Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সব বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করে শর্ত ভেঙেছে অপারেটররা

সব বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করে শর্ত ভেঙেছে অপারেটররা

বিবিসি-সিএনএনসহ ১৭টি বিদেশি চ্যানেল বিজ্ঞাপনবিহীন বা 'ক্লিন ফিড' পাঠালেও দেশে সম্প্রচার করা হয়নি। 'ক্লিন ফিড' পাঠানো সত্বেও সেগুলো বন্ধ রেখে শর্ত ভঙ্গ করেছেন কেবল অপারেটররা। এজন্য তারা শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তবে কেবল অপারেটররা বলছেন, যে চ্যানেলগুলো ক্লিন ফিড দেয় সরকার সেগুলোর তালিকা সরবরাহ করলে তারা সেগুলো সম্প্রচার করবে।

বিজ্ঞাপনসহ বিদেশি চ্যানেল দেশে সম্প্রচার বন্ধের জন্য সরকার নির্দেশনা দেওয়ায় গত শুক্রবার থেকে সব বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছেন কেবল অপারেটররা।

তথ্যমন্ত্রী বলছেন, বিদেশি চ্যানেল বিবিসি, সিএনএন আল-জাজিরা, এনএইচকে, ফ্রান্স টিভি, রাশিয়ান টিভি, ইউরো টিভিসহ ১৭টি চ্যানেলে ক্লিন ফিড আসে। কিন্তু সেগুলো অনেকে চালাচ্ছেন না, যেটা কেবল অপারেটর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। সুতরাং কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে সেই শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, যেসব চ্যানেল 'ক্লিন ফিড' পাঠায় না, তাদের এখানে এজেন্ট আছে।দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট চ্যানেল এবং এজেন্টের। কেবল অপারেটরের যে পুরোপুরি দায়িত্ব তা নয়। কিন্তু কোনো কোনো কেবল অপারেটর এজেন্টদের কে পাশ কাটিয়ে স্যাটেলাইট থেকে পাইরেসি করে ডাউনলিংক করে। এজেন্ট ডাউনলিংকের অনুমোদনপ্রাপ্ত। কিন্তু কেবল অপারেটরদের যদি পারমিশন না থাকে তাহলে ডাউনলিংক করতে পারবে না। তারা যেটা করে সেটা পাইরেসি এবং আইনবর্হিভূত।

কেবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াবের একাংশ যে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে, সেটাকেও "আইন বহির্ভূত" বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী।

গতকাল শনিবার ক্যাবল অপারেটরস সমন্বয় কমিটি নামে কোয়াবের একটা অংশের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ মোশারফ আলী, চার দফা দাবি জানিয়ে একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। সেখানে বলা হয়, চৌঠা অক্টোবরের মধ্যে কেবল টিভি নিয়ে জটিলতার অবসান না হলে সমগ্র বাংলাদেশের ক্যাবল অপারেটরদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তারা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব চ্যানেল দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে এবং সংস্কৃতিকে চোখ রাঙাচ্ছে সেগুলোর পক্ষে ওকালতি করা দেশের স্বার্থবিরোধী, আইন বিরোধী। আমি আশা করবো কেউ দেশের স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হবেন না।

"সরকার কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না"। তবে সমস্যা সমাধানে আলোচনার পথ খোলা আছে বলে উল্লেখ করেন মি. মাহমুদ। কেবল অপারেটরদের

সংগঠন কোয়াব কী বলছে:

কোয়াবের নেতা আনোয়ার পারভেজ বলেন, সরকার যদি ক্লিন ফিড দেয় এমন চ্যানেলের একটি তালিকা দেয় তাহলে তারা সেগুলো চালু রাখবে।

তিনি বলেন, একটা বিদেশি চ্যানেলে হঠাৎ করে একটা হোটেলের বিজ্ঞাপন যদি দেখায় বা এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞাপন দেখায় এবং মুহূর্তের মধ্যে যদি মোবাইল কোর্ট আসে, তাহলে তো সব দায় আমার নিতে হবে। তাই ভালো হয় সরকার যদি আমাদের একটা তালিকা দেয় তাহলে আমরা নিশ্চিন্তে ঐ চ্যানেলগুলো চালাতে পারি।

কোয়াব বলছে এই জটিলতা কাটানোর জন্য যখন সরকার আমাদের আলোচনার জন্য ডাকবে তখনি আমরা আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত আছি।

আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে মি.পারভেজ বলেন, অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের একাংশের এই ঘোষণার মূল অংশের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।

কেবল অপারেটরস সমন্বয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ মোশারফ আলী জানান, তারা তাদের দাবি নিয়ে রোববার(৩ অক্টোবর)সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা মন্ত্রী বরাবর একটি চিঠিও লিখেছেন।সূত্র: বিবিসি বাংলা

তিনি বলেন, ক্লিন ফিডের বিষয়টা ব্রডকাস্টার এবং লোকাল ডিস্ট্রিবিউটরদের উপর নির্ভর করে। 'ক্লিন ফিড' আনার বিষয়টাতে সময় লাগবে। আমারা চিঠিতে সময় চেয়েছি এবং বলেছি সব চ্যানেল উন্মুক্ত করে দিতে।

এফএ/এসকে

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS