Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

আজ সাংবাদিক নির্মল সেনের ৯১তম জন্মদিন

সাংবাদিক নির্মল সেন
সাংবাদিক নির্মল সেন (ফাইল ছবি)

বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা, মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক নির্মল সেনের ৯১তম জন্মদিন আজ (মঙ্গলবার)। ১৯৩০ সালের (৩ আগস্ট) এই দিনে তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। মায়ের নাম লাবণ্যপ্রভা সেনগুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম। নির্মল সেনের বাবা সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত কোটালীপাড়ার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইন্সটিটিউশনের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। এর আগে সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ঢাকার ইস্ট বেঙ্গল ইন্সটিটিউটে শিক্ষকতা করতেন।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরে নির্মল সেনের বাবা-মা অন্য ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসার কারণে তিনি এদেশে থেকে যান। নির্মল সেন বড় হয়েছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়িতে। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। পিসির বাড়িতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে এক বছর লেখাপড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও মাস্টার্স পাস করেন।

নির্মল সেনের স্কুলজীবনে কলসকাঠি বিএম একাডেমি পড়াকালীন ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। কলেজ জীবনে তিনি অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্বে দেন এবং পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।

১৯৬১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে ১০ বছর অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

তার লেখা ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ’, ‘মানুষ সমাজ রাষ্ট্র’, ‘বার্লিন থেকে মস্কো’, ‘মা জন্মভূমি’, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, ‘আমার জীবনে ৭১ এর যুদ্ধ’, ‘আমার জবানবন্দী’ উল্লেখযোগ্য।

নির্মল সেন ২০০৩ সালের ১০ অক্টোবর ব্রেইনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর দেশে বিদেশে অনেক চিকিৎসার পরে ২০১৩ সালে ৮ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নির্মল সেনের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা হয়েছে।

নির্মল সেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান বুলু বলেন, কঠোর লকডাউন থাকার কারণে এ বছর আমরা প্রথিতযশা সাংবাদিক নির্মল সেনের জন্মদিন পালন করছি না। তবে ছোট পরিসরে পারিবারিকভাবে তার জন্মদিন পালন করা হবে।

পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS