• ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

রাজশাহীর উন্নয়নে বাদশার মহাপরিকল্পনা

রাজশাহী প্রতিনিধি
|  ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১৩ | আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৪৯
রাজশাহী সদর আসনে মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীর উন্নয়নে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

whirpool
শনিবার দুপুরে নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তিনি এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ইশতেহার পড়ে শোনান।

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে ৪৪ দফা অঙ্গীকার করেন মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা।

ইশতেহারের প্রথমেই ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের জন্য তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে রাজশাহীতে হাইটেক পার্কও নির্মাণ করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করা এবং শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কল-কারখানায় দ্রুত গ্যাস সংযোগ এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ।

ইশতেহারে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, রাজশাহী রেশম কারখানা পুরোপুরি চালু এবং রাজশাহী টেক্সটাইল মিলের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

এসময় বাদশা বলেন, এবারও তারা সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম ছয় মাসের মধ্যে ইশতেহারের প্রতিটি বিষয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির(একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে।

ঘোষিত ইশতেহারে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে রাজশাহী বিমানবন্দরটিকে কার্গো ও রফতানি প্রক্রিয়াকরণ সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করা, রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু, রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন ও বিমান সার্ভিস চালু, ঢাকা-রাজশাহী একাধিক বিরতিহীন ট্রেন চালু, রাজশাহীর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি জাতীয় মহাসড়ককে ৪ ও ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা এসেছে।

এতে রাজশাহীর কাঁচাবাজারগুলোর উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কশাইখানা স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহী থেকে সরাসরি হজফ্লাইট চালু এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য কৃষি আদালত স্থাপনের দাবি বাস্তবায়ন এবং শস্যবীমা চালু করতে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

মহানগরীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের আবাসিক ও নিরাপত্তার সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়ন করে শিশুশিক্ষা ও ভর্তি সমস্যার সমাধান এবং বিগত ১০ বছরে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আগামীতেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য এ শহরে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার জন্য সার্টিফিকেট কোর্স চালুরও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী সদরের টানা দুইবারের সংসদ সদস্য বাদশা এবার তার নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা এবং শহর রক্ষাবাঁধ সংস্কারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের ইচ্ছার কথা বলেছেন।

বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য এখানে গড়ে তুলতে চেয়েছেন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা, পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপন, রাজশাহী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য তিনি রাজশাহীতে আধুনিকমানের একটি আর্কাইভ ও জাদুঘর স্থাপন করতে চেয়েছেন। এর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরতে চেয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আজকে যিনি সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী, তিনি ১৭ বছর মেয়র এবং এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালে আমি যখন মেয়র নির্বাচিত হই তখন সিটি করপোরেশনে গিয়ে দেখি, তিনি সব জায়গায় অনিয়ম-দুর্নীতি আর বিশৃঙ্খলা করে গেছেন। সেই জায়গা থেকে এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সহাযোগিতায় সিটি করপোরেশনকে উন্নয়নের আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। এখন আমি মেয়র। এমপি বাদশা আবার নির্বাচিত হলে আমরা দুজনে মিলেই তার ইশতেহার বাস্তবায়ন করব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোজাফফর হোসেন, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম প্রমুখ।

আরও পড়ুন :

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়