logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ৬ বৈশাখ ১৪২৮

করোনা আক্রান্তের পর যেসব শারীরিক-মানসিক সমস্যা হতে পারে

ফাইল ছবি।

করোনার প্রকোপে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সেই সাথে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে তার রূপ। ভাইরাসটি শরীরে সংক্রমণের ফলে তৈরি হচ্ছে স্বল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদি নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা।

ভাইরাসটিতে আক্রান্তদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, ডিমেনশিয়া, সাইকোসিস এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটিই দেখা গেছে গত ছয় মাসে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায়।

এর আগে যারা কোভিড আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে মানসিক এবং মস্তিস্কের নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কিন্তু যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল কিংবা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।

ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ লাখের বেশি রোগীর ইলেকট্রনিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, কোভিড আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ব্রেইন হেমোরেজ, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া, সাইকোসিস, মুড ডিসঅর্ডার ও উদ্বেগ জাতীয় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মানসিক অবসাদ এবং যে কোনো কিছু নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হবার মতো বিষয়গুলো কোভিড ১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, কোভিড আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল তাদের ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ, অস্বস্তি এবং ভয় তৈরি হয়।

অন্যদিকে স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির বিষয়টি নির্ভর করছে ভাইরাসের প্রতি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তার উপর।

যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ১৬ শতাংশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

যেসব কোভিড আক্রান্ত রোগীর অবস্থা যত বেশি খারাপ ছিল তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে মানসিক সমস্যা এবং ব্রেইন ডিসঅর্ডার তত বেশি তৈরি হয়েছে।

সাধারণভাবে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের ২৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। আর যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে এটি ২৫ শতাংশ।

কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে ২ শতাংশ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু যারা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৭ শতাংশ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ০.৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া দেখা দিয়েছে।

আর যাদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই মস্তিষ্ক-জনিত সমস্যা ছিল তাদের মধ্যে ৫ শতাংশ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

আলঝেইমার্স রিসার্চ ইউকে'র প্রধান গবেষক ড. সারা ইমারিসিয়ো বলেন, আগের গবেষণাগুলোতে দেখার চেষ্টা হয়েছিল যে যারা আলঝেইমার্স রোগে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে কোভিড রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেন।

সবশেষ এই গবেষণায় দেখার চেষ্টা হয়েছে যে এটি উল্টোভাবে হয় কিনা। অর্থাৎ কোভিড আক্রান্ত হবার পরে আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি বাড়ে কিনা।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোলজির অধ্যাপক মাসুদ হোসেইন বলেন, এমন প্রমাণ রয়েছে যে করোনাভাইরাস সরাসরি মস্তিষ্কে ঢোকে এবং ক্ষতি করে।

এর পরোক্ষ প্রভাবও থাকতে পারে। যেমন রক্ত জমাট বাঁধা, যার ফলে স্ট্রোক হতে পারে।

লন্ডনের কিংস কলেজের ইন্সটিটিউট অব সাইকিয়াট্রি, সাইকোলজি এন্ড নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক ডেইম টিল ওয়াইকেস বলেন, আমাদের সন্দেহ ছিল কোভিড১৯ শুধু শ্বাসতন্ত্র জনিত সমস্যা নয়। এই রোগ মানসিক এবং মস্তিষ্কের সাথে সম্পর্কযুক্ত। নতুন গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরএস/এম

RTV Drama
RTVPLUS