logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

অনেক উন্নয়নের কথা বলছে সরকার কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন: ফখরুল

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৭ মে ২০১৯, ২৩:২৩ | আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ২৩:৫৪
ছবি-সংগৃহীত
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার অনেক উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। সন্তানকে ঈদের কাপড় কিনে দিতে না পেরে মা আত্মহত্যা করেছে। একজন তার সন্তানকে লিচু কিনে দিতে পারেনি, বাচ্চা কাঁদতে শুরু করায় সে বাচ্চাকেই হত্যা করেছে- এরকমভাবে সামাজিক সব মূল্যবোধ ভেঙে পড়ছে। সবখানে অস্বস্তিকর ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

bestelectronics
সোমবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে- একাংশ) আয়োজিত ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করছে। তারা আর যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একটার পর একটা পত্রিকা বন্ধ করেছে, টিভি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে, অসংখ্য সাংবাদিকরা চাকরিচ্যুত  হয়েছেন। অনলাইনগুলোও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার মধ্যে দিয়ে যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অর্জন করেছিলাম, যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছিল, তা একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে এই সরকার দলীয়করণ করেছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে। সম্পূর্ণ অর্থনীতির ওপর তারা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানে সবসময় গণতন্ত্রের মাতা, গণতন্ত্রের জন্য যিনি সারাজীবন লড়াই করে গেছেন, এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, ওনাকে প্রায় পনেরো মাস ধরে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। সুচিকিৎসার সুযোগটাও তিনি পাচ্ছেন না। এই রমজান মাসেও তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে, যা ওনার প্রাপ্য নয়।

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো আবশ্যক মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যের স্বার্থে, কোনও দলমতের কথা চিন্তা না করে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দেশকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই। নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাই।

ইফতারে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফাসহ আরও অনেকে।

ইফতারে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিন, নুরুল হুদা, এম এ আজিজ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, আব্দুস শহিদ, আবদুল হাই শিকদার, আবু সালেহ, হাসান হাফিজ, বাকের হোসাইন, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মোদাব্বের হোসেন, বাছির জামাল, শাহিন হাসনাত, আনোয়ারুল কবির বুলু, শফিউল আলম দোলন, মোরসালিন নোমানী, মো. দিদারুল আলম, দেওয়ান মাসুদাসহ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়