোয়াভাবে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি। এগুলো আমি বড় পরিসরে কতোটা করতে পারব সেটা জানি না। কারণ এই কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারিভাবে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া সম্ভব সেটা ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারাটা একটু চ্যালেঞ্জিং।    তারপরেও আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব করার চেষ্টা করব আমি। আমার তো ভীষণ ইচ্ছা ছিল এবং প্রতিশ্রুতিও ছিল যে, তানোর-গোদাগাড়ীর রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা নিয়ে। এখানকার রাস্তাঘাটের যে বেহাল অবস্থা। সারা দেশে যেখানে রাস্তাঘাট এতো উন্নত। বলা যায়, একদম বিদেশের মতো। সেখানে আমার তানোর-গোদাগাড়ীতে এখনও গরুর গাড়ি চালানোর মতো অবস্থায় আছে। এমনকি একটু বৃষ্টিতেই হাঁটু কাদা-পানি হয়ে যায়।    উন্নয়নমূলক কাজের কথা উল্লেখ করে মাহি বলেন, যিনি এমপি হয়েছেন, তার কাছে অনুরোধ—  তানোর-গোদাগাড়ীর রাস্তাঘাট এবং এই ভূমির পানির মটরের যে সমস্যা এই দুই বিষয়ে ফোকাস করে উন্নয়ন করার জন্য। গত ১৫ বছরে যেসকল উন্নয়নমূলক কাজগুলো আপনি করেন নাই। সেগুলো এই পাঁচ বছরে করবেন।  গত ১৫ বছরে আপনার যে জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছিল, সেটা যেন এই পাঁচ বছরে কাটিয়ে ওঠেন তিনি। তানা হলে আমি কিন্তু মাঠেই আছি। ইনশাআল্লাহ্‌, আমি পাঁচ বছর পর আপনার সঙ্গে আবারও নির্বাচনে দেখা হবে। আপনার তো জনপ্রিয়তা একদম জিরো। শুধু নৌকা প্রতীকের কারণেই জয়ী হয়েছেন আপনি। তাই আপনাদের খুশি হওয়ার এতো কারণ নেই।    প্রতিপক্ষের উদ্দেশে মাহি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আমার জন্য যে কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে এবং আমাকে উন্নয়নমূলক কাজ করতে সহায়তা করবে। তাদেরকে যদি আপনারা কোনো রকম বিরক্ত করেন, তাহলে আপনাদের সঙ্গে টক্কর দেয় যারা,  আমি কিন্তু তাদের মতো দুর্বল না।  আমার কর্মীদের যদি অল্প অপমানও করেন তাহলে তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে আমি নিজেই আপনাদের সঙ্গে লড়ব। প্রতিহত করব। যেই কর্মীরা এই নির্বাচনে আপনাদের বিপক্ষে গিয়ে আমার জন্য কাজ করেছে আমি তাদের জন্য জানও দিয়ে দিতে পারি। 
টাঙ্গাইলে জামানত হারালেন ৪০ প্রার্থী
টাঙ্গাইলে ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ৫৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ৫টিতে এবং স্বতন্ত্র ৩টিতে জয়লাভ করেছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৪০ জন প্রার্থীর। রোববার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম ৮টি আসনের প্রার্থীদের বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আনোয়ারুল হক ৪ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৩ প্রার্থীর। তারা হলেন স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আনোয়ারুল হক। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ১৭৮ ভোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) প্রতীকের প্রার্থী ফারুব আহাম্মেদ। তিনি পেয়েছেন এক হাজার ৭৪২ ভোট, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭৪ ভোট। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অনুপম শাজাহান জয় ৯৬ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের (গামছা) প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫০১ ভোট। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৪ প্রার্থীর। তারা হলেন জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম। তিনি পেয়েছেন ৪৬৯ ভোট, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেম। তিনি পেয়েছেন ২১৭ ভোট, তৃণমূল বিএনপি  (সোনালী আঁশ) প্রতীকের প্রার্থী পারুল। তিনি পেয়েছেন ৫৬৯ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা কামাল। তিনি পেয়েছেন ১০৯ ভোট। টাঙ্গাইলের আটটি আসনে ১২টি উপজেলার ১১টি পৌরসভা ও ১২০টি ইউনিয়ন এবং একটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ১ হাজার ৫৬টি কেন্দ্রের ৬ হাজার ৮১০টি ভোট কক্ষ রয়েছে। জেলার ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭২ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৩ আর নারী ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯ জন। এ ছাড়া ২০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
বিএনপি ও সমমনারা অংশ না নেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ যুক্তরাজ্যের
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো অংশ না নেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভে শুভেচ্ছা জানিয়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা সৃষ্টির জন্য নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।  লন্ডনের স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মত প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে এবং নির্বাচনের প্রচার চলাকালে সহিংসতা ও ভয়ভীতি দেখানোর কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাজ্য। রাজনীতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপরই গণতান্ত্রিক নির্বাচন নির্ভর করে উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, নির্বাচনে সব দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলে বাংলাদেশের মানুষের ভোট দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বিকল্প ছিল না। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়,  যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতা ও সুশীল সমাজের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলেই দীর্ঘ মেয়াদে দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সহনশীল হয়ে সমঝোতার দিকে ধাবিত হওয়া জরুরী।   এদিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে এবং ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিগমে ওয়াংচুক। এছাড়া সোমবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চীনা নেতাদের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার মান্টিটস্কি, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং পাকিস্তান, ভুটান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কারদূতরা।  
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলল যুক্তরাষ্ট্র
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ২২৫টি আসনে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৬১টি এবং জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। যদিও স্বতন্ত্রদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতা। এদিকে, ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রতিক্রিয়া জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের মতামত জানতে অনেকের আগ্রহ ছিল। অবশেষে সোমবার (৮ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। একইসঙ্গে নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতন্ত্র, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য করেছে, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধীদলের হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনের দিন অনিয়মের খবরে যুক্তরাষ্ট্র এখনও উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে একমত যে, এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না এবং নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ না করায় আমরা হতাশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনকালীন এবং এর আগের মাসগুলোতে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার নিন্দা জানাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এসব সহিংসতার গ্রহণযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে উৎসাহিত করছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সহিংসতা পরিহার করতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। মিলার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো–প্যাসিফিক) অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও নাগরিক সমাজের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চিকিৎসক থেকে এমপি হলেন যারা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ জন চিকিৎসক সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন একজন। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত চিকিৎসকরা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী চাঁদপুর-৩ আসনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, নরসিংদী-২ আসনে ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর (লিপি), কুমিল্লা-৭ আসনে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, সাতক্ষীরা-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বগুড়া-৭ আসনে ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, নাটোর-৪ আসনে ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, যশোর-২ আসনে ডা. মো. তৌহিদুজ্জামান তুহিন, মেহেরপুর-২ আসনে ডা. আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনে ডা. হামিদুল হক খন্দকার। প্রসঙ্গত, রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। এরপর সোমবার  (৮ জানুয়ারি)  মধ্যরাতে একে একে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
নিজের ২ প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর মুখ খুললেন জাহাঙ্গীর 
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থন পাওয়া দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। তারা হলেন গাজীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেল এবং গাজীপুর-২ আসনের কাজী আলীম উদ্দিন। তবে গাজীপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান প্রায় ১৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আরও পড়ুন : সাতক্ষীরার ৩০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ২৩ জন   নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের হেরে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আমি হারিনি, হেরেছেন তারা (গাজীপুর-১ আসনের নৌকার প্রার্থী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও গাজীপুর-২ আসনের জাহিদ আহসান রাসেল জয় পেয়েছেন)। তারা আওয়ামী লীগকে দুর্বল করেছেন। দুই মন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল, আওয়ামী লীগের লোকজন ২ লাখ ভোট তাদের বিপক্ষে দিয়েছে। ২০১৮ সালের ভোটে আ ক ম মোজাম্মেল পাইছিলেন প্রায় ৪ লাখ ভোট। এ বছর পাইছেন ১ লাখ ভোট। তাহলে আওয়ামী লীগের ৩ লাখ ভোট তার থেকে সরে গেছে। জাহিদ আহসান রাসেল পাইছিলেন পৌনে ৫ লাখ ভোট। এবার ৩ লাখ ভোট ছুইটা গেছে। তার মানে দেখেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর ভোট আওয়ামী লীগ থেকে ছুটে গেছে। আরও পড়ুন : শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য জনগণকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের অভিনন্দন   জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি চারটি আসনের প্রার্থীর পক্ষে ছিলাম। সেখানে দুজন প্রার্থী হেরেছেন, কিন্তু অন্য দুজন জিতেছেন। আমি সিমিন হোসেন রিমির (গাজীপুর-৪) পক্ষেও ছিলাম। শুধু রেজাউল ও আলীম উদ্দিন হারছেন। মন্ত্রী হওয়ার পর ভোট কমছে, এর মানে হলো তারা এলাকায় সুশাসন দেননি, নেতাদের মূল্যায়ন করেননি। ক্ষমতায় থাকার পর ভোট কমে কীভাবে? এটা প্রমাণের জন্য ভোটে স্বতন্ত্রদের সাপোর্ট দিয়েছি আমি। নির্বাচনে যে অবস্থান নিয়েছেন, সে জন্য চাপের মুখে পড়তে পারেন কি না জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তারা আগেও আমার ক্ষতি করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন; তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আওয়ামী লীগ করে আসছি। দুঃসময়েও আওয়ামী লীগ করি আমি।’
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে যে ২ আসনে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে। এই আসনে ভোট পড়েছে ৮৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে ঢাকা-১৫ আসনে। এই আসনে ভোটের হার ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গড় ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ৮০ শতাংশ।  ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে দুই লাখ ৯০ হাজার ২৯৭ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার ২৪৭ ভোট। ভোটের হার ৮৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির এম নিজাম উদ্দিন লস্কর পেয়েছেন ৪৬৯ ভোট। ঢাকা-১৫ আসনে তিন লাখ ৪৪ হাজার ৫০৭টি ভোটের মধ্যে পড়েছে ৪৪ হাজার ৯৩৬ ভোট। ভোটের হার ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এ আসনে আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৬৩২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির শামসুল হক পেয়েছেন দুই হাজার ৪৪ ভোট। নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ৮০টি আসনে ভোট পড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনে তুলনামূলক ভোট কম পড়েছে। রাজধানীর আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ঢাকা-১২ আসনে। এ আসনে ভোট পড়েছে ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ। এ আসন থেকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে ঢাকা-৫ আসনে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান মোল্লা সজল ৫০ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের হারুনর রশিদ মুন্না পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩৩৪ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র ২৯৭ ভোট।